ভারতে নিজেদের সর্বশেষ স্মার্টফোন মডেল আইফোন ১৩ উৎপাদন শুরু করেছে অ্যাপল। তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে ফক্সকনের কারখানায় সম্প্রতি আইফোন ১৩ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল এক ঘোষণায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি। খবর গিজমোচায়না।
পরীক্ষামূলকভাবে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারতে আইফোন ১৩ উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে কিন্তু তা এপ্রিল নাগাদ বন্ধ থাকে।
অ্যাপল যখন ভারতে আইফোন ১২ উৎপাদন শুরু করে তখন তার দাম ১৪ হাজার রুপিতে (১৮৫ ডলার) নেমে আসে। আইফোন ১৩ ফোনটিও গ্রাহকরা সুলভ মূল্যে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে অ্যাপলের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট। ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া ও অন্যান্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচির ফলে সেখানে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি। ভারতে আইফোন তৈরিতে ফক্সকন ও উইস্ট্রনের সঙ্গে চুক্তি করেছে অ্যাপল। এছাড়া চলতি মাসে ভারতে আইফোন ১২ উৎপাদন শুরু করবে তাইওয়ানভিত্তিক পেগাট্রন। ভারতে স্মার্টফোন উৎপাদন চাঙ্গায় ২০২০ সালে ১৬টি কোম্পানির জন্য প্রডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই) পরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
উল্লেখ্য, আইফোন ১৩ সিরিজ হলো অ্যাপলের লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন লাইনআপ; যা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে লঞ্চ হয়েছিল। তবে এমনিতে মার্কেটে এ সিরিজের প্রতিটি মডেল কেনা গেলেও ভারতে সব আইফোন ১৩ মডেল তৈরি হবে না। ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল ভারতে শুধু রেগুলার আইফোন ১৩ মডেল তৈরি করছে। বিশেষ কিছু কারণে আইফোন ১৩ প্রো মডেলগুলো ভারতে তৈরি করা হচ্ছে না। অবশ্য আইফোন ১৩ সিরিজের ক্ষেত্রেই নয়, এর আগে আইফোন ১২ ও আইফোন ১১ সিরিজের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল।
ভারতের স্মার্টফোন বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ শক্তিশালী অবস্থান করে নিয়েছে অ্যাপল। ২০২১ সালে ৫৪ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রির মধ্যে ১০৮ শতাংশ বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি করেছে। চতুর্থ প্রান্তিকের উৎসব মৌসুমেই বিক্রি হয়েছে ২২ লাখ আইফোন।
গত বছর ভারতে অ্যাপলের বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২০ সালে যা ছিল মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২২ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বাজার হিস্যার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে অ্যাপল।
অ্যাপল কর্তৃক গৃহীত এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়, স্থানীয় উৎপাদনের ওপর আরো ভালোভাবে মনোনিবেশ করে সংস্থাটি তার সরবরাহ চেইনের ওপর আরো ভালো নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি ভারতের স্মার্টফোন মার্কেটে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে তুলতে চাইছে।










