ওইখানে তুমি গেলে না কখনো নদী পার হয়ে
তোমার পুকুরে দুপুরবেলার মেঘ
ওইখান থেকে আসে?
খুব টিপ টিপ বৃষ্টি নামে তো
বৃষ্টির নামে তোমার রোমান্টিক
ভাবালুতাগুলি আজিমপুরের স্মৃতির ভিতর
কুচকুচে কালো পানি সাঁতরিয়ে
একটা দীর্ঘ হলুদ সাপের এঁকেবেঁকে চলে যাবার ছবিটা
লাশ বয়ে আনা কোঁকড়া মানুষ
সদ্য কোপানো গর্তের পাশে স্তূপ করে রাখা কাদায় মূর্ত
অন্য কারো স্তূপ, অন্য কারো স্তুতি
তোমার পুকুরে হাওয়ায় দুলছে
কলোনির পাশে কবর যেমন
গোরস্তানের গোলাপ যেমন
নদী পার হয়ে আসে।
ঘুরতেই থাকে
ঘুরতেই থাকে
মাটির গন্ধে আজিমপুরের পাপড়িমেদুর ছাদগুলি ভেজে
শিকের কিনারে ঢল ঢল করে মুক্তার মতো বৃষ্টির পানি
দমকা হাওয়ায় খসে পড়ে যায়
তিনতলা থেকে নিচে
কাদার ভিতরে
ঘুমের ভিতরে
শোনা যায় যেন আবছা আবছা
মানুষ অনেক চিত্কার করে
অনেক কিছু বলছে
বহুদূর থেকে...
বহুদূর থেকে...
দূরগুলি বহু ক্রূরতায়
ভেঙে কাতরাতে
কাতরাতে, মিথ্যে মীমাংসাহীন
উপসংহারে
উপ্ত
ব্যাপ্ত
সুস্থ
ললিত
ললি খেতে খেতে
ললি খেতে খেতে
আকাশের নিচে কৃষ্টিতে বহু বহু দূরগুলি
সমবেদনার মহিমায় স্থির মানুষে মানুষে
তোমার পুকুরে
ঝরে পড়ে যায়
অলস, নীরব...
পুকুর না যেন
পুকুরের মতো কল্প,
কল্প না যেন, কল্পের মতো ক্রিয়া,
ক্রিয়ার মতো লক্ষ্য,
লক্ষ্যের মতো মিথ্যায় স্থির,
মিথ্যার মতো পুকুর না যেন, মিথ, মিথের মতো সত্য।
পাক দিয়ে ওঠে দুপুরবেলার হাওয়া
মাথার এপাশ থেকে ওইপাশে বাহিত মাথায়
আজিমপুরের বৃষ্টিস্নাত চামড়ার মতো
একটা দীর্ঘ হলুদ সাপের
এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া
অনেক ছড়ানো
আস্তরহীন
এবং কত না স্তরে স্তরে ঢাকা
একেকটা আস্তরে, একটা একটা চিঁড়ে
এইপাশ থেকে ওইপাশে যায়
ওইপাশ থেকে এই পাশে আসে
যেই ভাবে ফুলে খেলা করে পোকা
পোকার গভীরে খেলা করে ফুল
যুক্তির এধার থেকে ওই ধারে
তোমার শিশুর টোলপড়া গালে হামাগুড়ি দেয়
গুঞ্জিত সেই সুর
গুঞ্জিত সেই দানবের তালে তালে...
জাপটিয়ে ধরো তা
যদিও, জাপটে ধরতে চাও না কিছুই
কিছুই আঁচড়ে খুলতে চাও না
নদী পার হয়ে, ওইখানে।
যা কিছু চিনেছো
সব কি না কারো অন্য!
ঘুমের ভিতর জেগে জেগে ওঠা
জাগার ভিতর এলায়িত ঘুমে
আরো আরো কারো বহু মানুষের
বাসনার মতো
একটা একটা তুমি
তোমার কাদায় লেখা হয়ে যায়
ফিরেও দেখো না...
যেন বাসনাই সব।
বুঁদ হয়ে থাকো চুপচাপ একা
ঘরের ভিতর বিরাট অন্ধকারে
মাটির দেয়াল হাতড়ে হাতড়ে
আকাশের গায়ে চুমকি বসাও
বিরাট অন্ধকারে।
যেন দেখার ভাষাকে
ভাষার দেখাতে বলতে কুণ্ঠা
জাপটিয়ে ধরো ছায়া, যদিও
জাপটে ধরতে চাও না কিছুই
নদী পার হয়ে...
লাশ বয়ে আনা কোঁকড়া মানুষ
সদ্য কোপানো গর্তের পাশে
স্তূপ করে রাখা কাদায় মূর্ত
আজিমপুরের কুচকুচে কালো পানি সাঁতরিয়ে
একটা দীর্ঘ হলুদ সাপের
এঁকেবেঁকে চলে যাবার ছবিটা
যা কিছু ছবিটা
যা কিছু বৃষ্টি
ওইখানে তুমি গেলে না কখনো
নদী পার হয়ে।






