প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সাইবার হামলার ধরনেও পরিবর্তন আসছে। ফলে সিকিউরিটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার শনাক্ত আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। কেননা নতুন ম্যালওয়্যারগুলো এসব সিস্টেম এড়িয়ে যাওয়ার অধিক সক্ষমতা নিয়ে আসছে। খবর টেকরাডার।
সম্প্রতি ওয়াচগার্ড টেকনোলজিসের এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফাঁকি দেয়া ম্যালওয়্যারের সংখ্যা সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে এনক্রিপ্টেড সংযোগের মাধ্যমে প্রদত্ত প্রতি পাঁচটি ম্যালওয়্যারের মধ্যে চারটিই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। সামগ্রিকভাবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শনাক্তকৃত ম্যালওয়্যার এনক্রিপ্টেড সংযোগের মাধ্যমে এসেছে। যার মধ্যে ৭৮ শতাংশই সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে সিস্টেমে প্রবেশে সক্ষম।
প্রতি প্রান্তিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া ম্যালওয়্যারের পরিমাণ বাড়তে থাকায় বিপজ্জনক একটি কাঠামো তৈরি হচ্ছে। ওয়াচগার্ড টেকনোলজিস জানায়, ফায়ারওয়ালের সাহায্যে আসন্ন ট্রাফিক স্ক্যান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশের আগেই এ ধরনের ম্যালওয়্যারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া সম্ভব।
দুর্ভাগ্যবশত অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সিস্টেম ও পরিষেবার নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে। সেসঙ্গে হামলার শিকার নেটওয়ার্কের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তিন বছরের সাইবার কার্যক্রমের ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ম্যালওয়্যার হামলা শনাক্ত হয়েছে, যা প্রান্তিকের হিসাবে ৩৯ শতাংশ বেশি। হামলার পরিমাণ বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত দুর্বল জায়গাগুলোয় হ্যাকারদের হামলার বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছে। দ্বিতীয় কারণ বিজনেস নেটওয়ার্কের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। বেশি নেটওয়ার্কের কারণে দুর্বল জায়গার পরিমাণও বাড়ছে।
ওয়াচগার্ডের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিএসও) কোরি নাচরিনার জানান, রিমোট ওয়ার্কিং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা বাড়াচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের অন্যতম উপায় সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ। বর্তমানে যে হারে ম্যালওয়্যার হামলার পরিমাণ বাড়ছে, সেটি নিরসনে হোম নেটওয়ার্ক, মোবাইল ডিভাইস ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। যেটি ক্রমবর্ধমান সাইবার হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
কোরি নাচরিনার বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেটওয়ার্ক সিস্টেমের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণের মতো সাধারণ কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।










