তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পিয়ংইয়ংয়ের জন্য অর্থ হাতিয়ে নিতে এসব কর্মী তাদের আসল পরিচয় গোপন করছে বলে অভিযোগও করেছে দেশটি। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার অনেক কর্মী নিজেদের এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসী বলে পরিচয় দিচ্ছে। এসব কর্মী আন্তর্জাতিক বিধান লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নে সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ। কয়েক মাসে দেশটি একাধিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৭ সালের পর মার্চে উত্তর কোরিয়া একটি নিষিদ্ধ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানায়, উত্তর কোরিয়া তাদের হাজার হাজার প্রযুক্তি কর্মীকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে পাঠিয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নের জন্যই তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মী উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। খুব কমসংখ্যক কর্মী আফ্রিকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় রয়েছে। দেশটির কর্মীরা সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টসহ ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে চাকরি বা চুক্তি লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়ার কর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত উত্তর কোরিয়া সমর্থিত হ্যাকাররা অনলাইন গেম এক্সি ইনফিনিটি থেকে ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করার অভিযোগে ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রুপের এক আমেরিকান গবেষককে পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।