আইভিএফ নিয়ে আপনার আগ্রহের শুরুটা জানতে চাই। এ বিষয়ে কাজের অনুপ্রেরণা পেলেন কীভাবে?

গাইনোকোলজির একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ইনফার্টিলিটি। আমি যখন এমবিবিএস পাস করি, তখন ইনফার্টিলিটির আধুনিক চিকিৎসা সবেমাত্র বিশ্বে শুরু হয়েছে। আমি পাস করেছি ১৯৭৫ সালে। ১৯৭৮ সালে প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম। এটি আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা যখন পোস্টগ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষার পার্ট-২ তে তখন এক পাকিস্তানি শিক্ষক এসেছিলেন পরীক্ষা নিতে—অধ্যাপক রাশেদ লতিফ খান। তিনি পাকিস্তানে টেস্টটিউব চিকিৎসার পথিকৃৎ। তার অভিজ্ঞতাগুলো শুনে আমিও সিদ্ধান্ত নিলাম এ বিষয়ে কাজ করার। যদিও আমার মেডিকেল শিক্ষা জীবনে এ বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা ছিল না। খুবই সামান্য ধারণা ছিল। এরপর ১৯৯৬ সালে ড্যান্ডিতে যখন মেডিকেল শিক্ষার জন্য যাই সেখানেও দেখেছি তারা কীভাবে আইভিএফ চিকিৎসা দেয়। সেখানকার আইভিএফ সেন্টারের লোকজন আমাদের অনেক কিছু দেখিয়েছে, অবশ্য তখন আমরা কিছুই বুঝিনি। আমাদের একটি অ্যাসাইনমেন্ট ছিল লাইফ লং লার্নিং নিয়ে। আমি এআরটি নিয়ে লিখলাম। তখন আমার শিক্ষক এটির খুবই প্রশংসা করলেন। এটিও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। যেহেতু আমার লেখাটা ভালো হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা করলাম কাজ করলেও সম্ভবত ভালো করতে পারব।

সে সময় আমার এক আত্মীয় এম্ব্রায়োলজি কোর্স (ভ্রূণবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ) করতে গেল নটিংহামে। লন্ডনে তার সঙ্গে আমার দেখা হলো। ওকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি যে এম্ব্রায়োলজি করছ, তোমার গাইনোকোলজিস্ট কে? সে বলল আপনি করবেন। তার পর থেকে শুরু করলাম এ কাজ। তার এক বন্ধু ছিল পাকিস্তানের। সেখানে আমাকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিল। আমি তখন লাহোরেও এ প্রশিক্ষণ নিই। এ সময় আমার রাশেদ লতিফ স্যারের সঙ্গে দেখা হয়। এক মাসের প্রশিক্ষণটি ছিল আমার এ কাজের প্রাথমিক যাত্রা। তারপর আমি ইংল্যান্ড থেকে এম্ব্রায়োলজিতে মাস্টার্স কোর্সটা করলাম। সবকিছু ভালোভাবে জানতে হলে যথেষ্ট পড়াশোনা বা জ্ঞান রাখতে হবে। অনেকে এটাকে হালকা মনে করেন, এটা ঠিক না। ড্যান্ডির কোর্সটা এসব ব্যাপারে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ইনফার্টিলিটিতে ডিসট্যান্স লার্নিংয়ের ওপর। কোনো কোর্সের জন্য পিএইচডি কিংবা মাস্টার্স যাই হোক, ছোট দুটি মেয়েকে রেখে বাইরে কীভাবে যাব, খুব চিন্তা হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে আমি লিডস ইউনিভার্সিটিতে ডিসট্যান্স লার্নিংয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে গেলাম। একটা অংশ অনলাইন আরেকটা অংশ সরাসরি সেখানে গিয়ে ক্লাস করতে হয়েছে। এ কোর্সে দারুণ একটা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন হয়েছে আমার। সেটি হলো অনেক তথ্য জানার পাশাপাশি ল্যাবে কীভাবে কাজ করতে হয়, কতটুকু সময় ব্যয় হয় সেটি জানতে পেরেছি। কারণ ল্যাবের কাজটি তো অন্য কেউ করবে, সে ঠিকমতো করল কিনা সেসব বিষয় বুঝতে হলে অনেক কিছু জানা প্রয়োজন। এখন আমার এম্ব্রায়োলজিস্ট আমাকে কোনোভাবেই ধোঁকা দিতে পারবে না, আমি সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলব। অর্থাৎ ল্যাবে কী হচ্ছে না হচ্ছে এটি আমাকে জানতে হবে, তাই এম্ব্রায়োলজির কোর্সটি করে নিলাম।

