ডিকশনারি ডটকম এ বছর বর্ষসেরা শব্দ ঘোষণা করেছে—‘সিক্স-সেভেন’। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন— দুটি সংখ্যা মিলেই হয়েছে এ ‘বর্ষসেরা’ শব্দ!
ইন্টারনেটে ভাইরাল এ ‘শব্দ’টি ছড়িয়ে পড়েছে মূলত টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে। বাচ্চারা মুখে মুখে বলছে, আর শিক্ষক-অভিভাবকরা বিভ্রান্ত। অন্যদিকে, ভাষাবিদরা মাথা চুলকাচ্ছেন—‘সিক্স-সেভেন’ মানে আসলে কী!
ডিকশনারি ডটকম নিজের ঘোষণাতেই স্বীকার করেছে, ‘আমরাও এখনো বুঝে উঠতে পারিনি, এর মানে কী।‘ ওয়েবসাইটটি বলছে, এটা হয়তো কোনো সিদ্ধান্তহীনতার ইঙ্গিত—মানে, এই রকমও হতে পারে, আবার ও রকমও হতে পারে।
সব কিছুর শুরু ২০২৪ সালে গাওয়া র্যাপার স্ক্রিলার গান ‘ডুট ডুট (সিক্স-সেভেন)’ থেকে। পরে এনবিএ তারকা লামেলো বল (যার উচ্চতা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি) ওই সাউন্ড ব্যবহার করে ভিডিও পোস্ট করেন। এরপর এক কিশোর টিকটকে চিৎকার করে ‘সিক্স-সেভেন’ বলে দেয় এক এক্সপ্রেশন—আর সেখান থেকেই শুরু হয় ‘সিক্স-সেভেন’-এর মহাযাত্রা।
এখন কেউ ‘সিক্স-সেভেন’ বলে বিরক্ত করছে বড়দের, কেউ আবার মজা করতে ব্যবহার করছে এবং সেটাও কোনো নির্দিষ্ট মানে ছাড়াই। এমনকি কেউ কেউ এর লেখার ধরন নিয়েও তর্ক জুড়ে দিচ্ছেন—অংকে নাকি কথায় প্রকাশ করতে হবে, সেটাই তর্কের বিষয়বস্তু।
মেরিয়াম-ওয়েবস্টারও বলেছে, এটা একেবারেই অর্থহীন, কিন্তু মজার, বিশেষ করে টিনএজারদের মধ্যে। অন্যদিকে, ডিকশনারি ডটকমের ভাষায়, শব্দটা একেবারেই অর্থহীন। তবুও এটি দিয়ে মানুষ কিছু প্রকাশ করছে আর সেটাই এ শব্দের মানে।
অভিভাবকরা বোঝার চেষ্টা করছেন এই সিক্স-সেভেনের মানে। শিক্ষকরা অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন এর মর্মোদ্ধারে। কেউ হতাশ হয়ে বলছেন, শিশুদের এটা বলা বন্ধ করানোই ভালো।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, যে শব্দের অর্থই পরিষ্কার নয় সেটা কেন বর্ষসেরা হবে। এ প্রসঙ্গে ডিকশনারি ডট কম জানিয়েছে, তারা বর্ষসেরা শব্দ নির্বাচনের জন্য সার্চ ইঞ্জিন, সংবাদ শিরোনাম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রবণতাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। সাইটটি জানায়, গ্রীষ্মে ‘সেক্স-সেভেন’ লিখে অনলাইনে অনুসন্ধান ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল এবং সেই গতি আর কমেনি; বরং জুন মাস থেকে শব্দটির অনুসন্ধান বেড়েছে ছয় গুণ।
ডিকশনারি ডট কম আরো বলেছে, বর্ষসেরা শব্দটি কেবল জনপ্রিয়তা ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। এটি আসলে প্রকাশ করে যে, আমরা নিজেদের সম্পর্কে কী গল্প বলি এবং বছরজুড়ে আমরা কীভাবে বদলেছি।
এপি অবলম্বনে










