কার্বণ নিঃসরণের মাধ্যমে পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এর অংশ হিসেবে নিজস্ব ডিভাইস তৈরিতে উপকরণের পুনর্ব্যবহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ব ধরিত্রী দিবস সামনে রেখে এ ঘোষণা দেয়া হয়। খবর দ্য ভার্জ ও অ্যাপল।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছর উপকরণের পুনর্ব্যবহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২১ সালে অ্যাপল সর্বোচ্চ পরিমাণ ব্যবহূত উপকরণের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন করেছে। সম্প্রতি ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। ধরিত্রী দিবস সামনে রেখে গ্রাহকদের জন্য নতুন কয়েকটি ফিচার নিয়ে আসার ঘোষণাও দিয়েছে অ্যাপল।

তথ্য বলছে, আইফোন ১৩ ও আইফোন ১৩ প্রো অ্যাপলের প্রথম কোনো ডিভাইস, যেটি তৈরিতে আগের বিভিন্ন ডিভাইস থেকে প্রাপ্ত স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। এসব স্বর্ণের প্রলেপ দিয়ে ডিভাইস দুটির লজিক বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রন্ট ও রিয়ার ক্যামেরার তারেও এসব স্বর্ণ কাজে লাগানো হয়েছে।

উপকরণ পুনর্ব্যবহারের এ প্রোগ্রামকে মাইলফলক হিসেবে দেখছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এর মাধ্যমে ব্যবহূত উপকরণ আলাদা করে তারা স্বর্ণের একটি সরবরাহ চেইন তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। অ্যাপলের রিসাইক্লিং রোবট ব্যবহূত এসব উপকরণ আলাদা করার কাজটি করে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব রোবট এক টন আইফোন থেকে যে পরিমাণ  স্বর্ণ ও তামা সংগ্রহ করে, তার মাধ্যমে অন্তত ২ হাজার টন পাথর খনন এড়ানো সম্ভব। এছাড়া একটি স্বর্ণ খনিতে এক টন উপকরণ থেকে যে পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া যায়, অ্যাপলের এক টন মুঠোফোন থেকে তার চেয়ে ৮০ গুণ বেশি স্বর্ণ সংগ্রহ করা সম্ভব বলেও জানায় অ্যাপল।

এদিকে তাজ নামে নতুন একটি নিজস্ব রিসাইক্লিং মেশিন সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে অ্যাপল। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ মেশিন অডিও মডিউল থেকে ম্যাগনেট আলাদা করে তা থেকে অনেক বেশি পরিমাণ কাঁচামাল পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম। এর আগে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি ডেইজি নামের একটি রিসাইক্লিং রোবট তৈরি করে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রকাশিত এনভায়রনমেন্টার প্রগ্রেস প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, কার্বন নিসঃরণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আশানুরূপ সাফল্য পাচ্ছে না অ্যাপল। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি চলতি দশকের মধ্যেই কার্বন নিঃসরণ ৭৫ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে উল্টো কার্বন নিঃসরণ বেড়ে যায়।

কোম্পানি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে দূষণের মাত্রা কমানোর চেষ্টা করেছিল। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠান নিঃসরণ ২ কোটি ২৫ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য রেখেছিল। উপকরণ সংরক্ষণ ও সেগুলো থেকে পণ্য উৎপাদনের কারণেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকে কার্বন নিঃসরণ হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাপল তাদের শত শত সরবরাহকারীকে ক্লিন এনার্জি ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদনে চাপ প্রয়োগ করেছে।

২০১৯ সালে অ্যাপল যে পরিমাণ পণ্য বাজারজাত করেছে, তার ৫৯ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম পুনর্ব্যবহারের উৎস থেকে এসেছে। কিছু পণ্যের শতভাগ অ্যালুমিনিয়ামও সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ পণ্য প্যাকেটজাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে অ্যাপল যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ২০২১ সালে প্যাকেটিংয়ে মাত্র ৪ শতাংশ প্লাস্টিক ব্যবহূত হয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্যাকেটজাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৭৫ শতাংশ কমিয়েছে।