যাই হোক পরবর্তী সময়ে আমার আত্মীয়ের সঙ্গে আর কাজ করা হলো না। পরে আমি আমার হাজবেন্ড ও দুজন ডাক্তারকে শেখালাম, পাশাপাশি একজন নন মেডিকেলকেও এম্ব্রায়োলজির কাজ শেখালাম।

টেস্টটিউব বেবি নেয়ার দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি আইভিএফ আর অন্যটি ইকসি। আমার প্রতিষ্ঠানে এসব কাজ আমিই শুরু করেছি। ১৫ বছর ধরে ইকসি আমি করেছি। এর মধ্যেই অনেককে শিখিয়েছি। এম্ব্রায়োলজিস্ট তৈরি করা অনেক কঠিন কাজ। যাই হোক শেষ পর্যন্ত একজনকে তৈরি করতে পেরেছি যে পুরো সময় ল্যাবে দিতে পারে। ২০১৮ সাল থেকে সে একা একাই কাজ করে। এখন আর আমার ল্যাবে যেতে হয় না। এটিই হলো আমার এ বিষয়ে কাজ করার সুদীর্ঘ যাত্রা।

আমাদের ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেডের (আইসিআরসি) যাত্রা ২০০২ সালে, একটি ভাড়া বাসায়। প্রাথমিক অবস্থায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কীভাবে আমার প্রতিষ্ঠানটি সাজাব, কীভাবে আবহ তৈরি করতে হয় এসব কিছুই তখন বুঝিনি। সিঙ্গাপুরে একটি ওয়ার্কশপে গেলে সেখান থেকে অনেক ধারণা পাওয়া যায়। এখানে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে গিয়ে কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক বা স্যালাইন বানানোর রুমটি তৈরি করে তার একটা ধারণা চাইলাম। তারা একজনার খোঁজ দিলে সে আমাকে ল্যাবটি তৈরি করে দেয়। ২০০৪ থেকে ২০০৬-এর মধ্যে ইংল্যান্ড থেকে মাস্টার্স কোর্সটি করে বিষয়গুলো আরো পরিষ্কার হয়ে যায়। আমার প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি যে কী পরিমাণ শ্রম দিয়েছি, আমার আশেপাশে যারা ছিলেন শুধু তারাই বলতে পারবেন। আমার বড় ভাই সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছেন। যেহেতু অর্থের সংকট নেই তাই সবচেয়ে ভালো যন্ত্রপাতি কিনেছি। যাতে সর্বোচ্চ সেবা দেয়া যায়। এভাবে চলতে চলতে এ অবস্থায় পৌঁছেছি।

আপনাদের ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে কী ধরনের সেবা দেয়া হয় সে বিষয়ে জানতে চাই।

টেস্টটিউবের একটা লম্বা প্রসিডিউর আছে। আইভিএফ, ইকসি। কেউ কেউ শুধু আইভিএফ করে, ইকসি করে না। তবে বেশির ভাগই ইকসিসহ করতে বাধ্য, কারণ মেইল ফ্যাক্টর ইনফার্টিলিটি যেটা আছে সেটার জন্য ইকসি জরুরি। এটার অ্যাডভান্স টেকনোলজি আছে- অ্যাজোসফার্মিয়া, যাদের স্পার্ম পাওয়া যায় না কিন্তু মাইক্রোস্কোপে চেক করলে পাওয়া যায়। আর ইম্যাচিওর স্পার্ম পাওয়া যায়। এদের ক্ষেত্রে ম্যাচিওর স্পার্ম তৈরি হওয়ার ফাইনাল স্টেজে যেতে পারে না। স্পার্মের রাউন্ড শেপটা শুধু আসে। এটা ইনজেক্ট করলেও প্রেগন্যান্সি সম্ভব। এটা আমরা করার চেষ্টা করছি যদিও টেকনিক্যালি কঠিন। সাকসেস রেট কম এবং খরচটাও বেশি। জাপানের একটা সেন্টারে করা হয় বেশি, সেখানেও সাকসেস রেট ১০ শতাংশ। এটা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন টেকনিকের প্রি-ইমপ্ল্যান্টেশন জেনেটিক টেস্টিং, যেখানে ভ্রূণের ত্রুটি আছে কিনা পরীক্ষা করা হয়, সেটাও আনার চেষ্টা করছি।

