আহমদ শাহ
আবদালি কিংবা
আহমদ শাহ
দুররানি বললে
উপমহাদেশীয় পাঠকের
জন্য চিনতে
সুবিধা বেশি।
কিন্তু আফগানিস্তানে
তিনি আহমদ
শাহ বাবা
কিংবা বাবা-ই-আফগান।
আধুনিক আফগানিস্তানের
তিনিই জনক।
১৭৪৭ সালে
আফগান লয়া
জিরগার অনুমোদন
নিয়ে তিনি
যখন রাজা
হলেন, তখনকার
প্রথা অনুযায়ী
‘শাহ
দুর-ই-দুরান’
খেতাব গ্রহণ
করেন। এর
মানে ‘বাদশাহ,
মুক্তোর সেরা
মুক্তো’।
নিজের নামের
আবদালির স্থলাভিষিক্ত
হলো দুররানি।
কান্দাহার তার
রাজধানী। আফগানিস্তানের
দুররানি রাজবংশের
সূচনা তাকে
দিয়েই।
আহমদ শাহ
দুররানি কবিতাও
লিখতেন। তার
দেশপ্রেমের কবিতা
এত বছর
পরও উদ্ধৃত
হয়:
রক্তের বন্ধনে
আমরা তোমার
ভালোবাসায় নিমগ্ন
তোমার জন্য
যুবকরা তাদের
শির কোরবান
করেছে
আমি তোমার
কাছে আসি,
আমার অন্তর
বিশ্রাম পায়
যখন তোমার
কাছ থেকে
দূরে
যাতনা আমার
কণ্ঠ সাপের
মতো জড়িয়ে
রাখে
আমি দিল্লির
সিংহাসনের কথা
ভুলে যাই—
যখন আমার
মনে পড়ে
সুন্দর পাকতুনখাওয়ার
পর্বত শিখরের
কথা
যদি আমাকে
পৃথিবী আর
তোমার মধ্যে
একজনকে বেছে
নিতে হয়
আমি নির্দ্বিধায়
তোমার শূন্য
বিরাণ মরু
প্রান্তর
আমার নিজের
বলে দাবি
করব।
আমি যখন
বিজয়ী হয়ে
ছুটে বেড়াই
ফিরে আসে
হামিদ ও
ফরিদের কালের
ঐতিহ্য
এমনকি সারা
পৃথিবী জয়
করলেও
আহমদ শাহ
তোমার উত্তরাধিকার
ভুলবে না
যদি কোনো
হাতে গোটা
বিশ্ব চলে
আসে
আমি চাইব
তোমার শূন্য
ও নগ্ন
মরুভূমি।
(আর নাজারির
ইংরেজি অনুবাদ
থেকে ভাষান্তরিত)
আহমদ শাহ
দুররানির উত্থান
আহমদ
শাহর জন্ম
১৭২২ সালে
একালের আফগানিস্তান,
সেকালের হোটাক
রাজ্যে কিংবা
এখনকার পাকিস্তানের
মুলতানে। তার
পিতা মোহাম্মদ
জামান খান
ছিলেন আবদালি
গোত্রের প্রধান
ও হেরাতের
গভর্নর এবং
মা জারগুনা
আনা পশতুভাষী
গোত্রের। ১৭২৯
সালে আহমদ
শাহর বড়
ভাই জুলফিকারের
নেতৃত্বাধীন বাহিনী
পারস্যের পরাক্রমী
সম্রাট নাদির
শাহর কাছে
আত্মসমর্পণ করতে
বাধ্য হয়।
কিন্তু অচিরেই
দুই ভাই
আবার বিদ্রোহী
হয়ে হেরাত
পুনরুদ্ধার করেন,
সেই সঙ্গে
মাশাদও। ১৭৩০
সালে আহমদ
শাহ নাদির
শাহর ভাই
ও সেনাপতি
ইব্রাহিম খানকে
পরাস্ত করেন।
জুলফিকার নিজ
প্রদেশের রাজধানী
ফারাহতে চলে
