ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে ফাইভজি প্রযুক্তিসংবলিত স্মার্টফোনের সফটওয়্যার আপডেটের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল ও স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। উচ্চগতির এ নেটওয়ার্ক গ্রহণে সেলফোন উৎপাদনকারীদের ওপর সরকার যে চাপ প্রয়োগের বিষয়ে ভাবছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ। খবর রয়টার্স।

কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানায়, তারা আইফোন ১৪, ১৩, ১২, এসইসহ সাম্প্রতিক সব মডেলের সফটওয়্যার আপডেট করবে। শিল্প খাত সূত্রের তথ্যানুযায়ী এসব ডিভাইসে বর্তমানে ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা নেই। সম্প্রতি দেয়া এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, ভারতের আইফোন ব্যবহারকারীদের ফাইভজি নেটওয়ার্কের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা প্রদান নিশ্চিতে তারা নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে কাজ করছে। নেটওয়ার্কের বৈধতা, গুণগত মান ও কর্মক্ষমতা যাচাই শেষে এটি সম্পন্ন করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ফাইভজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সক্ষমতা চালু করা হবে এবং ডিসেম্বর থেকে ব্যবহারকারীদের আইফোনের জন্য সেটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। ১ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে জাঁকজমকের মাধ্যমে ফাইভজি পরিষেবা চালু করেছে। এর মধ্যে রিলায়েন্স জিও দেশের চারটি শহর ও প্রতিযোগী ভারতী এয়ারটেল আটটি শহরকে ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে কাজ করছে।

অন্যদিকে স্যামসাংয়ের একজন মুখপাত্র জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ফাইভজি ডিভাইসগুলোতে এ আপডেট চালু করা হবে। এদিকে শাওমি ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট মুরালিকৃষ্ণান বি জানান, বর্তমানে তাদের স্মার্টফোনে এয়ারটেলের ফাইভজি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। সেই সঙ্গে চলতি মাসের শেষ দিকে অধিকাংশ ডিভাইসে জিওর ফাইভজি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট চালু করা হবে। অপো ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট তাসলিম আরিফ জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সব কার্যকর ডিভাইসে ফাইভজি সফটওয়্যার আপডেট চালু করবে। বিশেষ করে যেগুলোতে এরই মধ্যে এয়ারটেলের ফাইভজি নেটওয়ার্ক কাজ করে সেগুলোতে আরো আগে আনা হবে।

আগে ভারতে সামগ্রিকভাবে মোবাইলে ফাইভজি সফটওয়্যার উন্নতিতে বিভিন্ন সেলফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেয়ার কথা জানিয়েছিল ভারত সরকার। অ্যাপল, স্যামসাংসহ অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও এ তালিকায় রয়েছে। তবে সম্প্রতি চালু হওয়া কয়েকটি উচ্চগতির পরিষেবাসম্পন্ন মোবাইলের মডেল ফাইভজি সফটওয়্যার উন্নতির জন্য প্রস্তুত নয় বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে দেশটির প্রযুক্তিবাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।