ক্যাথেটার বা মূত্র নিষ্কাশন যন্ত্রের সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। চিকিৎসা খাতে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। এখন পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এর ব্যবহার হয়ে এলেও সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা রোবোটিক ক্যাথেটার তৈরি করেছেন। থেরাপির জন্য এটি মানবশরীরে প্রবেশ করানো যাবে বলে কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব মেশিনারি অ্যান্ড ম্যাটারিয়ালস (কেআইএমএম) সূত্রে জানা গেছে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।
ক্যাথেটার হলো একটি পাতলা টিউবসদৃশ চিকিৎসা যন্ত্র, যা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের জন্য শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যেসব রোগের চিকিৎসা করা হয়, সেখানে অস্ত্রোপচার ছাড়া চিকিৎসার জন্য ইন্টারভেনশনাল থেরাপি ব্যবহার করা হয়। কার্ডিওভাস্কুলার চিকিৎসায় এটি বেশি ব্যবহূত হয়।
কিম কু ইয়াংয়ের নেতৃত্বে কেআইএমএমের একদল গবেষক যে রোবোটিক ক্যাথেটার সিস্টেম তৈরি করেছেন, এটি দুটি দিকে ভাঁজযোগ্য এবং পরিচালনার জন্য আলাদা গাইডিং ক্যাথেটার রয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত মডেলটি একটি দিকে ভাঁজ করা যায়। গাইডিং ক্যাথেটার ব্যবহারের মাধ্যমে আরেকটি ক্যাথেটার অস্ত্রোপচারের জায়গায় প্রবেশ করানো সম্ভব। এতে দেহের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব মেশিনারি অ্যান্ড ম্যাটারিয়ালস জানায়, নতুন সিস্টেমে দুটি গাইডিং ক্যাথেটার রয়েছে। বাইরে থাকা ক্যাথেটারটি নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভেতরের ক্যাথেটার অস্ত্রোপচারের জায়গায় নিরাপদে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে সহজেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
রোবোটিক ক্যাথেটারটি গতানুগতিক ক্যাথেটারের স্প্রিংয়ের পরিবর্তে নরম ও আরামদায়ক টিউব ব্যবহার করে।
এতে রোগীর দেহের কোনো কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। কেআইএমএম জানায়, অ্যারিথমিয়া রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন রোবোটিক ক্যাথেটারে রেডিয়েশন এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রয়েছে।
কিম বলেন, রোবোটিক ক্যাথেটার তৈরি করতে পারায় এ অর্জন আমাদের জন্য অর্থবহ। এটি রেডিয়েশন এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্যাথেটার পরিচালনা ও ব্যবহার আরো সহজ করেছে।