টিস্যু ফ্রিজিংয়ের একটা ব্যাপার থাকে, সেটা করা হয়। কেমোথেরাপি দেয়া হলে অনেকের স্পার্ম, ওভাম তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। কেমো দেয়ার আগে যদি সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয় তাহলে এগুলো দিয়ে রিপ্রোডাকশন করা যায়। বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে এম্ব্রায়ো ও অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে ওভাম ও ওভারিয়ান টিস্যু ফ্রিজ করে রাখা যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে স্পার্ম ও টেস্টিকুলার টিস্যুও ফ্রিজ করে রাখা যায়। এ কাজগুলো আমরা করছি। এ প্রসিডিউরগুলোর সবগুলো একমাত্র আমরাই করছি।

বাংলাদেশে এমন রোগীদের সংখ্যা, তাদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যদি বলেন।

আগের তুলনায় মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। আমরা যখন শুরু করলাম তখন রোগীরা নানা ধরনের নেতিবাচক মনোভাবের মধ্য দিয়ে যেত। মানে তারা বিশ্বাস করতে পারত না যে তাদের অংশ দিয়েই কাজটা হচ্ছে। তখন আমি চেম্বারে নানা লিফলেট দিয়ে বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করতাম। এমনকি ব্যপারটা যে ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্যে থেকে করা হয় সেটাও। আর তাদের প্রশ্নটা অমূলক কিছু ছিল না। ডোনারিজমের একটা ব্যাপার তো আছে, ধর্মীয় বাধা যাদের নেই তারা করে এটা, এমনকি যাদের আছে তারাও করে যদি পেশেন্ট খুব করে চায়, তাই মানুষের সন্দেহ থাকেই। কিন্তু ইদানীং এটা অনেক কমে গেছে। আর কেউ জানতে চাইলে তাদের বুঝিয়ে দিলে তারা বুঝতে পারেন।

এখন সমস্যা হলো খরচ। একজন স্বল্প আয়ের মানুষও সন্তান চায় কিন্তু এখানে যে খরচটা হয় সেটা দেয়ার মতো সামর্থ্য থাকে না। আমরা খরচের কথা ও সাকসেস রেট তাদের জানাই। পুরুষের সমস্যার ব্যাপারে একটা বিষয় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের স্ত্রীরা খুব কম বয়েসী থাকে। তাদের তেমন কোনো সমস্যা থাকে না। তো সম্ভাবনা যদি ভালো থাকে সেখানে আমরা যথাসম্ভব হেল্প করার চেষ্টা করি। তাদের যেটুকু যা থাকে তাই দিয়ে কাজটা করার চেষ্টা করি। এতে আবার অন্য অনেকে চলে এসে বলে, ম্যাডাম আপনি তো অনেক হেল্প করেন। হয়তো হওয়ার সম্ভাবনা নেই কিন্তু সাহায্য পাওয়া যাবে শুনে চলে আসে। অনেকে আবার আসে যাদের কোনো খরচ দেয়ার মতো অবস্থা থাকে না। সেখানে তো আসলে পুরোপুরি হেল্প করার সুযোগ থাকে না।

বাংলাদেশে রোগীদের সমস্যার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ পর্যবেক্ষণ আছে আপনার?

দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ে যে নারীরা আসছেন তাদের ডিম্বাণুর সংখ্যা অনেক কম। গত দশ বছরের তুলনা যদি করি, ধারাবাহিকভাবে ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রত্যেক নারীর ডিম্বাণুর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকে। এটা শারীরিক নিয়মানুসারে প্রতিদিন কিছু কিছু করে কমতে থাকে। আর অন্যান্য কারণ যেমন ক্যান্সারের জন্য, কেমো বা রেডিওথেরাপিতে কিছু পরিমাণে নষ্ট হয়। কিন্তু কমে যাওয়ার যে সামষ্টিক ব্যাপার সেটার আসল কারণ পরিবেশ দূষণ। গ্যামেট নষ্ট করে এমন অনেক উপাদান এখন আমাদের পরিবেশে আছে। বাতাস, খাবার, পানি সবকিছুই এখানে প্রভাব ফেলছে। এখন কে কোন জায়গা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটা বোঝা কঠিন। এমনকি মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায়, সে মা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার মেয়েরও ক্ষতিটা বয়ে বেড়ানোর আশঙ্কা থাকে। কারণ হেভি মেটাল শরীরে অনেকদিন থাকে। শুধু মেয়েদের কেন, ছেলেদের স্পার্ম কাউন্ট কমে যাচ্ছে।

মাস লেভেলে কি এখন সংস্কার কেটে গেছে?

হ্যাঁ, সেটা অনেক কমে গেছে। একটা ঘটনা বলি। প্রথমদিকে এক পেশেন্টের দেখা গেল তার হাজবেন্ডের অ্যাজোসফার্মিয়ার সমস্যা। কিন্তু সে নারী বলল এটা যেন জানানো না হয় যে সমস্যাটা তার হাজবেন্ডের। বরং বলতে বলা হলো যে সমস্যাটা তার। কিন্তু এখন দেখা যায় মেয়েরা জানতে চায় সমস্যাটা তার, নাকি তার হাজবেন্ডের। সমস্যা যদি হাজবেন্ডের হয় তাহলে তারা কিছুটা স্বস্তিবোধ করে। কারণ অনেকদিন ধরে একটা বিষয় চলে আসছে যে সন্তান না হওয়ার বিষয়টা স্ত্রীর দোষ। মেয়েটা শ্বশুরবাড়িতে চাপের মধ্যে থাকে। সমস্যা যদি দেখা যায় হাজবেন্ডের তাহলে সে চাপটা থেকে মুক্ত হয়।

আর মাস লেভেলের কথা যদি বলেন, কুষ্টিয়ার এক পেশেন্ট ছিল। তাকে মাত্র হাজার পঞ্চাশেক টাকায় করে দিয়েছিলাম। সে একজন নিম্নবিত্ত মানুষ, তার পক্ষে অনেক টাকা খরচ করা সম্ভব ছিল না কিন্তু সে এসেছিল। আর সন্তান হওয়ার পর প্রতিবার আসার সময় কোনো সবজি, চালের গুঁড়া, গুড় এসব নিয়ে আসত। এ রকম প্রান্তিক মানুষেরা এখন আসে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে টেস্টটিউব বেবি আর ন্যাচারাল বেবির মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখা যায় কি?

গঠনগত কোনো পার্থক্য থাকে না। জরায়ুতে ভ্রূণটা বসানোর পর সব একই রকমভাবে হয়। আমরা ভ্রূণটা তৈরি করে সেটা জরায়ুতে বসাই। সেখানে আমরা একটু সতর্ক থাকি। কারণ সহজ করে যদি বলি এটা বেশ দামি একটা প্রেগন্যান্সি। এটার জন্য মায়েদের আমরা একটু সতর্ক থাকতে বলি। আর শিশুর ক্ষেত্রে গঠনগত পার্থক্য না থাকলেও কিছু কনজেনিটাল ডিফেক্ট থাকে, যদিও সেটা খুব রেয়ার। আবার যারা বয়স্ক, দশ বিশ বছর অপেক্ষা করে চল্লিশের দিকে আসে তখন সমস্যা হতে পারে। কারণ তাদের ডিম সুস্থ সবল হয় না। এদের প্রিম্যাচিওর লেবারের চান্সটা একটু বেশি। প্রসিডিউরের কারণেও সমস্যা হতে পারে, তবে সে ঘটনা কম।

বাংলাদেশে একটা সাইকেলের গড় খরচ কত পড়ে?

