উন্নত প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর ও টারবাইনসহ বিভিন্ন শিল্প প্রযুক্তিপণ্য রফতানি সীমিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো যাতে সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এসব পণ্য ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য এ সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়।
নতুন নির্দেশনায় মূলত চারটি প্রযুক্তি উপকরণের ওপর জোর দিয়েছে জো বাইডেন নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে গ্যালিয়াম অক্সাইড ও ডায়মন্ড, যা বিরূপ পরিবেশে সেমিকন্ডাক্টরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। এ উপকরণগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সমরাস্ত্র তৈরিও সম্ভব। তৃতীয় প্রযুক্তি হচ্ছে গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তি, যা রকেট ও হাইপারসনিক সিস্টেম পরিচালনায় ব্যবহূত হয়। বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন তৈরিতে এ প্রযুক্তি কাজে লাগে। সংবেদনশীল এ প্রযুক্তি যাতে শত্রুপক্ষের হাতের পুতুলে পরিণত না হয় এজন্য নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূলত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের দহরমমহরম সম্পর্কের বিষয়টি আমলে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রযুক্তিপণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ সিদ্ধান্তে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য, শিল্প ও নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালান এস্তেভিজ এক বিবৃতিতে বলেন, সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন অগ্রসর প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে বিভিন্ন গোষ্ঠী। বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা যদি এসব পণ্যের সুবিধা ও ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে পারি এবং তা আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করি তাহলেই আমাদের যৌথ নিরাপত্তা লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
এদিকে ইউক্রেনে আগ্রাসনের শুরু থেকেই রাশিয়ায় পণ্য রফতানি বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশের বেশির ভাগ প্রযুক্তি কোম্পানি। একেবারে শুরুর দিকেই রাশিয়ায় পণ্য রফতানি বন্ধ ঘোষণা করেছে স্যামসাং। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য ৬০ লাখ ডলার সহায়তা পাঠায় দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। বিশ্বের বৃহত্তম এ মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানিটি ছিল রাশিয়ায় শীর্ষ স্মার্টফোন রফতানিকারক কোম্পানি। ডাটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের উপাত্তে দেখা গিয়েছে, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে রাশিয়ায় ৩০ শতাংশ স্মার্টফোন বাজার হিস্যা ছিল স্যামসাংয়ের। স্মার্টফোন বিক্রি থেকে স্যামসাংয়ের বৈশ্বিক আয়ের ৪ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। এদিকে চতুর্থ প্রান্তিকে শাওমি ও অ্যাপলের বাজার হিস্যা ছিল যথাক্রমে ২৩ ও ১৩ শতাংশ। রাশিয়ায় পণ্য বিক্রি বন্ধ কিংবা সেবা স্থগিত করা অন্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, নাইকি ও আইকিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া রাশিয়া ও বেলারুশে সব ধরনের অত্যাধুনিক চিপ রফতানি নিষিদ্ধ করেছে তাইওয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলো রাশিয়ায় প্রযুক্তিপণ্যসহ বিভিন্ন শিল্প উপকরণ রফতানি বন্ধ বা সীমিত করলেও জোরদার হয়েছে চীনের।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা চার মাস রফতানি কমার পর জুলাইয়ে রাশিয়ায় রফতানি বেড়েছে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতির দেশটির। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের জের ধরে রাশিয়াকে বয়কট করেছিল পশ্চিমা মহল। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চীন বরাবরই সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।










