চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য মূলধন ব্যয়ের পরিমাণ ১০ শতাংশ কমানোর কথা জানিয়েছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। বিশ্বের অন্যতম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্ত ক্রমেই চাহিদা হ্রাসের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গিকেই নির্দেশ করছে। খবর টেকটাইমস।

চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২২ সালে যন্ত্রাংশ ক্রয়ে তারা ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূলধন ব্যয় করবে, যা আগের অন্তত ৪ হাজার কোটি ডলারের তুলনায় অনেক কম। সম্প্রতি তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিএসএমসি। সেখান থেকেই এ তথ্য জানা গিয়েছে।

টিএসএমসি কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং মূল্যস্ফীতির কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রান্তিকওয়ারি আয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি তাদের মূলধন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সম্প্রতি তাইওয়ানভিত্তিক চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় প্রান্তিকে ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ ও গড় আয়ে ৭৯ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে এ প্রান্তিকে গ্রস মার্জিন ছিল ৬০ দশমিক ৪, পরিচালনগত মার্জিন ছিল ৫০ দশমিক ৬ ও প্রফিট বা মুনাফা মার্জিন ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, টিএসএমসির শক্তিশালী প্রসেসরযুক্ত স্মার্টফোনের বিক্রি বেড়ে যাওয়ার এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াফার বাজারজাতের মাধ্যমে যে আয় হয়েছে তার ২৮ শতাংশ ৫ ন্যানোমিটারের চিপ বাজারজাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

টিএসএমসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ওয়েন্ডেল হুয়াং বলেন, প্রযুক্তি বাজারের শীর্ষে থাকা ৫ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপের চাহিদা থাকায় তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানের ভালো মুনাফা হয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড-১৯ মহামারীর সময় রেকর্ড ভাঙা বিক্রি শেষে সেমিকন্ডাক্টর খাতের বাজার আবারো নিম্নমুখী। মহামারীর সময় পার্সোনাল কম্পিউটার, গ্যাজেট ও ডাটা সার্ভারের ভালো চাহিদা ছিল।

অন্যদিকে ব্লুমবার্গ প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় টিএসএমসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হিমশিম খাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বর্তমানে পুরো প্রযুক্তি বাজারের প্রধান আলোচ্য বিষয়।