চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক পিসি বিক্রি ১৫ শতাংশ কমে ৭ কোটি ২ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারীর ধাক্কায় ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি কমার পর তা সর্বনিম্ন মাত্রায় নেমে এসেছে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং চীনা লকডাউনে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়া পিসির চাহিদায় শ্লথগতি নিয়ে এসেছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নোটবুক বিক্রি ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা খাতে নোটবুকের চাহিদা কমার ফলে টানা তৃতীয় প্রান্তিক নোটবুক বিক্রি কমেছে। প্রায় সব সেগমেন্টে বিক্রি কমলেও ডেস্কটপ বিক্রি বেড়েছে। গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ডস্কটপ বিক্রি শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ইউনিটে। ধীরে ধীরে অর্থনীতি চালু হওয়ায় ডেস্কটপ পিসির বাণিজ্যিক চাহিদা বেড়েছে। সার্বিক পিসি বাজারে প্রিমিয়াম বাণিজ্যিক পিসি সেগমেন্ট ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল। স্পষ্টত অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালুতে প্রিমিয়াম পিসির চাহিদা বেড়েছে।

ক্যানালিসের বিশ্লেষক এমা সু জানান, চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দুই মাসের বেশি লকডাউনে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্পোৎপাদন ও পিসি রফতানি ব্যাহত হয়েছে। সাংহাই, কুনশান ও জিয়াংশুর কারখানা ও বন্দর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রধান পিসি বিক্রেতাদের পণ্য ডেলিভারিতে সমস্যা হয়েছে। মে মাসের শেষের দিকে উৎপাদন ও সমন্বয় স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরলেও পুরো দ্বিতীয় প্রান্তিকের উৎপাদনে তেমন প্রভাব রাখতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, দুই মাসের লকডাউনে চীনে লোকজনের চলাফেরায় বিধিনিষেধ থাকার ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ এ বাজারে পিসি বিক্রি লক্ষণীয়ভাবে কম ছিল।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বৈশ্বিক পিসি বাজারে শীর্ষ ব্র্যান্ড ছিল লেনোভো। চীনা কোম্পানিটির পিসি বিক্রি ১২ শতাংশ কমে ১ কোটি ৭৫ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ পাঁচ বিক্রেতার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন কোম্পানি এইচপি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের বিক্রি ২৮ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩৫ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ডেলের বিক্রি ৫ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩২ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ মার্কিন কোম্পানিটির বাজার হিস্যা ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য দুই কোম্পানি এসার ও আসুসের বিক্রি কমেছে যথাক্রমে ১৯ ও ৫ শতাংশ।

চলতি মাসের শুরুতে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের এক পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি বছরে বৈশ্বিক পিসি বিক্রি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমবে। পিসি বাজারের সব সেগমেন্টেই বিক্রি লক্ষণীয়ভাবে কমবে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটভিত্তিক সংস্থাটি। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে ক্রোমবুক সেগমেন্টটি। গত বছর ৩ লাখ ৪২ হাজার ইউনিট ক্রোমবুক বিক্রি হয়েছিল, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি ছিল। কিন্তু চলতি বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার ইউনিট ক্রোমবুক বিক্রির পূর্বাভাস গার্টনারের, গত বছরের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

গার্টনারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রঞ্জিত অ্যাটওয়াল বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চমূল্যস্ফীতি, মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইন সংকটের কারণে ভোক্তা ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পিসির চাহিদা কমেছে। চলতি বছরে ভোক্তা পিসি চাহিদা ১৩ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে।

অঞ্চলওয়ারি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় পিসি বিক্রি ১৪ শতাংশ কমবে। ভোক্তা চাহিদায় শ্লথগতিতে ২০২২ সালে এ অঞ্চলে রেকর্ড সর্বনিম্ন পিসি বিক্রি হবে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চীনা লকডাউনে যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটনায় এ অঞ্চলে ভোক্তা চাহিদায় প্রভাব পড়েছে।

২০২২ সালে বৈশ্বিক ডিভাইস বিক্রি (পিসি, ট্যাবলেট ও সেলফোন) ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে যাচ্ছে। বৃহত্তর চীন ও পূর্ব ইউরোপে বিক্রিতে দুই অংকের সংকোচন হতে পারে। চলতি বছরে সার্বিক ডিভাইস বিক্রি হতে পারে ১৯০ কোটি ৭০ লাখ, গত বছরের চেয়ে যা ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে।