আলংকারিক অর্থে
বললেও শিরোনামের
সুবর্ণভূমির অবস্থান
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায়ই প্রাচীন
ইতিহাসিক আমল
থেকে একবিংশ
শতাব্দীর সূচনা
পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার ভৌগোলিক
মানচিত্রে বড়
ধরনের কোনো
পরিবর্তন ঘটেনি,
যদিও উপদ্বীপবেষ্টিত
অংশটি ভূমিকম্পপ্রবণ।
প্রাথমিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার মানচিত্রে
দুটি স্পষ্ট
বিভাজন দেখা
যায়: একটি
হচ্ছে মূল
ভূখণ্ডে সম্প্রসারিত
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়া। এটাকেই
বলা হয়
ইন্দোচীন এবং
সমুদ্রবেষ্টিত উপদ্বীপের
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়া বা
মেরিটাইম সাউথইস্ট
এশিয়া।
মেইন ল্যান্ড
সাউথইস্ট এশিয়ায়
পড়েছে কম্বোডিয়া,
লাওস, মিয়ানমার,
পেনিনসুলার মালয়েশিয়া,
থাইল্যান্ড ও
ভিয়েতনাম আর
মেরিটাইম সাউথইস্ট
এশিয়ায় পড়েছে
ব্রুনাই, কোকোস
দ্বীপ, ক্রিসমাস
দ্বীপ, পূর্ব
মালয়েশিয়া, পূর্ব
তিমুর, ইন্দোনেশিয়া,
ফিলিপাইন ও
সিঙ্গাপুর। মেইনল্যান্ডে
প্রায় ৫০
হাজার বছর
আগেকার এবং
সমুদ্রবেষ্টিত অংশে
অন্তত ৪০
হাজার বছর
আগেকার আদি
মানবের উপস্থিতি
প্রমাণিত হয়েছে।
নব্য প্রস্তর
যুগে অস্ট্রো-এশিয়াটিক
জনগোষ্ঠী স্থলপথে
ইন্দোচীনে বসতি
স্থাপন করে।
একই জনগোষ্ঠী
সমুদ্রপথে মেরিটাইম
সাউথইস্ট এশিয়ায়ও
অভিবাসী হয়ে
জীবন ধারণ
করতে থাকে।
৩৭০০ বছর
আগে ইন্দোচীনের
নিচু জমি
বা নদীর
ধারে যব
ও ধান
চাষের প্রমাণ
পাওয়া যায়।
৪০০০ বছর
আগে তাদের
তামার ব্যবহারও
প্রমাণিত। খ্রিস্ট
জন্মের ১৫০০
বছর আগে
এখানে রীতিমতো
ব্রোঞ্জসামগ্রীর বাণিজ্যিক
উৎপাদন হতো,
ঐতিহাসিকরা এটাও
নিশ্চিত করেছেন।
খ্রিস্ট জন্মের
আগে থেকেই
ভিয়েতনাম উপকূলে
মাটি ও
সিরামিক শিল্পের
উল্লেখযোগ্য বিকাশ
ঘটে। ব্রোঞ্জ
বাণিজ্যের বয়স
চার হাজার
বছর।
এশীয় ভূখণ্ডে
সভ্যতা, সমৃদ্ধি,
বাণিজ্য, সংস্কৃতি
এসব প্রসঙ্গ
এলে বিদ্বজ্জন
তাদের রচনা
ও আলোচনা
কেন্দ্রীভূত করেন
প্রাচীন চীন
ও প্রাচীন
ভারতের ওপর।
এ দুই
বৃহৎ অস্তিত্বের
মাঝখানে স্যান্ডউইচ
হওয়া দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়া বরাবরই
আলোচনায় উপেক্ষিত
থেকে যায়।
বিংশ শতকের
শেষভাগে এসে
সারা পৃথিবীতে
মানুষ ‘ইস্ট
এশিয়ান মিরাকল’
বা পূর্ব
এশীয় অর্থনৈতিক
বিস্ময় মেনে
নিয়েছে, তার
অর্ধেক সংখ্যক
দেশই দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ান। এটি
রাতারাতি ঘটে
যাওয়া কোনো
বিস্ময় নয়।
দেশগুলোর বাণিজ্যিক
