যুক্তরাষ্ট্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ন্যূনতম ডাউনলোড স্পিড প্রতি সেকেন্ডে ১০০ মেগাবিটসে উন্নীত করতে চায় ফেডারেল কমিউনিকেশস কমিশন (এফসিসি)। বর্তমানে দেশটিতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডাউনলোড স্পিড ২৫ এমবিপিএস এবং আপলোড স্পিড ৩ এমবিপিএস। খবর টেকটাইমস।
ইন্টারনেটের এমন গতির কারণে বর্তমানে এফসিসির প্রধান জেসিকা রোজেনওরসেল ইন্টারনেটের ন্যূনতম স্পিড বা গতি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। পিসি ম্যাগ প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, কমিশন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি বিদ্যমান ২৫ এমবিপিএস থেকে বাড়িয়ে ১০০ এমবিপিএসে উন্নীত করতে চাইছে।
এফসিসি প্রধান জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন সেটি যাচাইয়ে বার্ষিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে গতি বাড়ানোর এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেটের যে চাহিদা তা অনেক আগেই এফসিসির ২৫/৩ স্পিড মেট্রিক অতিক্রম করে গিয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান আরো বলেন, কভিড-১৯-এর মতো স্বাস্থ্যগত মহামারীর কারণে অনলাইনে যুক্ত থাকা ও ইন্টারনেটের চাহিদায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মানুষ গৃহবন্দি হতে বাধ্য হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বাসা থেকে পরিচালনা করতে হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে হয়েছে। এছাড়া পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমও ছিল ভিডিও কল। এসব কারণে গত দুই বছরে ইন্টারনেটের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখজনক হারে বেড়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ কমার পর যখন জীবনযাপন মহামারী-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে তখন পরিবর্তিত ধরনেই এগোতে হবে। এখনো হাইব্রিড কর্মপরিবেশের পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভিডিও কলিংয়ের গুরুত্ব রয়েছে।
টেলিকম্পিটিটরের এক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এফসিসি চেয়ারম্যান জানান, ডাউনলোডে ২৫ ও আপলোডে ৩ এমবিপিএসের যে স্পিড মেট্রিক বর্তমানে প্রচলিত এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ও ক্ষতিকর। কেননা এটি প্রত্যন্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষকে ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা দেয়। ফলে তারা যোগাযোগের বাইরে থাকে। এসব ঘটনা সত্ত্বেও এফসিসি কভিড-১৯ মহামারীর সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ন্যূনতম গতি বাড়ানোর উদ্যোগ হাতছাড়া করেনি। নিউ নরমাল জীবনযাপনকে আরো স্বাভাবিক করতে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বর্তমানে এ উদ্যোগ নিয়েছে।
পিসি ম্যাগ জানায়, ২০১৫ সালে এফসিসি শেষবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি বাড়িয়েছিল। তখনই কমিশন ডাউনলোডে ২৫ ও আপলোডে ৩ এমবিপিএস নির্ধারণ করেছিল, যা এখনো চলমান রয়েছে।










