অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় এক স্বাধীনচেতা ক্ষণজন্মা বীর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শমসের গাজী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শেখ মনোহর আলীর গাজীনামা শমসের গাজীর জীবনচরিত হিসেবে বিবেচিত। গাজীনামার পরে ত্রিপুরার রাজমালায় শমসের গাজী সম্পর্কে বিবরণ পাওয়া যায়। রাজমালার প্রতিটি গ্রন্থই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বর্তমান প্রবন্ধে লেখক শমসের গাজীর ইতিহাস রচনার অন্যতম প্রধান উপাদান রাজমালার বহুল সমাদৃত তিনটি সংস্করণের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং এগুলোর মধ্যে চিত্রিত শমসের গাজীর জীবনের নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
রাজমালা প্রথম ১৪৩১ সালে বাংলা পদ্যে রচিত হয় ত্রিপুরার রাজা প্রথম ধর্মমানিক্যের রাজত্বকালে। এটি মূলত ত্রিপুরা ও তার রাজবংশের ইতিহাস। বিভিন্ন সময়ে ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হিসেবে কুমিল্লা, নোয়াখালী, শ্রীহট্ট ও চট্টগ্রামের ইতিহাসের কিছু বিবরণ রাজমালায় পাওয়া যায়। রাজ পুরোহিত দুর্লভেন্দ্র নারায়ণের কাছে মৌখিক আখ্যান শুনে বাণেশ্বর ও শুক্রেশ্বর নামের দুজন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত রাজমালা বাংলা পদ্যে রচনা করেন।
ত্রিপুরার রাজা চন্দ্রোদয় বিদ্যাবিনোদের সম্পাদনায় রাজমালা ছয় খণ্ডে সম্পূর্ণ মুদ্রিত হয়। বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্যের রাজত্বের শেষভাগে কালীপ্রসন্ন সেন নতুন তথ্য ও টিকা সংযুক্ত করে রাজমালা সম্পাদন শুরু করেন। চার লহর সম্পাদনার পর কালীপ্রসন্ন সেন মৃত্যুবরণ করলে বাকি দুই লহরের কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। তার সম্পাদিত রাজমালা প্রকাশিত হয় ত্রিপুরারাজ বীর বিক্রম কিশোরের সময়ে, ১৯২৬-৩১ সালে।
কৈলাসচন্দ্র সিংহের রাজমালা রাজকীয় রাজমালা থেকে ভিন্ন এবং এর কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কৈলাসচন্দ্রের বাবা-দাদা দুজনেই ত্রিপুরা রাজসরকারের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি নিজেও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভেতে দীর্ঘদিন চাকরি করেন। ফলে পারিবারিকভাবে অর্জিত ত্রিপুরা সম্পর্কিত জ্ঞান, নিজের পুরাতাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন আকরগ্রন্থের পর্যালোচনা করে তিনি রাজমালা রচনা করেন। এটি ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।
ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী সহজ বাংলায় কিশোরদের উপযোগী অলংকরণসমৃদ্ধ করে রাজমালা রচনা করেন। গ্রন্থটির অলংকরণে সহায়তা করেন তার ভাই চিত্রশিল্পী রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। ১৯৪১ সালে ত্রিপুরার আগরতলা থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
কালীপ্রসন্ন সেন বা কৈলাসচন্দ্র শমসের গাজীর উত্থানের আগে আগে ত্রিপুরার রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক তথা আর্থসামাজিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। তখন বাংলার শাসক ছিলেন নবাব আলিবর্দি খান। আলিবর্দি খানের অধীনস্থ ঢাকার নায়েবে নাজিমের সহকারী ছিলেন হোসেন কুলি খাঁ। হোসেন কুলি খাঁর সহায়তায় বিজয়মানিক্য ত্রিপুরার সিংহাসনে বসেন। শর্ত ছিল বিজয়মানিক্য হাতি ধরে বাংলায় পাঠাবেন। বিজয়মানিক্যের সিংহাসনে আরোহণ রাজমালার চতুর্থ লহরে বর্ণিত হয়েছে এভাবে—
জয়মানিক্যের ভ্রাতা
হাড়িধন নাম।
হাজি হেসেনের
সঙ্গে করিল
সন্ধান।।
ত্রিপুরার জমিদারি
হাজিওয়াদা থাকে।
ত্রিপুরার রাজ্যাধিপ
করে হাড়িধনকে।।
খেদা করিয়া
হস্তী হুজুরে
রাজা দিবে।
বৎসরেত বার
হাজার মসরা
পাইবে।
হাতি পাঠানোর জন্য বিজয়মানিক্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন হোসেন খাঁ। বিজয়মানিক্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। তার সময়েই দক্ষিণ শিকে শমসের গাজীর উত্থান শুরু হয়। ভূপেন্দ্র চক্রবর্তী উল্লেখ করেন ‘ত্রিপুরার বাহুবল শক্তিহীন হইয়া পড়ায় চতুর্দ্দিকে বিশৃঙ্খলা প্রবল হইয়া পড়িল, ক্ষমতার লোভে সাধারণ ব্যক্তিও মাথা তুলিতে লাগিল এবং দিগন্তব্যাপী অসন্তোষ দেখা দিল। সুযোগ পাইয়া দক্ষিণ শিক নিবাসী এক মুসলমান প্রজা ক্রমেই দুর্ধর্ষ হইয়া উঠিতেছিল, ইহার নাম শমসের গাজী।’
