ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিপ শিল্পে বিনিয়োগ করতে চায় তাইওয়ান। এর মধ্য দিয়ে ব্লকটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ইচ্ছা পোষণ করেছে তাইপে। গতকাল দেশটির উপ-অর্থমন্ত্রী চেন চার্ন-চাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন।

তথ্য বলছে, চীনের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে দেশটি রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে তাইওয়ানকে অব্যাহত চাপের মুখে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে কাগজে-কলমে কূটনৈতিক সম্পর্কের অনুপস্থিতিতেই বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রতি মনোযোগ বাড়াচ্ছে তাইপে।

উপ-অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছে, ঠিক তেমনিভাবেই ইইউর সঙ্গেও মৈত্রী স্থাপন করতে চায় তাইপে। দেশের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো অঞ্চলটিতে বিনিয়োগ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের পথ অনেকটাই সহজ হবে।

চলমান বৈশ্বিক চিপ সংকট মোকাবেলায় জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইইউ। এক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ চিপ উৎপাদক দেশ তাইওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ব্লকটিও। সংকট নিরসনে গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউরোপিয়ান চিপস অ্যাক্টের অধীনে তাইওয়ানকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দিয়েছে ইইউ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ অ্যাক্ট গৃহীত হয়।

গত মাসে তাইওয়ান ও ইইউর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি বাণিজ্যিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড (টিএসএমসি) জানায়, ইউরোপে চিপ উৎপাদন কারখানা নির্মাণের নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই প্রতিষ্ঠানটির। অথচ এক বছর আগে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, জার্মানিতে সম্ভাব্য ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পর্যালোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছে টিএসএমসি।

তবে সম্প্রতি তাইওয়ানের উপ-অর্থমন্ত্রী চেন চার্ন-চাই বলেন, চিপ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে আমার কথা বলার সুযোগ নেই। তার পরও বলছি, এখন পর্যন্ত ইউরোপে বিনিয়োগ থেকে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি তাইওয়ানের কোম্পানিগুলো।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, অংশীদারত্বের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ আমাদের সমভাবাপন্ন। আমাদের কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বৈশ্বিক অঙ্গনে পদচিহ্ন রাখলে আমরা খুশি হব।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে টিএসএমসি ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণ করছে। এছাড়া গ্লোবালওয়েফারস দেশটিতে ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি প্লান্ট তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতোই ইইউর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় তাইপে।