প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পশ্চিমা দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। সম্প্রতি লন্ডনে এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধানরা এ অভিযোগ করেছেন। খবর টেকটাইমস।
ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক ক্রিস রে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক দিয়ে বলেন, প্রতিযোগিতা পূর্ণ বাজারে সুবিধা পেতে বেইজিং তাদের প্রযুক্তি চুরির জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের এমআই৫-এর পরিচালক কেন ম্যাককালাম দাবি করেন, চীন সরকার বিশ্বজুড়ে গোপনে যে চাপ তৈরি করছে, তা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয়।
আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে চীন নিরাপত্তা সংস্থা দুটির দাবি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে এবং এটিকে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে খারাপ করার প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লন্ডনের টেমস হাউজে প্রথমবারের মতো ম্যাককালাম ও রে যৌথ বিবৃতিতে দিয়েছে। সেখানে সরকারি প্রতিনিধি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৮ সালের তুলনায় বর্তমানে এমআই৫ সাত গুণ বেশি তদন্ত পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন ম্যাককালাম। রাশিয়া ও ইরান থেকে গোপনে যেসব হামলা পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, সেগুলো দমনে সংস্থাটি সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ম্যাককালাম আরো অভিযোগ করে বলেন, চীনের গুপ্তচররা ধীরে ধীরে তাদের সূত্রগুলো তৈরি করে। যাতে তারা সুবিধাজনকভাবে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। আর হাতেগোনা খুব অল্পসংখ্যক মানুষই তাদের তথ্য চুরির বিষয়টি জানতে পারে।
তিনি বলেন, টেমস হাউজে দেয়া যৌথ বিবৃতি প্রদান অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আগ্রাসনের হুমকির মুখে রয়েছেন। কেননা তাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য, প্রযুক্তি, গবেষণা মাধ্যম ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামর্থ্য রয়েছে। ম্যাককালাম যে বিবৃতি দিয়েছেন—ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালকও একই কথা বলেছেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে সংস্থা দুটি চীনের প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্র দেশগুলোর জন্য জটিল, দীর্ঘস্থায়ী ও বড় ধরনের বিপদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ক্রিস রে জানান, চীন পশ্চিমা প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে। সেটা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক পরিধি কমানোর জন্য হোক বা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের। চীনের রাষ্ট্র সমর্থিত সাইবার হামলা প্রকল্প বিশ্বের অন্য বড় দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার চেয়েও বেশি।
অস্ট্রেলিয়ান মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্টারনেট ২.০-এর সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রবার্ট পটার বলেন, চীনের হুমকির বিষয়ে সাধারণ মানুষ যে অবগত এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল জাজিরাকে দেয়া এক বিবৃতিতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও অস্ট্রেলিয়ায় মাইক্রোসফটের অঞ্চলভিত্তিক পরিচালক ট্রয় হান্ট বলেন, অনলাইনে চীনের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ জনগণের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। যেকোনো বিষয়ে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে যে ঘোষণা এসেছে, সে বিষয়েও রে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ থেকে চীন হয়তো শিক্ষাগ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কাটানোর জন্য তাদের অর্থনীতি মজবুত করার উপায় খুঁজছে। চীন যদি তাইওয়ানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে সেটি বৈশ্বিক ব্যবসা ও শিল্প খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তবে লন্ডনে অবস্থিত চীন দূতাবাস এ দুই প্রধানের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে দিয়েছে।