উত্তরাধিকার কয়েক
হাজার বছরের।
বিস্ময় সৃষ্টি
করা নামগুলো
হচ্ছে জাপান,
দক্ষিণ কোরিয়া,
তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর,
থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া
ও ইন্দোনেশিয়া।
শেষ চারটি
পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায়।
খ্রিস্ট জন্মের
আগে ভারত
মহাসাগর আর
দক্ষিণ চীন
সাগরের মিলনস্থলের
দ্বীপপুঞ্জগুলোর অবস্থান
ও কৌশলগত
গুরুত্ব দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়াকে বিশ্বসভ্যতার
ও বিশ্ববাণিজ্যের
লেনদেনের অন্যতম
মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত
করেছে। ১৫১১
সালে পর্তুগিজদের
মালাক্কা প্রণালি
দখলের মধ্য
দিয়ে বৈদেশিক
বাণিজ্য শক্তির
আগ্রাসী অনুপ্রবেশ
ঘটে। ভারত
উপমহাদেশে একই
ঘটনা ঘটে
কিছুকাল আগে।
তারপর আসে
ডাচ ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানি,
স্পেনীয় বণিক
ও ব্রিটিশ
ইস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানি। স্পেনীয়রা
চলে যায়
ফিলিপাইনের দিকে।
১৬১৯ সালে
ডাচ ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানি
সুন্দা কেলাপা
শহর অধিকার
করে নেয়
এবং শহরের
নতুন নাম
দেয় বাটাভিয়া।
এ শহরই
এখনকার জাকার্তা।
এখানে তারা
বাণিজ্য কুঠি
স্থাপন করে
এবং জাভার
বিভিন্ন অংশে
কুঠি সম্প্রসারিত
করে। জশুয়া
চাইল্ডের নেতৃত্বাধীন
ইস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানির প্রবেশের
চেষ্টা অ্যাংলো-সিয়ামিজ
যুদ্ধে প্রতিহত
হয়। ব্রিটিশরা
বঙ্গোপসাগরের দিকে
চলে আসে।
ওদিকে নৌশক্তিতে
ফরাসিদের ওপর
বাহাদুরি ফলাতে
পেনাং বন্দর
নিজেদের হাতে
তুলে নিলে
মালয় উপদ্বীপের
বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ
অনেকটা তাদের
হাতে চলে
যায়। কালক্রমে
ইন্দোচীন হয়
ওঠে দীর্ঘমেয়াদি
রণক্ষেত্র। চীন
অনুসরণ করেছে
‘লো-কি-অ্যাপ্রোচ’।
যুদ্ধে জড়ায়নি,
বাহাদুরি দেখায়নি।
তারা নীরবে
দোকানদারি দিয়ে
শুরু করেছে
পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি
হয়েছে চীনাদের
‘নেটওয়ার্ক’।
বিদেশে অবস্থানকারী
চীনাদের বাণিজ্যিক
নেটওয়ার্ক কালক্রমে
দখল করে
নিয়েছে কম্বোডিয়া,
ইন্দোনেশিয়া, লাওস,
মালয়েশিয়া, মিয়ানমার,
ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর,
থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম।
তবে এ
নেটওয়ার্ক এক
দশক বা
এক শতাব্দীর
সৃষ্টি নয়।
এ নেটওয়ার্কের
সূচনা আনুমানিক
দেড় হাজার
বছর আগে।
সপ্তদশ শতক
পর্যন্ত গুজরাটি
চেতিয়ার, পর্তুগিজ
ও জাপানি
ব্যবসায়ীদের তুলনায়
তারা সংখ্যালঘু
ছিল। এখন
তারা সর্বত্রই
সংখ্যাগরিষ্ঠ।
এ লেখায়
মার্কো পোলোর
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়া সফর
এবং দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার ওপর
আলোকপাত করা
হবে।
মার্কো পোলোর
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়া
১৭
বছর কুবলাই
খানের দরবারে
কাটিয়ে ১২৮১
সালে মার্কো
পোলো চীনের
গুয়াংজু থেকে
স্বদেশের উদ্দেশে
যাত্রা করলেন।
তার যাত্রার
শুরুতে দক্ষিণে
ভিয়েতনাম ও
মালয়েশিয়া পাশ
কাটিয়ে সুমাত্রা
এলেন। তারপর
বঙ্গোপসাগর হয়ে
ভারতীয় উপকূলে
বেশ কবার
নেমে জাহাজের
বহরে ফিরে
এলেন। আরব
সাগর পাড়ি
দিয়ে এলেন
পারস্য উপসাগরে,
হরমুজ প্রণালি
হয়ে ইরান।
সড়কপথে এলেন
কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত।
সেখান থেকে
ভেনিসের উদ্দেশে
রওনা হলেন।
এ সফরে
প্রায় চার
বছর কেটে
গেল। শুরুতে
তার সঙ্গে
৬০০ জন
সঙ্গী ছিল,
মাত্র ১৮
জনের ভেনিস
পৌঁছা হলো।
দ্বিতীয় যাত্রায়
ইতালি থেকে
চীন। পূর্ব
চীন থেকে
১৪টি জাহাজ
নিয়ে বিষুবরেখার
দিকে কুবলাই
খানের দূত
হিসেবে দায়িত্ব
পালনের সময়
তিনি বার্মা
এসেছিলেন। সুমাত্রা
থেকে সেখানে
গিয়ে পৌঁছতে
তিন মাস
সময় লেগেছিল।
সুমাত্রার মাছ
সম্পর্কে তিনি
লিখেছেন, ‘পৃথিবীর
সবচেয়ে সুস্বাদু
মাছ’।
তাদের প্রচুর
বড় আকারের
ভারতীয় বাদাম
রয়েছে। গবেষকরা
মনে করেন
মার্কো পোলো
আসলে নারকেলের
কথা বলেছেন।
তিনি যেখানে
ছিলেন সেখানে
বছরে আট
ফুট বৃষ্টির
পানি জমে
এবং ম্যালেরিয়া
রোগের ছড়াছড়ি।
সুমাত্রায় বিরতি
দেয়ার পর
সেখানে তাদের
দলের অনেকেই
মারা যায়।
কীভাবে মারা
যান মার্কো
পোলো তার
ব্যাখ্যা দেননি
(গবেষকরা মনে
করেন কোনো
ধরনের মহামারীতে
কিংবা ঝড়ে
জাহাজডুবিতে তাদের
মৃত্যু হয়ে
থাকতে পারে)।
সুমাত্রার কিছু
মানুষ সম্পর্কে
লিখেছেন, তারা
এমনই জান্তব
যে মানুষের
মাংস খায়
(তিনি সম্ভবত
অস্ট্রেলেশিয়ান বাটাকদের
কথা বলেছেন)।
সুমাত্রায় দক্ষিণ-পূর্ব
চীনের বণিকরা
রমরমা ব্যবসা
করছে বলে
তিনি লিখেছেন।
আরো জানিয়েছেন এখান
থেকে দক্ষিণ-পূর্বে
পাঁচদিন চলার
পর উন্নত
গ্রাম, বিকশিত
শহর, উৎপাদনে
সমৃদ্ধ।
তিনি ১২১৯
সালে পাঁচ
মাস সুমাত্রা
থাকতে বাধ্য
হয়েছিলেন। কারণ
মৌসুমি বায়ুর
দিক পরিবর্তনের
জন্য তাকে
অপেক্ষা করতে
হয়েছে। তিনি
সুমাত্রার মাংসখেকো
মানুষের কথা
যথার্থই বলেছেন।
তবে তিনি
অদ্ভুত জন্তু
বড় ইউনিকর্নের
