স্থানীয় চিপ শিল্পকে শক্তিশালী করতে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প অকার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী সব কোম্পানি থেকে বেশ ব্যয়বহুল ঠেকায় বিশ্ববাজারে টেকসই হবে না শীর্ষ অর্থনীতিটির সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করেন বিশ্বের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা কোম্পানি টিএসএমসির প্রতিষ্ঠাতা মরিস চ্যাং। খবর ডিজিটাইমস ও তাইপে টাইমস।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন ও সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আয়োজনে পডকাস্ট সাক্ষাত্কার দিয়েছেন টিএসএমসির প্রতিষ্ঠাতা মরিস চ্যাং। পডকাস্টের শিরোনাম ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারাররা কি ফিরে আসবে? এতে চ্যাং বলেন, চিপ ডিজাইন সক্ষমতার দিক থেকে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভালো অবস্থান রয়েছে। কিন্তু এর ম্যানুফ্যাকচারিং মেধায় ঘাটতি রয়েছে।
১৯৫০-এর দশক থেকে ১৯৭০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং মেধার ঘাটতি ছিল না। বর্তমানে অনেকেই আইসি ডিজাইন ও ফাইন্যান্স সেক্টরের মতো উচ্চ বেতনের চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। চ্যাং মনে করেন, বড় অংকের বিনিয়োগ সত্ত্বেও কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারস্বল্পতায় ভুগতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগনে ১৯৯৭ সালে কারখানা চালু করে টিএসএমসি। কিন্তু তাইওয়ান কারখানা থেকে অরেগন কারখানায় পণ্য উৎপাদন ৫০ শতাংশ বেশি ব্যয়বহুল বলে জানান চ্যাং। ২৫ বছর ধরে চেষ্টা চালালেও ব্যয়ের ফারাক কমিয়ে আনার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নতুন কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিএসএমসি। এ ব্যাপারে টিএসএমসি প্রতিষ্ঠাতাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে তিনি অবসরে গেছেন। আরিজোনায় কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নতুন চেয়ারম্যান মার্ক লিয়ুর। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চাপাচাপিতে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
টিএসএমসির আরিজোনা কারখানা এখনো নির্মীয়মাণ। ২০২৪ সাল নাগাদ ওই কারখানায় ৫ ন্যানোমিটারের চিপ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা তাইওয়ানভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটির।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়াস নিয়ে আশাবাদী নন চ্যাং। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চিপ উৎপাদন বেশ ব্যয়বহুল ঠেকবে এবং তা কোনো কাজে আসবে না। টিএসএমসির মতো বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে টেক্কা দেয়ার ক্ষমতা থাকবে না তাদের।
সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভালো অবস্থানের কথা স্বীকার করে চ্যাং বলেন, তাদের ডিজাইন সক্ষমতা বিশ্বসেরা। এ জায়গায় টিএসএমসি পিছিয়ে আছে। তাইওয়ানে বেশ কয়েকটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) ডিজাইন হাউজ রয়েছে। তবে সেগুলো মার্কিন কোম্পানিগুলোর মতো অগ্রসর নয়।
যুদ্ধের হুমকির কারণে তাইওয়ান নিরাপদ নয়, এমন অভিযোগের জবাবে টিএসএমসি প্রধান বলেন, এটা একটি প্রশ্নবিদ্ধ আলাপ। তাইওয়ান প্রণালিতে যুদ্ধ বাধলে চিপ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তার অনেক কারণ রয়েছে। যুদ্ধ না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অনশোর সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে বিনিয়োগ বেশ ব্যয়বহুল ও অপচয়কারী সিদ্ধান্ত হতে পারে।










