ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব থেকে শুরু করে বিভিন্নপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় প্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়ার অপপ্রচার বন্ধে কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তারা। খবর ইটি টেলিকম।

শুরুর দিকে এসব প্রতিষ্ঠান রাশিয়ায় তাদের বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধের পাশাপাশি তথ্য ও ঘটনা যাচাইয়ের হারও বাড়িয়েছিল। ইউটিউব, টুইটারসহ অন্যান্য মাধ্যমে বর্তমানে রাশিয়ার অপপ্রচারমূলক বা ইউক্রেনবিরোধী ভিডিও ও টুইটগুলো রিপোর্ট করছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এসব কনটেন্ট অপসারণের বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ইউরোপের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এসব কনটেন্টের বিষয়ে গবেষণা করেছে এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে তথ্য পাঠিয়েছে। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের অধিকাংশ আবেদনের কোনো উত্তর দেয়া হয়নি। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ইউক্রেনের কৌশলগত যোগাযোগ ও তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের উপপ্রধান মাইকোলা বালাবান বলেন, প্রথম মাসে যখন রাশিয়া পরিপূর্ণ আগ্রাসন শুরু করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল এবং সাহায্য করার বিষয়ে আগ্রহী ছিল। কিন্তু এখন তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের সরকার ও অলাভজনক অংশীদাররা যুদ্ধের ন্যায্যতা দেয়ার জন্য ইউক্রেনীয়দের জন্য অবমাননাকর বা অমানবিক শব্দযুক্ত বিভিন্ন কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করছে। কেননা যুদ্ধকে নিজেদের পক্ষে নিতে ও সঠিক প্রমাণে রাশিয়া যে উদ্যোগ নিয়েছিল, সেগুলো গণমাধ্যম থেকে সরে ব্যক্তি উদ্যোগ ও ট্রল আর্মির কাছে চলে যাচ্ছে। ট্রল আর্মি মূলত রাষ্ট্রমালিকানাধীন একটি দল। যারা অপপ্রচার চালানোর ভুল তথ্যের প্রচার ও প্রসার করে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে অপপ্রচার চালানো হতো জুনের শেষ নাগাদ সেগুলোর ৯০ শতাংশ সক্রিয় ছিল। যেখানে ইউটিউব ও টুইটারে ইউক্রেনিয়ানদের ভর্ত্সনামূলক বক্তব্যের ৭০ শতাংশ ভিডিও ও টুইট দেখা যাচ্ছিল। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রমাণে রাশিয়ার যেসব অপপ্রচারমূলক কনটেন্ট ইউক্রেনের কর্মকর্তারা চিহ্নিত করেছে লিংকডইন থেকে তার অর্ধেকেরও কম অপসারণ করা হয়েছে। এমনকি এর সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলোর অধিকাংশ তখনো সচল ছিল।

ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ শব্দ যুক্ত যে ৯৮টি কনটেন্ট দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা চিহ্নিত করেছিল, সেগুলো অপসারণ করেছে ফেসবুক। গবেষকদের দাবি রাশিয়া সরকার ও তাদের অনুসারীরা বর্তমানে তাদের অপপ্রচার পরিচালনার মাধ্যম হিসেবে টেলিগ্রামকে বেছে নিয়েছে। সেখানে তারা ছোট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেননা সামরিক আগ্রাসন শুরুর দিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মিডিয়াগুলোর মূল অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল।

অন্যদিকে অ্যাপল, স্যামসাং, জিজেআই, এরিকসনের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ৯০ শতাংশ বাজার চীনা ব্র্যান্ডগুলোর দখলে চলে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা নেয়। এতে দেশটির স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি খাতের বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। দেশটিতে স্মার্টফোনের বাজারে সবচেয়ে বেশি গতিশীলতা ও পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২২ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়ার শীর্ষ স্মার্টফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সাতটিই ছিল চীনের। এর মধ্যে রয়েছে রিয়েলমি, ভিভো, টেকনো, ইনফিনিকস, আইটেল ও নকিয়া।