গত ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিক্রি বছরওয়ারি ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারির ৫ হাজার ৭০ কোটি ডলারের চেয়ে তা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে যন্ত্রাংশস্বল্পতা ও সরবরাহ চেইন সংকটের কারণে সামনের দিনগুলোয় বিক্রিতে শ্লথগতি দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর ডিজিটাইমস।

ফেব্রুয়ারিতে টানা ১১ মাসের মতো বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি বেড়েছে। দুই আমেরিকায় সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে বেশি ছিল। ফেব্রুয়ারিতে এ অঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ। এ নিয়ে টানা দুই মাস অঞ্চলটিতে সেমিকন্ডাক্টর বিক্রিতে ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে আরো কয়েকটি অঞ্চলে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ, ইউরোপে ২৯ দশমিক ৩, চীনে ২১ দশমিক ৮ ও জাপানে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে।  

তাইওয়ানভিত্তিক শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি জানায়, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে তাদের আয় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন, গাড়ি ও অন্যান্য সেমিকন্ডাক্টরনির্ভর পণ্যের রেকর্ড চাহিদায় টিএসএমসির বিক্রি বেড়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে পুরো আয়-ব্যয়ের উপাত্ত প্রকাশ করবে সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা জায়ান্টটি।

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের পর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের হানায় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বাজার চাহিদায় প্রভাব পড়ছে। সাংহাই ও খুনশানে সাম্প্রতিক লকডাউনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পোপকরণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্যানেল, পিসিবি ও মেকানিজম মোল্ড সরবরাহে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যানুফ্যাকচারিং হাব সাংহাই ও খুনশান। সেখানে লকডাউন প্রলম্বিত হলে সার্বিক সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলবে। সাংহাই ও খুনশানের লকডাউনে লজিস্টিকস সরবরাহও বিঘ্নিত হবে। এলসিডি মডিউল, এআইওটি ডিভাইস, প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাসেমব্লিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পোপকরণের কেন্দ্র চীনের শহর দুটি।  

৫ এপ্রিল লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। একদিনে ১৩ হাজারেরও বেশি নতুন করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটার একদিন পর আড়াই কোটি জনসংখ্যার শহরটিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে চাহিদায় তেমন প্রভাব না পড়লেও ছয় মাস প্রলম্বিত হলে সরবরাহে সমস্যা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক এক ওয়েবিনারে বেইন অ্যান্ড কোম্পানির বিশ্লেষকরা জানান, সার্বিক চিপস্বল্পতা অব্যাহত থাকবে এবং চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে। কিন্তু ২০২৩ ও তত্পরবর্তী সময়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে।

ম্যাককিনসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে চলতি দশকের প্রবৃদ্ধিতে ৭০ শতাংশ অবদান থাকবে গাড়ি, কম্পিউটেশন, ডাটা স্টোরেজ ও ওয়্যারলেস খাতের।

নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকদের সংকটের কথা জানিয়েছে সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ নির্মাতা কোম্পানিগুলো। অ্যাপ্লায়েড ম্যাটেরিয়ালস, কেএলএ, লাম রিসার্চ, এএসএমএল বলছে, কিছু যন্ত্রাংশ পেতে গ্রাহকদের ১৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।