ভারত সরকারের কনটেন্ট মুছে দেয়ার নির্দেশের সঙ্গে একমত নয় টুইটার। সরকারি নির্দেশনা চ্যালেঞ্জ করতে সম্প্রতি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে মাইক্রোব্লগিং সাইটটি। আইনি চ্যালেঞ্জে টুইটার বলছে, সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। খবর রয়টার্স।

ভারতে টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি ৪০ লাখ। নির্দিষ্ট কনটেন্ট মুছে দেয়ার সরকারি নির্দেশ না মানলে কঠোর পরিণামের হুমকি দিয়ে জুনেই টুইটার কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল ভারত সরকার। তারই প্রতিক্রিয়ায় টুইটার আদালতে শরণাপন্ন হয়েছে। পিটিশন দাখিল করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজিভ চন্দ্রশেখর। সব বিদেশী ইন্টারনেট প্লাটফর্মকে ভারতীয় আইন মানতে হবে বলে টুইট করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জুনেই ভারত সরকার টুইটারকে সতর্ক করে দিয়েছিল, কোম্পানিটির জন্য কনটেন্টে ব্লক করার নির্দেশ মানার এটাই শেষ সুযোগ। টুইটার ভারত সরকারের ওই হুমকির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

টুইটার বলছে, ভারত সরকারের নির্দেশগুলো দেশের আইনের সঙ্গে প্রক্রিয়াগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া সরকারি নির্দেশগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছে প্লাটফর্মটি। বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। কিন্তু সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাকাউন্টও আছে। বিজেপি সরকারের সঙ্গে টুইটারের রেষারেষি চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। টুইটার আদালতের শরণাপন্ন হওয়ায় নতুন মাত্রা পেল দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব।

জনবিশৃঙ্খলার আশঙ্কার দোহাই দিয়ে গত এক বছরে টুইটারকে বেশকিছু টুইট মুছে দিতে এবং অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে বলেছে ভারত সরকার। গত বছরের কৃষক আন্দোলন এবং সরকারের মহামারী মোকাবেলা কৌশলের সমালোচনা করেছে, এমন টুইট ও অ্যাকাউন্টগুলো নিয়েই আপত্তি তুলেছে ভারত সরকার। কৃষক আন্দোলনের সময়ে ভারতীয় সরকারের আইনি নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫০ অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিয়েছিল টুইটার। ব্লকড অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ছিল সংবাদমাধ্যম, অধিকারকর্মী ও আন্দোলনকারীদের সমর্থক অ্যাকাউন্ট। তবে ব্লক করার ৬ ঘণ্টার মাথায় অ্যাকাউন্টগুলো ফিরিয়ে এনে টুইটার বলেছিল, অ্যাকাউন্টগুলো ব্লক করে রাখার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ নেই।