ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। কর্মী সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এ উদ্যোগ কার্যকর করা যাচ্ছে না বলে ব্লুমবার্গ প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে। খবর দ্য ভার্জ।

ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, ওরিগনের পেন্ডলেটনে চার মাস ড্রোন ডেলিভারির কার্যক্রমের পরীক্ষা চালায় প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় পাঁচবার ড্রোন বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে প্রপেলার হারানোর পর একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়। তবে ব্লুমবার্গের দাবি ফেডারেল এভিয়েশন তদন্ত শুরুর আগেই অ্যামাজন ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলেছে।

অ্যামাজনের মুখপাত্র এভি জামিট ব্লুমবার্গের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইভেন্টটি নথিভুক্ত করতে এবং ড্রোনটি অপসারণে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, অ্যামাজন তা অনুসরণ করেছে। এর পরের মাসে আরেকটি ড্রোনের মোটর বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি মুহূর্তে অবতরণসহ ড্রোনকে স্থিতিশীল করার কোনো ফিচারই সে সময় কাজ করেনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ড্রোনটি ১৬০ ফুট ওপর থেকে মাটিতে ভূপাতিত হয়ে বিধ্বস্ত হয় এবং আশেপাশে প্রায় ২৫ একর জায়গায় আগুন ছড়িয়ে যায়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস দল পরে সেটি নেভায়।

অ্যামাজনের সাবেক প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস ২০১৩ সালে ৩০ মিনিটের মধ্যে ড্রোন ডেলিভারি চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও অ্যামাজনের পণ্য গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছেনি। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রাইম এয়ার ডেলিভারি ড্রোনটির নতুন ডিজাইন প্রকাশ করে, যেটি লম্বাভাবে ওড়ানো যেত এবং পরের বছরই এর ব্যবহার শুরুর কথা বলা হয়েছিল। যদিও সেই উদ্যোগও অকার্যকর রয়ে গেছে।

এক বছর পর এক ঘোষণায় অ্যামাজন জানায়, ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রতিষ্ঠানটিকে ড্রোন এয়ারলাইন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিয়েছিল। সে সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট এটিকে প্রাইম এয়ারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন ডেলিভারি কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৬ সালে কেমব্রিজে প্রথমবারের মতো পণ্য ডেলিভারি দিয়েছিল অ্যামাজন। ওয়্যারড প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ব্লুমবার্গ যেসব সমস্যার বিষয়ে জানতে পেরেছে, যুক্তরাজ্যেও একই কারণে উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দ্য ভার্জের কাছে দেয়া এক বিবৃতিতে জামিট বলেন, এখন পর্যন্ত ড্রোন-সংক্রান্ত কোনো পরীক্ষাকেই এনটিসিবি দুর্ঘটনা, জানমালের জন্য হুমকিস্বরূপ বা ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেনি।