টুইটারে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে বির্তকের রেশ না কাটতেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ১১ হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এক ব্লগ পোস্টে ছাঁটাইয়ের এ ঘোষণা দেন। খবর এনডিটিভি।
গত ১৮ বছরের মধ্যে এটাই মার্ক জাকারবার্গের কোম্পানির সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা। চলতি বছর মেটার শেয়ার কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া অক্টোবরে আয়ের পূর্বাভাসে ছুটির মৌসুমে প্রতিষ্ঠানটির আয়ে মন্থরগতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী বছর ব্যয় বাড়ার কারণে মেটার স্টক মার্কেট ভ্যালুর ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার খরচ হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়েই অনেক ক্ষেত্রে খরচেও লাগাম টেনেছেন জাকারবার্গ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ গণছাঁটাই হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্থরগতির প্রবৃদ্ধি, টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, গোপনীয়তা নীতিমালায় অ্যাপলের পরিবর্তন, মেটাভার্সে অত্যধিক ব্যয় ও আইনের কারণে মেটার আয় কমেছে। শুধু মেটা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিও একই পথে হাঁটছে। এরইমধ্যে ইলোন মাস্ক টুইটার থেকে অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্লগ পোস্টে মার্ক জাকারবার্গ বলেন, আজ আমি মেটার ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের টিমের আকার ১৩ শতাংশ কমিয়ে নেয়ার। এতে মেধাবী কর্মীদের মধ্যে থেকে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে মেটার চাকরি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
জাকারবার্গ আরো বলেন, কোম্পানিকে আরো কার্যকর করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যয় কমানো এবং নতুন নিয়োগ না করার সময়সীমা বৃদ্ধি।
মেটা জানিয়েছে, ছাঁটাইকৃত কর্মীরা ১৬ সপ্তাহের মৌলিক বেতন এবং প্রতি বছর কাজের জন্য অতিরিক্ত দুই সপ্তাহের বেতন পাবেন। ছয় মাসের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ও পাবেন কর্মীরা।
২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠার পর এটিই কোম্পানিটির বৃহত্তম কর্মী ছাঁটাই। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন আয়ের পতন এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রকল্প মেটাভার্সে বিনিয়োগে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ার ফলে কোম্পানিটির আয় কমেছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়।
গত সপ্তাহে ইলন মাস্ক টুইটারের প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছেন।রতে টুইটারের প্রায় পুরো টিমই ছাঁটাই করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নতুন মালিক ইলন মাস্ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস ও দ্য মিন্টের খবরে এ তথ্য জানানো হয়। জানা গিয়েছে, ভারতে টুইটারের ২৩০ জনের মতো কর্মী থেকে প্রায় ১৮০ জনকেই চাকরিচ্যুত করা হয়।স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠানও ঘোষণা দিয়েছে তারা তাদের কর্ম শক্তির ২০ শতাংশ কমাবে।










