ক্লাউড পরিষেবা খাতে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান বাজার ধরতে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে প্রযুক্তি জায়ান্টদের মধ্যে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ডাটা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা লক্ষণীয়। সম্প্রতি গুগল ক্লাউড জানায়, কোম্পানির দ্রুত সম্প্রসারমান একটি বাজার হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে তারা ডাটা সেন্টারের সংখ্যা আরো বাড়াবে।

দ্য ন্যাশনালকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে গুগল ক্লাউডের শীর্ষ নির্বাহী টমাস কুরিয়ান বলেন, আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কুয়েতসহ কয়েকটি অঞ্চলে ডাটা সেন্টার চালু করব। সৌদি আরব ও কাতারে আগে থেকেই আমাদের ডাটা সেন্টার ছিল। সম্প্রতি ইসরায়েলেও নতুন একটি ক্লাউড অঞ্চল চালু হয়েছে এবং আরো কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিটি ক্লাউড অঞ্চলে গুগলের সাধারণত তিনটি ডাটা সেন্টার থাকে। সৌদি আরব, কাতার ও ইসরায়েলে তিনটি করে ডাটা সেন্টার রয়েছে। তবে কোম্পানিটি মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে ঠিক কী পরিমাণ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে তা উল্লেখ করেনি।

এ সম্পর্কে টমাস কুরিয়ান আরো বলেন, আমরা আমাদের বিনিয়োগের পরিসংখ্যান প্রকাশ করি না। তবে আপনারা অনুমান করতে পারেন যে প্রতিটি ক্লাউড অঞ্চলে শতকোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদি ও বহু বছরের। গুগল যখন কোনো অঞ্চরে ডাটা সেন্টার তৈরি করে, তখন তা মূলত কয়েকটি আলাদা স্তরের প্রকল্প হয়, নিঃসন্দেহে যা একটি বড় বিনিয়োগ।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন তথ্য ভাণ্ডার স্থাপন মূলত বিশ্বব্যাপী গুগলের ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ। বর্তমানে ১০৬টি ডাটা সেন্টারসহ ৩৫টি ক্লাউড অঞ্চল রয়েছে অ্যালফাবেট নিয়ন্ত্রণাধীন এ প্রতিষ্ঠানের।

এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য গুগল ক্লাউডের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অঞ্চল হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটি তাই আঞ্চলিক পরিসরে তাদের উপস্থিতি প্রসারিত করতে আগ্রহী। পাঁচ বছর ধরে আঞ্চলিক সম্প্রসারণপ্রবণতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান গুগল নির্বাহী।

এদিকে দ্বিতীয় ক্লাউড অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস (এডব্লিউএস) সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। অন্যান্য প্রতিযোগীর মধ্যে রয়েছে আইবিএম ও আলিবাবা, যারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত আরব অঞ্চলে তাদের নিজস্ব ডাটা সেন্টার স্থাপন করছে।

জি২০ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি হচ্ছে সৌদি আরব। ধারণা করা হচ্ছে দেশটি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ হয়ে উঠবে। তাই এখানে গুগলের ব্যবসা ক্রমাগত বাড়বে বলে মনে করেন কুরিয়ান। তিনি বলেন, আমরা অবশ্য সেই প্রবণতাটিই দেখতে পাচ্ছি।

ক্লাউড অঞ্চল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো সংস্থাগুলো তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামো বিকাশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের অনুসারে, বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং বাজারের মূল্য গত বছর ৩৬ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় ১৬ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়বে, যার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে মেশিন লার্নিংসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

আমেরিকান গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বব্যাপী পাবলিক ক্লাউড পরিষেবা বাবদ ব্যয় চলতি বছর বার্ষিক ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। কারণ কভিড-পরবর্তী ব্যবসার ডিজিটাল রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে।

তাছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিল্প ও সরকারি সংস্থা। সেপ্টেম্বরে এ-সম্পর্কিত ৫৪০ কোটি ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করেছে গুগল।