দেশে ইস্পাত খাতের আকার গত ১০ বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সম্প্রসারণ কার্যক্রমে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে সরকারের মেগা প্রকল্প। ২০৪১-এর মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পণে সরকারের যে ভিশন তাতে ভারী এ শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টিল উৎপাদন এবং ব্যবহারকারী দেশ চীন, ভারত, আমেরিকা, জাপান ও রাশিয়া উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ে প্রচুর স্টিল উৎপাদন করে। তাদের উৎপাদন খরচও কম পড়ে। তবে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও বৃহৎ আকারের ইনডাকশন ও ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস এবং অটোমেটিক রি-রোলিং মিল স্থাপনের মধ্য দিয়ে উন্নত ও বিশ্বমানের স্টিল উৎপাদনের সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) তথ্য বলছে, ইস্পাত খাতে বর্তমানে তাদের সদস্যভুক্ত কারখানা রয়েছে ৩৫টি। ১০ বছর আগেও দেশে বছরে সম্মিলিতভাবে এমএস রড উৎপাদন হতো ২৫ লাখ টন। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বছরে গড়ে উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে প্রায় ৬০ লাখ টন। যদিও উদ্যোক্তাদের কারখানা সম্প্রসারণ পদক্ষেপে ইস্পাতের (রড) সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা এখন ৯০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। কারখানার সক্ষমতা যে গতিতে বাড়ছে তাতে আগামী দুই বছরে অর্থাৎ ২০২৩ সালে ১ কোটি টনে উন্নীত হবে। আর তখন এমএস রড উৎপাদন বছরে গড়ে ৭০ লাখ টন ছাড়াবে। গত কয়েক বছর সরকারি খাতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও প্রবাসী আয়ে গ্রামে পাকা ঘর নির্মাণ বৃদ্ধিই ইস্পাত খাতের প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।

কেএসআরএম উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে ইস্পাত খাতের সঠিক বিকাশ খুবই প্রয়োজন। সরকারের মেগা প্রকল্পে ইস্পাতের ব্যবহার এখন সবচেয়ে বেশি। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বড় প্রকল্পগুলোতে প্রচুর ইস্পাত পণ্য দরকার হওয়ায় এসব পণ্যের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে রডের চাহিদা ও জোগানের সম্ভাবনা বেশ ভালো। সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানের নৌবন্দরগুলোকে আরো আধুনিকায়ন করা দরকার। চট্টগ্রাম থেকে খুলনা, বরিশাল, ভোলার মতো এলাকায় খুব সহজেই নৌপথে ভারী পণ্য পরিবহন বাড়ানো গেলে সড়কের ওপরও চাপ কমবে।’

দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি চীনা ও জাপানি উদ্যোক্তারাও দেশের ইস্পাত শিল্পে বড় আকারের বিনিয়োগ নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা ইস্পাত জায়ান্ট কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল হোল্ডিং কোম্পানি বার্ষিক ২০ লাখ টন সক্ষমতার কারখানা স্থাপনে ২৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জাপানের সবচেয়ে বড় ইস্পাত উৎপাদক নিপ্পন স্টিল ও সুমিতমো মেটাল স্থানীয় কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কারখানা স্থাপনে ৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।

 

রাজু কুমার দে: সাংবাদিক