কথা বলেছেন,
যা হাতির
চেয়ে ছোট
হওয়ার কথা
নয়। ইতিহাস
বিশ্লেষক পল
লুন্ড লিখেছেন
তিনি বড়
বন্দর ও
বাণিজ্যের রুটের
যে বিবরণ
দিয়েছেন তা
যথার্থই খাঁটি।
তবে ভৌগোলিক
অবস্থান নিয়ে
হয়তো তিনিও
দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন
এবং দূরত্বের
অনুমানে কখনো
কখনো ত্রুটি
ঘটেছে। তিনি
যেখানেই গিয়েছেন
বিস্ময়ের একটি
অনুভূতি ছড়াতে
চেয়েছেন, অনেকবার
তিনি বলেছেন,
‘এখানে
সবকিছুই অন্য
রকম।’
মার্কো পোলো
ভারত মহাসাগরে
১২৭০০ দ্বীপের
অস্তিত্বের কথা
বলে এটাও
বলেছেন পৃথিবীতে
কোনো মানুষের
পক্ষে বলা
সম্ভব নয়
ভারত মহাসাগরে
দ্বীপের সংখ্যা
আসলে কত।
ইউরোপীয়দের মধ্যে
সম্ভবত তিনিই
প্রথম মৌসুমি
বায়ুর কথা
লিখেছেন: আমাকে
এটা জানাতেই
হবে একটি
সফর শেষ
করতে পুরো
এক বছর
লেগে যাবে।
শীতে যাত্রা
করলে গ্রীষ্মে
ফিরে আসবে—এসব
সমুদ্রে মাত্র
দুই ধরনের
বাতাস বয়—এক
বাতাস নিয়ে
আসে, অন্য
বাতাস ফিরিয়ে
নিয়ে যায়।
প্রথমটা বয়
শীতকালে আর
দ্বিতীয়টা গ্রীষ্মে।
মার্কো পোলো
দক্ষিণ ভিয়েতনামের
চাম্পা রাজ্য
থেকে মালয়
উপদ্বীপে আসেন।
তিনি লিখেছেন
সেখানে এত
স্বর্ণ, যে
না দেখবে
তার পক্ষে
বিশ্বাস করা
কঠিন। সেখানে
প্রচুর হাতি
ও শিকারি
জন্তু রয়েছে।
সেখানে ব্র্যাজিলউড
ছিল, যা
থেকে প্রস্তুত
লাল রঙ
পোশাক শিল্পে
ব্যবহূত হতো।
তিনি এ
গাছ ভেনিসে
নিয়ে যান,
কিন্তু তার
এ প্রকল্প
সফল হয়নি।
তারপর তার
পালের জাহাজ
মালাক্কা প্রণালির
মধ্য দিয়ে
যায়। তিনি
প্রথম মালাক্কার
বর্ণনা দিতে
গিয়ে বলেন,
‘জাভার
চেয়ে ছোট’।
সুমাত্রার লোকজন
হিন্দু, তবে
মুসলমান বণিকদের
সংস্পর্শে এসে
তারা ইসলাম
ধর্ম গ্রহণ
করছে বলে
তিনি উল্লেখ
করেছেন। তবে
তা কেবল
শহরের মানুষের
বেলায় সত্য
বলে তিনি
মনে করেন,
পার্বত্য অঞ্চলের
মানুষ বুনো
এবং মানুষখেকো।
মার্কো পোলো
যথার্থই লিখেছেন,
আরবের ধর্মপ্রচারকরা
এখানে এসে
হিন্দুদের ধর্মান্তরিত
করে মুসলমান
বানাননি, কাজটি
করেছেন ভারতের
ও দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ান দীপপুঞ্জের
মুসলিম বণিকরা।
ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জে
মুসলিম সুলতানাতের
এটিই প্রথম
উল্লেখ। পাঁচ
মাস সুমাত্রায়
অপেক্ষা করার
পর তার
গন্তব্যের দিকে
বাতাস বইতে
শুরু করলে
তিনি শ্রীলংকা
যাত্রা করলেন।
জাভা দ্বীপ
সম্পর্কে লিখেছেন
এ দ্বীপে
সম্পদ উপচে
পড়ছে। এখানে
গোলমরিচ, জায়ফল,
জয়ত্রি, লবঙ্গসহ
বিভিন্ন ধরনের
মসলা উত্পন্ন
হয়। এর
বাণিজ্যে প্রচুর
লাভ হয়।
গবেষকরা মনে
করেন মার্কো
পোলো জাভা