যান। ১৭৩২
সালে বিপুলসংখ্যক
সৈন্য নিয়ে
ইব্রাহিম খান
ফারাহ আক্রমণ
করেন ।
তার সঙ্গে
কুলিয়ে উঠতে
পারবে না
বিবেচনা করে
দুই ভাই
পালিয়ে কান্দাহার
চলে যান
এবং সেখানকার
খিলজি শাসকদের
কাছে রাজনৈতিক
আশ্রয় প্রার্থনা
করেন। কিন্তু
তারা সেখানে
রাজনৈতিক বন্দি
হয়ে পড়েন।
নাদির শাহ
তখন তার
সেনাবাহিনীতে আবদালিদের
নিয়োগ করতে
শুরু করেছেন।
তিনি কান্দাহার
অধিকার করে
এ দুই
ভাইকে কেবল
মুক্তিই দিলেন
না, জুলফিকারকে
মাজানদারানের গভর্নর
করে পাঠালেন
আর আহমদ
শাহকে রেখে
দিলেন নিজের
কাছে, ব্যক্তিগত
পরিচারক হিসেবে।
তিনি কান্দাহার
থেকে খিলজিদের
বিতাড়িত করে
আবদালি ও
কিজিলবাসদের সেখানে
বসদি গড়ার
অনুমোদন দিলেন।
আহমদ শাহর
ব্যক্তিত্ব, সাহস
ও আনুগত্য
নাদির শাহ
পছন্দ করলেন
এবং বলা
হয়ে থাকে
নাদির শাহ
বলেছিলেন, আমার
পরে বাদশাহী
তোমার (আহমদ
শাহ) কাছেই
যাবে।
১৭৪৭ সালে
একটি সম্মিলিত
ষড়যন্ত্রে নাদির
শাহ নিহত
হলে আহমদ
শাহ গোটা
পারস্যের কথা
না ভেবে
বরং তাদের
ছেড়ে নিজেকে
স্বাধীন কান্দাহারের
রাজা ঘোষণা
করলেন, দুররানি
খেতাব নিলেন
এবং ধীরে
ধীরে সামরিক
শক্তি সঞ্চয়
করতে থাকলেন।
শুরুটা কালাত
দখল দিয়ে,
তারপর গজনি,
কাবুল, পেশোয়ার
হয়ে সিন্ধু
নদ পর্যন্ত
বিশাল এলাকা।
১৭৫০ সালে
হেরাত এবং
১৭৫২ সালে
কাশ্মীর দখল
করলেন। দখলে
আসা সব
জায়গায় প্রশাসন
তুলে দিলেন
গভর্নরের হাতে।
তিনি এতটাই
শক্তিশালী হয়ে
উঠলেন যে
তিনি ভারত
সম্রাটের জন্যও
আতঙ্কের কারণ
হয়ে উঠলেন।
৮ বার ভারত
আক্রমণ
১৭৪৮
থেকে ১৭৬৭-এর
মধ্যে তিনি
আটবার ভারত
আক্রমণ করেন।
নাদির শাহ
১৭৩৯ সালে
যখন দিল্লি
আক্রমণ করে
মোগলদের নাস্তানাবুদ
করে ময়ূর
সিংহাসন, কোহিনূর
থেকে শুরু
করে অজস্র
মূল্যবান সামগ্রী
লুটে নেয়,
সেই অভিযানে
আহমদ শাহ
তার সঙ্গী
ছিলেন। ফলে
ভারত সম্রাটের
দুর্বল জায়গাগুলোর
সঙ্গে তিনি
পরিচিত ছিলেন।
১৭৪৮ সালে
প্রথম অভিযানের
সময় মানপুর
যুদ্ধে তিনি
পরাজিত হন।
মোগলদের পাশে
দাঁড়ায় শিখদের
একাংশ।
১৭৪৯ সালে
দ্বিতীয় অভিযানে
আফগান রাজত্ব
সিন্ধুর পশ্চিম
প্রান্ত পর্যন্ত
বিস্তৃত হয়।
তিনি মুলতানের
নবাবের সঙ্গে
আঁতাত করেন।
তৃতীয় অভিযানে
১৭৫২ সালে
শিখ ও
মারাঠা শক্তি
দিল্লিকে সহায়তা
করতে যোগ
দেয়। মুলতান
তার অধিকারে
চলে আসে।
চতুর্থ অভিযান
১৭৫৬ সালে,
এবার তার
ছেলে তৈমুর
শাহ দুররানি
যোগ দেন।
তিনি পাঞ্জাবের
বিধবা রানী
মির মন্নুর
স্ত্রী মুঘলানি
বেগমের আহ্বানে
এতদূরে আসেন
এবং লাহোর,
সিরহিন্দ, দিল্লি,
মথুরা, বৃন্দাবন
দখলে নেন
এবং বহু
নারীর সঙ্গে
সম্রাট মুহাম্মদ
শাহ আলমের
কন্যাদেরও দাস
হিসেবে নিয়ে
যান। এ
সময় মারাঠারা
আফগানদের কাছ
থেকে লাহোর
ছিনিয়ে নেয়।
মারাঠা শাসনে
হিন্দু আধিপত্য
থেকে রেহাই
পেতে লাহোরের
কাজি আহমদ
শাহকে আমন্ত্রণ
জানান।
পঞ্চম অভিযানে
বেশ ক’টি
যুদ্ধ হয়—লাহোরের
যুদ্ধ, বারই
ঘাটের যুদ্ধ,
সিকান্দারবাদ যুদ্ধ,
কুঞ্জপুর যুদ্ধ,
গুজরানওয়ালা যুদ্ধ,
শিয়ালকোট যুদ্ধ
এবং লাহোর
যুদ্ধ এবং
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
পানিপথের তৃতীয়
যুদ্ধ। মারাঠাদের
পরাজয়ে দিল্লি,
পাঞ্জাব, লাহোর,
মুলতান ও
আটক আফগানদের
দখলে চলে
আসে। তাদের
আগ্রহ সার্বভৌমত্ব
নয় সম্পদ।
ষষ্ঠ অভিযানে
আফগানরা বিদ্রোহী
নাগা সাধুদের
মথুরাতে সম্পূর্ণ
পরাজিত করে।
সপ্তম অভিযানে
চারটি যুদ্ধ
হয়, শিখরা
লাহোর দখল
করে নেয়,
বহুসংখ্যক আফগান
নিহত হয়।
কিন্তু এর
পর পরই
পুনরায় আক্রমণ
করে দুই-তৃতীয়াংশ
শিখকে হত্যা
করে।
অষ্টম ও
শেষ আক্রমণ
১৭৬৪ সালে
শিরহিন্দ যুদ্ধ।
এতে শিখরা
বিজয়ী হয়।
আফগানিস্তানে বিদ্রোহ
দমনে তাদের
ছুটতে হয়।
ফলে আর
প্রতিশোধ নেয়া
হয়নি।
নিষ্ঠুর না
মানবিক
কায়কোবাদের
(১৮৫৭-১৯৫১)
মহাকাব্য মহাশ্মশানের
কাহিনী পানিপথের
তৃতীয় যুদ্ধ
ঘিরে প্রণীত।
১৯০৪ সালে
প্রকাশিত হওয়ার
পরপরই কায়কোবাদ
মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের
বিরূপ সমালোচনার
সম্মুখীন হন।
তাদের দাবি
কায়কোবাদ বিজয়ী
মুসলিম বীর
আহমদ শাহ
আবদালি ও
তার সৈন্যবাহিনীর
ওপর নির্মমতা
চাপিয়ে দিয়েছেন।
যেমন—
‘স্থানে
স্থানে ভীমবাহু
দুরানী সৈনিক
বন্দি মাহরাষ্ট্রীবৃন্দে
কাটিতে লাগিল
তীক্ষ্ম অস্ত্রে;
স্থানে স্থানে
শিবির সম্মুখে
স্তূপাকারে শবরাশি কি দৃশ্য ভীষণ!’
তাদের ভাষ্য
‘কায়কোবাদ
সাহেব অপ্রকাশ্যভাবে
(ইনডিরেক্টলি) মারাঠাদিগের
লুণ্ঠনাদির এবং
শেষে অস্ত্রধারণের
ন্যায়সংগত হইয়াছিল
বলিয়া সাব্যস্ত
করিতেও ত্রুটি
করেন নাই।’
মহাশ্মশানের আলোচনায়
ফজলুর রহমান
খাঁ (নবনূর,
মাঘ ১৩১২)
লিখেছেন, ‘মারাঠাগণ
পার্বত্য প্রদেশে
ধণরত্ন-লালসাথ
লুণ্ঠনাদি করিয়া
এবং শেষে
রাজক্ষমতা লাভের
আকাঙ্ক্ষায় অস্ত্রধারণপূর্বক
তত্কালীন কথাঞ্চিত
হীনপ্রভ দিল্লির
রাজশক্তি বিনাশের
চেষ্টা করিয়া
ন্যায় ও
ধর্ম্মের বিরুদ্ধে
কাজ করিয়াছে
এবং আংশিক
রাজদ্রোহিতা পাপে
কলঙ্কিত হইয়াছে।
অতিশয় বাড়িলেই
পতন হয়।’
মারাঠা পণ্ডিত
চাষীরাজ বরং
আহমদ শাহ
আবদালি ও
তার অনুগত
সুজাউদ্দৌলার প্রশংসা
করেছেন;
‘কয়েক
শত ভিস্তিসহ
সুজাউদ্দৌলা রণক্ষেত্রে
প্রবেশ করে
রক্তাক্ত মৃতদেহ
ধৌত করলেন,
তাদের মধ্যে
সেনাপতিদের বিশেষ
করে (সদাশিবরাও)
ভাউকে খোঁজ
করলেন। যথাযথভাবে
শনাক্ত করার
জন্য তিনি
মারাঠা উকিল
সিনাদুর পণ্ডিত,
গণেশ পণ্ডিত
ও কিছু
যুদ্ধবন্দি সঙ্গে
নিয়ে অনুসন্ধান
চালিয়েছেন এবং
যশবন্ত রাও
পাওয়ার ও
পালাজদুর পুত্র
এবং আরো
অনেকেই খুঁজে
বের করেছেন।
‘শাহ
(আহমদ শাহ
আবদালি) সুজাউদ্দৌলার
উদ্যোগের সঙ্গে
আরো যোগ
করেছেন। এ
দুজনের সঙ্গে
বিশ্বাস রাও-এর
মৃতদেহ যথাযথ
ধর্মীয় অনুশাসন
মেনে যেন
সমাহিত করা
হয়—এ
অনুষ্ঠানিকতায় আফগান
সৈন্যরা যাতে
কোনো ধরনের
হস্তক্ষেপ না
করে তা
নিশ্চিত করলেন
এবং পণ্ডিত
চাষীরাজকে দাহ
করার দাযিত্ব
দিলেন।’
চাষীরাজ বলেছেন,
‘আমি
তাদের নবাব
(সুজাউদ্দৌলাহ) এর
শাহ-র
শিবিরের মাঝামাঝি
একটি স্থানে
গঙ্গায় তাদের
ধৌত করি,
চন্দনের সুঘ্রান
দিই এবং
আমি তাদের
দাহ করি।’
শাহকে হেয়
করার জন্য
বলা হয়েছে
মারাঠা পক্ষের
বীর মুসলিম
সেনাপতি ইব্রাহিম
কার্দি আহত
অবস্থায় যখন
আফগানদের হাতে
বন্দি, তখন
তার জখমের
ওপর বিষ
প্রয়োগ করে
তার মৃত্যু
ত্বরান্বিত করা
হয়। কায়কোবাদের
এ বিষ
এপিসোড খণ্ডন
করেছে এলফিনস্টোনের
‘হিস্ট্রি
ইন্ডিয়া’।
বন্দিকে যেকোনোভাবেই
বধ করা
যায় কিন্তু
বিষের কী
প্রয়োজন?
পানিপথে আহমদ
শাহ-র
রণদক্ষাতার কথা
এলফিনস্টোন এভাবে
বলেছেন: বিশ্বাস
রাও জখম
হয়ে ঘোড়া
থেকে পড়ে
গেলেন, ভাউ
তখনো লড়াই
করে চলেছেন।
কিন্তু সমগ্র
মারাঠা বাহিনী
পৃষ্ঠ প্রদর্শন
করে, রণাঙ্গনে
মৃতদেহের স্তূপ
ফেলে দ্রুত
পালিয়ে গেল।
(পূর্বোল্লেখিত রচনা)
পানিপথের তৃতীয়
যুদ্ধনির্ভর নাটক
রক্তাক্ত প্রান্তরের
ভূমিকায় মুনীর
চৌধুরী লিখেছেন:
মুসলমানদের পক্ষে
নেতৃত্ব দিচ্ছেন
কাবুলের আহমদ
