চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ হাজার ৭৬০ কোটি থেকে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার আয় করতে পারে টিএসএমসি। বৈশ্বিক চিপস্বল্পতা ও সরবরাহ চেইন শঙ্কার মধ্যেও আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে শীর্ষ এ চিপ নির্মাতা কোম্পানিটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও ডিজিটাইমস।

তাইওয়ানভিত্তিক চিপ নির্মাতা জায়ান্টটি গত বৃহস্পতিবার এক পূর্বাভাসে জানায়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের আয় গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে। চলতি বছরে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে পারে তারা। হাই-এন্ড প্রসেসরের উচ্চচাহিদার ওপর ভর করে চলমান বিভিন্ন সংকট সত্ত্বেও চলতি বছরে আয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী টিএসএমসি।

প্রথমবারের মতো স্মার্টফোনের চিপের চেয়ে সার্ভারে ব্যবহূত হাই-এন্ডের চিপ বিক্রি করে সর্বাধিক আয় করেছে টিএসএমসি। গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি এবং অ্যাপলের ওপর নির্ভরশীলতা কমার ফলে এ খাতে মনোযোগ বাড়াতে পেরেছে চিপ জায়ান্টটি।

সম্প্রতি প্রথম প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের উপাত্ত প্রকাশ করেছে টিএসএমসি। এতে দেখা গেছে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে আয় বছরওয়ারি ৩৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১০৮ কোটি তাইওয়ানিজ ডলার বা ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ডলার। এইচপিসি ও গাড়ি চিপের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে প্রথম প্রান্তিকে আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছে টিএসএমসি। 

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং গত কয়েক সপ্তাহে চীনের বেশ কয়েকটি শহরে লকডাউনের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেও টিএসএমসির রেকর্ড আয় কোম্পানিটির জন্য বেশ ইতিবাচক। হাই-এন্ড চিপের ওপর ভর করে দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এ ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে চায় তাইওয়ানভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

প্রথম প্রান্তিকে ফাউন্ড্রির মোট ওয়েফার আয়ের ২০ শতাংশ এসেছে ৫ ন্যানোমিটারের প্রসেসর থেকে। ৭ ন্যানোমিটার প্রসেসরের অংশ ছিল ৩০ শতাংশ। ৭ ন্যানোমিটার কিংবা তার চেয়ে কম ন্যানোমিটারের প্রসেসর বিক্রি থেকে ৫০ শতাংশ আয় এসেছে টিএসএমসির। 

টিএসএমসির আয়ের ৪০ শতাংশ এসেছে স্মার্টফোন চিপ বিক্রি থেকে। এর আগের প্রান্তিকে যা ছিল ৪৪ শতাংশ। গাড়ির চিপ বিক্রি ছিল মোট চিপের ৫ শতাংশ। অঞ্চলভেদে টিএসএমসির সবচেয়ে বড় বাজার ছিল উত্তর আমেরিকা। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে ওয়েফার বিক্রি থেকে টিএসএমসির মোট আয়ের ৬৪ শতাংশ এসেছে উত্তর আমেরিকা থেকে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিক্রি হয়েছে ১৫ শতাংশ। চীনের অংশগ্রহণ ছিল ১১ শতাংশ।

চিপ শিল্পে নেতৃত্ব ধরে রাখতে চলতি বছরে বিভিন্ন অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে ৪ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে টিএসএমসি।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন বলছে, গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকেই শতভাগ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে শীর্ষ পাঁচ চিপ নির্মাতা কোম্পানি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লজিক চিপ উৎপাদনে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে টিএসএমসির। তবে বিভিন্ন কারখানায় যে নতুন বিনিয়োগ হয়েছে, তার ফল পেতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি দেখতে ২০২৪ সাল নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে।

তাইপে টাইমসের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পমেয়াদি শ্লথগতিতে চিপের দাম কমাবে না টিএসএমসি। বিনিয়োগকারীদের নিয়ে এক অনলাইন কনফারেন্সে টিএসএমসি সিইও সিসি ওয়েই বলেন, গ্রাহকরা কভিড-১৯ মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় মজুদ বাড়িয়েছেন। আকস্মিক কোনো সংকট কিংবা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কায় সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারাররা। চলতি বছরজুড়েই চাহিদা শক্তিশালী থাকবে বলে আশা করছে টিএসএমসি।