যাননি। তিনি
এমনও বলেছেন,
কুবলাই খান
কখনো জাভা
জয় করতে
পারবেন না।
সুবর্ণভূমির স্বর্ণ
দক্ষিণ
ও দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায় স্বর্ণের
আলংকারিক ব্যবহার
(মেটাফরিক্যাল) সবচেয়ে
বেশি। কিন্তু
তা লুট
করেই ঘটেনি।
একসময় বিপুল
পরিমাণ স্বর্ণ
দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ায় ছিল,
স্বর্ণের বাণিজ্যও
এখানে চলেছে।
পঞ্চম শতকের
সংস্কৃতি লিপিতে
একজন বণিকের
কাহিনী বলা
হয়েছে। তিনি
সমুদ্রপথে স্বর্ণভূমি
গেলেন। অতল
সাগর পাড়ি
দিয়ে তিনি
তীরে পৌঁছলেন,
তারপর দীর্ঘ
পথ হেঁটে
অতিক্রম করলেন
উঁচু পর্বতে
অরণ্যপথ পাদদেশ,
তারপর আরো
একটি অরণ্যে
পৌঁছে সামনে
যে নদী
পেলেন তাকে
পেরোতে হয়।
এ নদী
স্বর্ণবালিতে পরিপূর্ণ।
স্বর্ণভূমির কথা
জাতকের গল্প
ও রামায়ণেও
আছে। বৌদ্ধধর্মীয়
মহাবংশতেও উল্লেখ
রয়েছে। স্বর্ণভূমি
প্রকৃতপক্ষে কম্বোডিয়ার
একাংশ—কিংডম
অব চেনলা।
ব্যাংককের আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরটির নামও
সুবর্ণভূমি। স্বর্ণবালুকা
পানিতে মিশিয়ে
মণ্ড বানিয়ে
ইটের আকৃতিতে
আগুনে শুষ্ক
ও শক্ত
করা হতো।
স্বর্ণের কাঁচামাল
হিসেবে বণিকরা
তা-ই
কিনে নিয়ে
যেতেন।
ইন্দোনেশিয়ার জাভায়
৮৬০ সালে
চীনের বাণিজ্যিক
দূতাবাস ছিল।
তারা জাভাকে
স্বর্ণসমৃদ্ধ বলছে।
তবে এ
স্বর্ণ তারা
প্রতিবেশী মালয়,
সুমাত্রা ও
বোর্নিওর স্বর্ণখনি
থেকে আমদানি
করত বলে
উল্লেখ করেছে।
১৯ শতকেও
সেখানে খনি
থেকে স্বর্ণ
উত্তোলন হতো।
১৪ শতকে
সুমাত্রায় শাসক
আদিত্যবর্মণকে বলা
হতো ‘কনকমেদিনীন্দ্র’
মানে স্বর্ণভূমির
প্রভু। তিনি
তার রাজধানী
অধিক স্বর্ণসমৃদ্ধ
পশ্চিম সুমাত্রায়
স্থানান্তর করেছিলেন।
জাভায় দক্ষ
স্বর্ণকারের হাতে
অলংকার ও
স্বর্ণমূর্তি তৈরি
হতো এবং
তা বিদেশী
বণিকরা কিনে
নিয়ে যেতেন।
অন্যতম আমদানিকারক
দেশ ছিল
চীন। এমনকি
১২২৫ সালের
একটি রচনায়
উল্লেখিত হয়েছে
যে একজন
সেনাপ্রধান তার
৩০ হাজার
সৈন্যকে বেতন
হিসেবে স্বর্ণ
প্রদান করেছেন।
কম্বোডিয়ার প্রেসেট
প্রি জেলার
স্বর্ণখনি থেকে
সবচেয়ে বেশি
পরিমাণ স্বর্ণ
উত্তোলন করা
হয়েছে বলে
মনে করা
হয়। এখানে
সোনার পুঁতি
তৈরি হতো।
দক্ষিণ ভিয়েতনামে
স্বর্ণালংকার তৈরির
কারখানা ছিল।
মেকং দ্বীপে
বিভিন্ন দেবদেবীর
স্বর্ণের মূর্তি,
সোনার পাত
খুঁজে পাওয়া
যায়। এখান
থেকে ভারতে
ও দক্ষিণ-পূর্ব
এশীয় দেশগুলোয়
চালান পাঠানো
হতো। সুবর্ণভূমি
ছিল বাণিজ্যের
কেন্দ্র।
এম এ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা





