ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত কম্পিউটার বাজারের ঝাঁকুনি মোকাবেলা করতে ব্যাপকসংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে ইন্টেল। ধারণা করা হচ্ছে, এ সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
ছাঁটাইয়ের এ ঘোষণা আসতে পারে চলতি মাসের মধ্যেই। ২৭ অক্টোবর ত্রৈমাসিক আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। ইন্টেলের বিক্রয় ও বিপণনসহ অন্যান্য বিভাগের ২০ শতাংশ কর্মীর ওপর এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে। জুলাইয়ে কম্পিউটার চিপ উৎপাদক এ কোম্পানির কর্মী সংখ্যা ছিল মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০।
ইন্টেলের প্রধান ব্যবসা পিসি ও প্রসেসরের চাহিদা তীব্র পতনের সম্মুখীন। তাছাড়া অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারানো বাজারের শেয়ার ফিরে পেতেও লড়াই করে যাচ্ছে তারা।
জুলাইয়ে সংস্থাটি সতর্ক করেছিল, ২০২২-এর বিক্রয় প্রত্যাশার তুলনায় প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কম হবে। বিশ্লেষকরা তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব প্রায় ২০ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছেন। ইন্টেলের একসময়ের ঈর্ষণীয় মার্জিনগুলোও সংকুচিত হয়েছে, যা রেকর্ডসংখ্যক ৬০ শতাংশীয় পয়েন্টের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের উপার্জন হিসাব চলাকালীন ইন্টেল স্বীকার করেছে যে মুনাফার উন্নতির জন্য এটি তার ব্যবসায় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রধান নির্বাহী প্যাট জেলসিঞ্জার তখন বলেন, আমরা ২০২২ সালের ক্যালেন্ডারে মূল ব্যয়ও কমিয়ে দিচ্ছি এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়ার দিকে নজর দেব।
তবে ইন্টেলের পক্ষ থেকে কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। ২০১৬ সালে ১২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ প্রযুক্তি জায়ান্ট, যা ছিল মোট কর্মীর ১১ শতাংশ।
তখন থেকেই কোম্পানিটি ছোট ছোট অংশে কর্মী ছাঁটাই করে চলেছে। সেলুলার মডেম ও ড্রোন ইউনিটসহ বেশ কয়েকটি বিভাগও বন্ধ করা হয়েছে। প্রযুক্তি শিল্পের অনেক কোম্পানির মতো ইন্টেলও এ বছরের শুরুতে বাজারের অবস্থা খারাপ হওয়ার পাশাপাশি মন্দার আশঙ্কা বেড়ে গেলে নতুন নিয়োগ বন্ধ করে দেয়।
জেলসিঞ্জার গত বছর ইন্টেলের হাল ধরেন এবং সিলিকন ভ্যালির কিংবদন্তি হিসেবে খ্যাত কোম্পানিটির অবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করছেন। তবে ইন্টেলের নিজস্ব নির্বাহীরা স্বীকার করেছেন যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানির উদ্ভাবনের সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া দীর্ঘকাল ধরে থাকা প্রযুক্তিগত শীর্ষত্বও খুইয়েছে কোম্পানিটি।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে মন্দা পরিস্থিতি। ইন্টেলের পিসি, ডাটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগগুলো রাজস্ব ও লাভের ওপর ভর করে প্রযুক্তি ব্যয়ের মন্দার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা সংস্থা গার্টনারের মতে, ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটারের বিশ্বব্যাপী চালান গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে; গার্টনারের বাজার বিশ্লেষণের তথ্যানুসারে, দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যা সবচেয়ে বড় পতন।
এইচপি, ডেল ও লেনেভোর মতো ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে ইন্টেলের প্রসেসর যারা ব্যবহার করে তারা সবাই এ থেকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। তবে পুনরায় কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি ইন্টেলের জন্য অস্বস্তিজনক।
২০২২ সালে ইন্টেলের শেয়ার কমেছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। শুধু গত মাসেই কোম্পানিটির শেয়ারের পতন ঘটেছে ২০ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোম্পানিটি মুনাফা বাড়ানোর জন্য তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।










