ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক স্মার্টফোনের বাজার পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনায় বাধা তৈরি করতে যাচ্ছে। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাজারজাত তূলনামূলক হারে কমেছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সমস্যা চলতি বছর প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিয়েছে। খবর টেকরাডার।
ক্যানালিসের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বে স্মার্টফোন বিক্রি হার ১১ শতাংশ কমেছে। ছুটির মৌসুমে যে মন্থরগতির চাহিদা ছিল চীনের লকডাউন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন এবং দেশে দেশে জীবনযাপন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেটিও প্রভাবিত হয়েছে।
কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশে জারীকৃত লকডাউন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিদ্যমান যন্ত্রাংশ ও সরবরাহ সংকটে ২০২০ ও ২০২১ সালে স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে। এ প্রভাব শেষে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে স্মার্টফোনের বাজারে ইতিবাচক ঘটনাও ঘটেছে। স্যামসাংয়ের রিফ্রেশড পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠানটিকে বাজারে তাদের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
অন্যদিকে আইফোন ১৩-এর চাহিদা থাকায় অ্যাপলের বাজার হিস্যা ১৫-১৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শাওমি, অপো ও ভিভো বিক্রির দিক থেকে শীর্ষ পাঁচে। ক্যানালিসের গবেষক সানইয়াম চৌরাশিয়া বলেন, বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও শীর্ষ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২২ সালের জন্য তাদের স্মার্টফোনের পোর্টফোলিও বাড়িয়েছে। আইফোন ১৩ সিরিজ ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করলেও মার্চে বাজারে আসা নতুন আইফোন এসই মিডরেঞ্জে অন্যতম প্রভাবক হয়ে উঠছে।
ক্যানালিসের মোবিলিটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোল পেং বলেন, প্রথম প্রান্তিকে অস্থির ব্যবসায়িক পরিবেশে বিশ্বের স্মার্টফোন বাজার অনেকটা পিছিয়ে ছিল। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে প্রযুক্তি বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হার দেখতে পেয়েছে। তবে হাসপাতালের ব্যবস্থা ও ভ্যাকসিন গ্রহণের উচ্চহার ভোক্তাদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ফিরতে সহায়তা করেছে।
ইউক্রেনে স্পেশাল অপারেশন নামে রাশিয়ার আক্রমণ, চীনের ক্রমাগত লকডাউন ও মূল্যস্ফীতির কারণে স্মার্টফোনের মৌসুমি চাহিদাও কমেছে। সিসিএস ইনসাইট পরিচালিত আলাদা এক জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে মোবাইলফোনের বাজার মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে। যেখানে স্মার্টফোনের বিক্রি মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। তবে এর মধ্যে ফাইভজি স্মার্টফোনের বিক্রি ৪৩ শতাংশ বাড়বে।
সিসিএস ইনসাইটের সিনিয়র গবেষক জেমস ম্যানিং বলেন, ২০২২ সালে সরবরাহ চেইন অস্থিতিশীল থাকলেও ছুটির চতুর্থ প্রান্তিকে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বিরূপ অর্থনৈতিক পরিবেশ ও চীনের লকডাউনে ভোক্তা পর্যায়ে স্মার্টফোন কেনার চাহিদাও কমে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, ২০২২ সাল খুবই কঠিন হবে। তবে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক অর্থনীতির উন্নতি স্মার্টফোনের বাজারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।