সেটা সেন্টার অনুসারে পার্থক্য হয়। গড়ে আড়াই থেকে ৪ লাখ টাকা এবং একটা সেন্টারে ৫ লাখ টাকা লাগে। আমাদের সেন্টারে নির্দিষ্ট না, তবে ধারণা দিই যে ৪ লাখের মতো লাগতে পারে। কারো লাগে কারো লাগে না।

বাংলাদেশে আইভিএফের ভবিষ্যৎ কী?

আমি বলব বেশ ভালো। পড়াশোনা থেকে শুরু করে সবখানেই। আমি অনেককে শিখিয়েছি, পড়িয়েছি। এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা মেডিকেলে এ নিয়ে একটা কোর্স চালু হয়েছে। এখানে বিস্তারিত পড়াশোনা হয় এ নিয়ে। অনেক মেয়ে বাইরে যাচ্ছে ট্রেনিং নিতে। কারণ এ ফিল্ড বড় হচ্ছে কিন্তু সাপোর্ট দরকার।

এ সেক্টরে তাহলে রোগীর তুলনায় ডাক্তার কম?

হ্যাঁ, কম। কিন্তু ম্যানপাওয়ার তৈরি হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হচ্ছে। সেখানে অংশ নিয়ে তাদের নলেজ বাড়ছে। হাতে-কলমে শেখার সুযোগটা একটু কম কিন্তু শুনে শুনে বা পড়াশোনার থিওরিটিক্যাল জ্ঞানে তারা পিছিয়ে নেই। কাজের জায়গাটা পেলেই তারা কাজ শুরু করতে পারবে।

এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তা ব্যক্তি উদ্যোগে?

হ্যাঁ, বেশির ভাগই। ভালো সেবা যেটা সেটা প্রাইভেট থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।

এই যে প্রযুক্তি বা যেভাবে ব্যাপারটা করা হয় তাতে কোনো আইনি সীমাবদ্ধতা আছে কি?

দেশের বাইরে যেগুলো হয় সেখানে অ্যাসোসিয়েশন থাকে ও সরকারি কিছু নীতিও থাকে। কিছু আইন থাকে এ ব্যাপারে আলাদা করে যেটা আমাদের দেশে নেই। এটা থাকলে আমাদের জন্য ভালো। কোনটা করা যাবে, কোনটা যাবে না তা আইন দিয়ে স্পষ্ট করা হলে কাজ করা আমাদের জন্যও সহজ হবে। যেমন ইসলামিক ভাবধারায় ডোনারিজম নিষিদ্ধ। রাষ্ট্র যদি সেটা নিশ্চিত করে আইন দিয়ে তাহলে কাজটা করা হবে না। পিডিজি সব দেশে অ্যাপ্রুভ করে না। তো নিশ্চিত করা থাকলে ভালো কিন্তু কথা হলো সেটা কে করবে? এআরটি একটা অ্যাসোসিয়েশন হলে তার সঙ্গে রাষ্ট্রের কথোপকথনের মাধ্যমে এটা হতে পারে।

একটা জিনিস দেখা যায় অনেকে ভারতে কাজটা করতে আগ্রহী। সেখানে ভালো চিকিৎসা হয় এ রকম অনেকে বলেন। খরচও কম। এ বিষয়ে আপনার কী মত?

ভারতে গিয়ে প্রেগন্যান্সি হয়নি কিন্তু আমাদের এখানে এসে হয়েছে এমন ঘটনাও আছে। দেখা গেল অনেক সময় ধরে চিকিৎসা হলো কিন্তু কোনো ফল হলো না। তখন বিরক্ত হয়ে চলে যায়। কারো কারো নিজেরটা দিয়ে ভালো ফল হয় না। তাই বারবার চেষ্টা করে দেখতে হয়। ইন্ডিয়ায় বাধা নেই বলে ডোনারেরটা দিয়ে করে। তাতে ফল ভালো হয়।

খরচের ব্যাপারটা হলো আমাদের তো নিজেদের কিছু নেই। একটা ইনজেকশন আনতে হচ্ছে বিদেশ থেকে, এমনকি ইন্ডিয়া থেকেও। যেটা ওখানে ৬০০ টাকা। সেটা আমাদেরই আনতে হয় ২০০০ টাকায়। সেখানে তো খরচ কমানো আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: এস এম রশিদ