মাসখানেক আগেও বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল টিএসএমসি। বলা হচ্ছিল, আয়ের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে তাইওয়ানভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্টটি। কিন্তু তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবেশের পর চিত্রপট পুরো পাল্টে গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চিপ ক্রয়াদেশ কমিয়েছে অ্যাপল, এএমডি ও এনভিডিয়ার মতো টিএসএমসির শীর্ষ গ্রাহকরা। এতে চলতি বছরের আয়ের প্রাক্কলন সংশোধন করতে হচ্ছে তাদের। খবর ডিজিটাইমস।
টিএসএমসির সিইও সিসি ওয়েই এর আগে বেশ আত্মবিশ্বাসের সুরে জানিয়েছিল, চলতি বছরে তাদের বিক্রি ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ বাড়তে পারে। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে প্রধান অংশীদারদের ক্রয়াদেশ হ্রাসের ফলে কোম্পানির আয়ে প্রভাব পড়বে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ হাজার ৭৬০ কোটি থেকে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার আয় করতে পারে টিএসএমসি। গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে আয় বাড়তে পারে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
মহামারীর প্রভাব কমলেও বিশ্বে নতুন বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ হাজির হয়েছে। বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে মূল্যস্ফীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইলেকট্রনিক ভোক্তা বাজারে বিক্রিতে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতের মধ্যে রয়েছে টিভি, সেলফোন ও পিসি।
আসন্ন আইফোন ১৪ মডেলের জন্য সিস্টেম অন চিপের (সক) ক্রয়াদেশ দিয়েছে অ্যাপল। ডিজিটাইমস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত হতে যাওয়া ফোনটির জন্য পূর্বের চুক্তির চেয়ে টিএসএমসি থেকে ১০ শতাংশ কম সক নিচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
পিসি প্রসেসর বিক্রি হ্রাসের ফলে টিএসএমসি থেকে ওয়েফার ক্রয়াদেশ কমিয়েছে এএমডি। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক ও ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৭ ও ৬ ন্যানোমিটার প্রসেসরের ওয়েফার ক্রয়াদেশ প্রায় ২০ হাজার কমছে। ক্রয়াদেশ কমাতে বাধ্য হয়েছে অন্য মার্কিন কোম্পানি এনভিডিয়া। কোম্পানিটির বড় অংকের আরটিএক্স৩০০০ সিরিজ মজুদ রয়েছে। ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিরতার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারাভিত্তিক কোম্পানিটির জিপিইউর চাহিদা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। তবে মজুদ পণ্য বিক্রিতে দাম কমানোর সম্ভাবনা নেই এনভিডিয়ার। সাম্প্রতিক এ অস্থিরতায় অবশ্য এনভিডিয়ার আরটিএক্স৪০০০ সিরিজের জিপিইউ উন্মোচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে ডিজিটাইমস জানায়, পরবর্তী প্রজন্মের ৫ ন্যানোমিটারের আরটিএক্স৪০০০ সিরিজের ক্রয়াদেশ কমাচ্ছে এনভিডিয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে মূল্য হ্রাসের তেমন কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে টিএসএমসি। বিপরীতে তাইওয়ানভিত্তিক ফাউন্ড্রি জায়ান্টটি বলছে, পণ্যের চালান ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ পেছানোতে রাজি তারা।
সম্প্রতি টিএসএমসির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তে সতর্ক অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। জুনের শুরুতে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্টটি জানায়, ইউরোপে নিকট ভবিষ্যতে কারখানা চালুর পরিকল্পনা নেই তাদের। শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে বার্ষিক এক সভায় টিএসএমসি চেয়ারম্যান মার্ক লিয়ু বলেন, আরিজোনায় নির্মাণ হতে যাওয়া বিদেশে তাদের প্রথম কারখানার নির্মাণ ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। তবে ব্যয় ঠিক কী পরিমাণ বেশি হচ্ছে, এ তথ্য শেয়ার করেননি তিনি। স্থানীয় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বিদেশী চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোকেও প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ওয়াশিংটনের সহায়তা করা উচিত বলে মনে করেন লিয়ু।
টিএসএমসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়া তাইওয়ানের চেয়ে অনেক কঠিন। তবে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আরিজোনা কারখানার জন্য কর্মী নিয়োগ চলছে। নতুন কোনো জায়গায় কারখানা স্থাপনের শুরুতে কর্মী সংকটে পড়তে হয়। তাইওয়ানের তুলনায় সে জায়গায় কম চিপ কারখানা রয়েছে এবং সরবরাহ চেইন পরিপূর্ণ নয়। তবে টিএসএমসিসহ ইন্টেল ও স্যামসাং সেখানে কারখানা চালু করলে সামনের বছরগুলোয় সেখানকার সরবরাহ চেইন অনেক সবল হবে বলে আশাবাদী লিয়ু।
ইউরোপে চিপ কারখানা স্থাপন নিয়ে লিয়ু বলেন, নিকট ভবিষ্যতে আপাতত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা নেই টিএসএমসির। নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানে চালু হতে যাওয়া চারটি কারখানাতেই ৩ ন্যানোমিটারের চিপ তৈরি হবে।










