অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইস উৎপাদনে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে বিশ্বের ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকেরও বেশি চীনে অবস্থিত। সম্প্রতি কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ বাড়ায় আবারো লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন। এতে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে গবেষণা সূত্রে জানা গেছে। খবর ৯টু৫ম্যাক।

অ্যাপলের পণ্য তৈরিতে যারা তুলির শেষ আঁচড় দিয়ে থাকে, তাদের মধ্যে রয়েছে পেগাট্রন, কুয়ান্টা ও কম্পালের মতো প্রতিষ্ঠান। সেগুলো ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী সতর্কবার্তায় জানান, পরবর্তী ১০ দিনে যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তাহলে এসব অঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

কভিড-১৯-এর সংক্রমণ চিরতরে প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে চীন সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে সংক্রমণ রোধে ভ্যাকসিন গ্রহণ, মাস্ক পরিধানসহ সাধারণ পদ্ধতি গ্রহণ করছে তখন চীনের লকডাউন নীতি সম্পূর্ণ বিপরীত। গত মাসে শেনজেনে লকডাউন দেয়া হলে দুটি কারখানায় আইফোন যুক্ত করার কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় ফক্সকন। তবে বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় আইফোন উৎপাদনে ক্ষতিকর কোনো প্রভাব পড়েনি।

সাংহাই ও কুনশানে লকডাউনের কারণে অ্যাপলের আরো তিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আরো বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তবে এখন পর্যন্ত ঝেংঝুতে ফক্সকনের বড় কারখানাটি প্রভাবিত হয়নি।

কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল প্রতি বছর তাদের সরবরাহকারীদের তালিকা ও নাম প্রকাশ করে। নিক্কেই এশিয়ার এক বিশ্লেষক জানান, শীর্ষ ২০০ সরবরাহকারীর অর্ধেকই চীনে অবস্থিত এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কভিড-১৯ লকডাউনের কারণে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। অ্যাপলের সর্বশেষ সরবরাহকারীদের তালিকার বিশ্লেষণ অনুসারে চীনের জিয়াংশু প্রদেশে ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টটির কাছে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে।

উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশই সাংহাই শহরের কাছাকাছি কুনশান ও সুঝুতে অবস্থিত। এসব সরবরাহকারী আইফোন অ্যাসেম্বল প্রতিষ্ঠান পেগাট্রন, আইপ্যাড উৎপাদনকারী কম্পাল ইলেকট্রনিকসসহ ডিসপ্লে, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড, থার্মাল যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি উৎপাদনকারীদের কাজ করে।

ডিসপ্লে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এইউ অপট্রনিকসের প্রধান বলেন, লকডাউনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কার্টুন বক্সের মতো সাধারণ উপাদানেরও সংকট তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন আগে এ বিষয়ে হুয়াওয়ের ভোক্তা প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। মে মাসের মধ্যে সাংহাইয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় না ফিরলে এ অঞ্চলের সব প্রযুক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সরবরাহ চেইনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

আশঙ্কার বিষয়, চলতি গ্রীষ্মে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। ছুটির দিনের ইনভেন্টরি তৈরিতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে চীন পণ্য বাজারজাতে বড় বাধার মুখে রয়েছে। বহির্বিশ্বে পণ্য সরবরাহেও সময় বেশি লাগছে। লকডাউন যদি জুন-জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয় তাহলে হলিডে বিক্রিও প্রভাবিত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠান।