প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ে টুইটার ক্রয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন ইলোন মাস্ক। মাইক্রোব্লগিং সাইটটিকে মুক্তমতের প্লাটফর্ম হিসেবে তৈরিতে নিজের স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) । এদিকে টুইটারের শীর্ষ বিনিয়োগকারী সৌদি যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালাল এ প্রস্তাবের স্পষ্ট বিরোধিতা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
টুইটারের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তম শেয়ার মালিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই একের পর এক নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছেন মাস্ক। তিনি টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। কয়েক দিন আগে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন ইলোন। সেই ঘটনাপ্রবাহে এবার নতুন চমক সৃষ্টি করে পুরো প্রতিষ্ঠানই কিনে নেয়ার প্রস্তাব করে বসেছেন মাস্ক।
শেয়ার কেনার আগে বিভিন্ন সময় টুইটারের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্লাটফর্মটিতে আট কোটি অনুসারীর এ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। বিভিন্ন সময়ে প্লাটফর্মটিকে ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগও আছে। সেই মাস্ক এখন বলছেন, টুইটারে ইতিবাচক ও কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন হতে হবে।
মাস্ক টুইটার কেনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছেন বৃহস্পতিবার। এতে টুইটারের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ৫৪ ডলার ২০ সেন্ট করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। মাস্কের প্রস্তাবিত শেয়ারমূল্য ১ এপ্রিল টুইটার শেয়ারমূল্যের ওপর ৩৮ শতাংশ প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সপ্তাহের শুরুতেই টুইটারের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন মাস্ক। পরিচালক পদে যোগ দিলে সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ শেয়ার মালিকানার সীমাবদ্ধতায় পড়তেন তিনি। মাস্ক সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই জোর শঙ্কা ছিল, সব শেয়ার কিনে নিয়ে টুইটারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারেন তিনি।
টুইটার ক্রয়ের প্রস্তাব প্রসঙ্গে টুইটার চেয়ারম্যান ব্রেট টেইলরকে লেখা এক চিঠিতে মাস্ক বলেছেন, বিনিয়োগের পর আমার উপলব্ধি, বর্তমান কাঠামোয় কোম্পানিটি উন্নতি লাভ কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণ কোনোটিই ভালোভাবে করতে পারবে না। একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর প্রয়োজন টুইটারের। এটাই আমার সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত প্রস্তাব এবং এটি যদি গ্রহণ করা না হয়, তবে আমি শেয়ার মালিক হিসেবে নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করব।
মাস্কের প্রস্তাবে সৌদি যুবরাজ বলেন, প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা বিবেচনা করে টুইটারের যে বাজারমূল্য দাঁড়ায়, মাস্কের প্রস্তাব তার থেকে অনেক দূরে।
টুইটারের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তাদের জবাব ছিল, মাস্কের প্রস্তাবটি তারা খতিয়ে দেখবে। এদিকে টেড টকের প্রধান ক্রিস্টোফার অ্যান্ডারসনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে মাস্ক বলেন, আমি নিশ্চিত নই টুইটার অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হব কিনা। তার হাতে ‘প্ল্যান বি’
আছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট কিছু জানাননি মাস্ক।
সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে মাস্ক ২০০৯ সালে টুইটারে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে টুইটারে তার ফলোয়ার সংখ্যা আট কোটিরও বেশি। বিভিন্ন সময়ে টুইটারকে বড় ঘোষণার প্লাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করেছেন তিনি।










