চট্টগ্রামে পাহাড়বেষ্টিত সীতাকুণ্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট। বড় শিল্প গ্রুপগুলোর কারখানার অবস্থানের কারণে সারা দেশের উৎপাদিত ইস্পাতপণ্যের সিংহভাগই আসে এ এলাকা থেকে। সীতাকুণ্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পাহাড়ি ছড়া থাকলেও বৃষ্টির সময় এসব ছড়ার পানি নালা গড়িয়ে সাগরে চলে যায়। উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে বাঁধ দিয়ে এ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার সুযোগ আছে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটা করা গেলে শিল্প-কারখানার পানি সংকটের সমাধান অনেকটাই সহজ হবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেয়া একটি চিঠিতে জলাধার নির্মাণের মাধ্যমে পানির সংকট সমাধানের প্রস্তাব দেয়া আছে। উদ্যোক্তাদের নীতিসহায়তা দেয়া হলে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করেই উপজেলার কারখানাগুলোর ব্যবহার ছাড়াও পানির সংকট কাটিয়ে নতুন নতুন কারখানাও গড়ে উঠবে বলে জানান উদ্যোক্তরা।
পাহাড় থেকে গড়িয়ে আসা বৃষ্টির পানি বাঁধ দিয়ে সংরক্ষণ করে রড উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করে উদাহরণ তৈরি করেছে জিপিএইচ ইস্পাত। পানির অপচয় রোধে ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহূত পানি অপচয় না করে তা পুনরায় ব্যবহার উপযোগীও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর নির্দেশনার পর বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। সংরক্ষণ করা পানি পাইপের মাধ্যমে শোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শোধন করে তা কারখানায় যায় রড তৈরিতে।
জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইস্পাত শিল্প-কারখানা চালানোর ক্ষেত্রে পানি একেবারে অপরিহার্য। ছড়ার পানি সাগরে পড়ার আগে বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে সীতাকুণ্ডের শিল্প-কারখানার পানি সংকট নিরসনে ভালো কাজে আসবে। ভূগর্ভের পানি ব্যবহার কমিয়ে আনলে পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী প্রজন্মের ব্যবহারের জন্য সার্ফেস ওয়াটার সংরক্ষণ, ভূমিকম্প ও ভূমিধস রোধ করার জন্য বেশ জোর দিচ্ছেন। জাপানে এমনভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়, যাতে মাটি-বালি নিঃসৃত বৃষ্টির পানি সরাসরি সমুদ্রে যেতে না পারে।’
প্রান্ত রনি: সাংবাদিক