শাহ আবদালি,
রোহিলার নবাব
নজীবদ্দৌলা, অযোধ্যার
নবাব সুজাউদ্দৌলা
এবং মেহেদী
বেগ কন্যা
জোহরা বেগম।
অন্যদিকে মারাঠাদের
পক্ষে নেতৃত্ব
দিচ্ছেন বালাজি
রাও পেশোয়া,
ত্রিশুল বাহিনীর
রঘুনাথ রাও,
সদাশিব রাও
এবং ইব্রাহিম
কার্দি—মুসলিম
পক্ষের জোহরা
বেগমের স্বামী
হিন্দুদের পক্ষের
সেনাপতি।
জোহরা ছদ্মবেশ
ধারণ করে
মারাঠা শিবিরে
প্রবেশ করেন
স্বামীকে ফিরিয়ে
আনতে, কিন্তু
ইব্রাহিম কার্দি
অনড়, স্ত্রীর
জন্য ভালোবাসার
ঘাটতি নেই
তার, কিন্তু
তিনি আদর্শ
বিসর্জন দিতে
নারাজ—যখন
তার কোনো
কর্মসংস্থান ছিল
না হিন্দু
মারাঠারাই তাকে
চাকরি দিয়েছে,
ধীরে ধীরে
পদোন্নতি দিয়ে
সেনাপতি বানিয়েছে—তাদের
বিশ্বাস ইব্রাহিম
কার্দি ভাঙতে
পারে না।
(রক্তাক্ত প্রান্তর)
আহমদ শাহ
আবদালি তার
মরদেহেরও অমর্যাদা
করেননি।
দুররানি সাম্রাজ্য
১৪
এপ্রিল ১৭৭৩
কান্দাহারে আহমদ
শাহ দুররানির
মৃত্যু হয়।
ততদিনে দুররানি
রাজবংশ প্রতিষ্ঠা
করে ফেলেছেন।
সাম্রাজ্যের পরিধি
বাড়িয়েছেন আর
আফগানদের মনে
এতটাই ঠাঁই
করে নিয়েছেন
যে তারা
তাকে আফগান
জাতির পিতা
বিবেচনা করতে
শুরু করে।
তিনি হয়ে
ওঠেন আহমদ
শাহ বাবা।
১৭৭২ থেকে
১৭৯৩ পর্যন্ত
রাজত্ব করেন
আহমদ শাহর
পুত্র তৈমুর
শাহ দুররানি।
১৭৯৩ থেকে
১৮০১ পর্যন্ত
সম্রাট তৈমুরের
পুত্র জামান
শাহ ক্ষমতায়
ছিলেন। একদিকে
শিখ উত্থান,
অন্যদিকে ক্ষমতার
পারিবারিক দ্বন্দ্ব
তিনি সামলে
উঠতে পারছিলেন
না। তার
ভাই তার
চোখ তুলে
ফেলেন। ১৮০১
থেকে ১৮০৩
পর্যন্ত শাসন
করেন জামান
শাহর ছোট
ভাই মাহমুদ
শাহ। ১৮০৩
থেকে ১৮০৯
এবং পুনরায়
১৮৩৯ থেকে
১৮৪২ সময়কালে
শাসন করে
তৈমুর শাহর
অন্য পুত্র
শুজা শাহ।
১৮০৯ থেকে
১৮১৮ সালে
ক্ষমতায় ছিলেন
মাহমুদ শাহ।
১৮১৮ থেকে
১৮১৯ সংক্ষিপ্ত
সময়ের জন্য
তৈমুর শাহর
অন্য এক
পুত্র সুলতান
আলী শাহ
ক্ষমতা দখলে
নিয়ে নেন।
তৈমুর শাহর
আরো একজন
পুত্র আইয়ুব
শাহ সুলতানকে
ক্ষমতাচ্যুত করে
১৮১৯ থেকে
১৮২৩ পর্যন্ত
শাসন অব্যাহত
রাখেন। ১৮২৩
সালে আইয়ুব
নিহত হন।
পুনরায় শুজা
শাহ ক্ষমতা
দখল করেন,
১৮৪২ সালে
তার ক্ষমতাচ্যুতির
মধ্য দিয়ে
দুররানি রাজবংশের
পতন হয়।
মূলত আহমদ
শাহ দুররানির
দৌহিত্রদের মধ্যে
ক্ষমতার লড়াই
এবং পরিবারের
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
সাম্রাজ্যকে দুর্বল
ও অস্থিতিশীল
করে ফেলে।
তবে আহমদ
শাহ দুররানি
এখনো আফগানদের
কাছে বাবা
হিসেবে বেঁচে
আছে। কান্দাহারে
তার সমাধিস্থল
পবিত্র প্রাঙ্গণ
হিসেবে সমাদৃত।
আন্দালিব রাশদী: কথাসাহিত্যিক