রাজা জগত্মানিক্যের সময় সদা গাজীকে দক্ষিণ শিক পরগনার জমিদারি স্বত্ব প্রদান করেন। সদা গাজী মৃত্যুবরণ করলে তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্র নাছির মোহাম্মদ ও খন্ডল নিবাসী রতন চৌধুরী দুজনে মিলিতভাবে দক্ষিণ শিকের জমিদারি লাভ করেন। এই নাছির মোহাম্মদের পুত্রদের সঙ্গে শমসের গাজী একই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতেন। কৈলাসচন্দ্রের রাজমালায় বলা হয় ‘জমিদার পুত্রগণের সহিত শমসের গাজী নামক এক দরিদ্র বালক এক পাঠশালায় বিদ্যা অধ্যয়ন করিত। এক সামান্যা রমণীর গর্ভে ও জনৈক ফকিরের ঔরসে তাহার জন্ম হয়।’
শমসের গাজী স্বল্প সময়ের পাঠাভ্যাস ও বাহুবলে জমিদারপুত্র ছাদল্লা ও বাদুল্লাকে অতিক্রম করে যান। ফলে নাছির মোহাম্মদ তাকে কুত ঘাটের তহশিলদারি কার্যে নিযুক্ত করেন। ভূপেন্দ্র চক্রবর্তী লিখেছেন ‘নাছির মোহাম্মদ শমসেরকে বাঁশপাড়া কাছারীর তহশিলদার নিযুক্ত করিলেন।’
দক্ষিণ শিকের তহশিলদার হিসেবে কাজ করার সময় গদা হোসেন খন্দকার নামে একজন ফকিরের সঙ্গে শমসের গাজীর সাক্ষাৎ হয়। ফকির শমসের গাজীকে অশ্ব ও তরবারি উপহার দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, শমসের এই চাকলা রোশনাবাদের অধিপতি হবে, ত্রিপুরেশ্বরের সঙ্গে যুদ্ধে বিজয়ী হবে। ফকির চলে গেলে শমসের বুঝতে পারেন ‘তাহার হূদয়ে উচ্চাভিলাষের অনল জ্বালাইয়া ফকির বিদায় লইলেন।’
ফকিরের ভবিষ্যদ্বাণীতে উৎসাহিত হয়ে শমসের গাজী উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠেন। প্রথমেই তিনি জমিদার-কন্যার পাণিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব পাঠান। এমন দুঃসাহসে ক্ষুব্ধ হয়ে নাছির মোহাম্মদ শমসের গাজীর বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠান। অবস্থা বেগতিক দেখে শমসের গাজী তার সহচর ছাদু গাজীকে নিয়ে বেদরাবাদ পরগনায় পালিয়ে যান। এখানে তিনি কিছু লোককে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে হঠাৎ করে দক্ষিণ শিকে এসে উপস্থিত হন। অতুল বিক্রমে যুদ্ধ করে নাছির মোহাম্মদ ও তার পুত্রদের পরাজিত করেন এবং নাছির মোহাম্মদের মেয়েকে বিয়ে করে নিজেকে দক্ষিণ শিকের জমিদারি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
শমসের গাজীর দক্ষিণ শিকের জমিদারি দখলের সংবাদ শুনে ত্রিপুরারাজ সঙ্গে সঙ্গে শমসেরের বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠান। শমসের গাজী অবস্থা অনুধাবন করে মহারাজকে সহস্র মুদ্রা নজরানা হিসেবে পাঠান। মহারাজ খুশি হয়ে তাকে ‘সনন্দ’ প্রদান করেন। শমসের গাজী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেও এটা বুঝতে পারেন যে অদূরভবিষ্যতে তাকে ত্রিপুরারাজের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে হবে। তাই তিনি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিজয়মানিক্যের ওপর হোসেন খাঁ হাতি পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছিলেন। এদিকে হাতি ধরতে না পেরে বিজয়মানিক্য একটি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। এই সুযোগে শমসের গাজী হোসেন খাঁকে প্রস্তাব পাঠান ১২ হাজার মাসোহারার বিনিময়ে চাকলা রোশনাবাদের জমিদারি প্রদান করতে হবে এবং শমসের হোসেন খাঁকে হাতি প্রেরণ করবেন। হোসেন খাঁ এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিজয়মানিক্যকে ঢাকায় ডেকে পাঠান। বিজয়মানিক্য ঢাকাতেই মৃত্যুবরণ করেন। রাজার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শমসের রাজকর বন্ধ করে দেন এবং নিজেকে চাকলা রোশনাবাদের অধিপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। এভাবে গদা হোসেন ফকিরের ভবিষ্যদ্বাণীর প্রথম অংশ মিলে যায় শমসের গাজীর জীবনে।
রাজা বিজয়মানিক্যের মৃত্যুতে ত্রিপুরার সিংহাসন শূন্য হয়ে যায়। তার উত্তরাধিকারী হিসেবে যুবরাজ কৃষ্ণমানিক্য সিংহাসনে আরোহণের জন্য হেড়ম্ব রাজ্য থেকে ত্রিপুরার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সংবাদ পেয়ে শমসের দ্রুত এগিয়ে এসে কৃষ্ণমানিক্য যুবরাজের গতি রোধ করেন। কৃষ্ণমানিক্যের সঙ্গে যুদ্ধে শমসের বিজয়ী হন এবং ত্রিপুরার রাজধানী উদয়পুর তার হস্তগত হয়। কৈলাসচন্দ্র লিখেছেন ‘ছয় সহস্র উত্কৃষ্ট বলবান সৈন্য প্রস্তুত করিয়া তাহারা রাজধানী উদয়পুর আক্রমন ও লুণ্ঠন করেন।’ যুদ্ধে বিজয়ী হলেও ত্রিপুরার প্রজাসাধারণ শমসেরকে রাজা হিসেবে মানতে রাজি ছিল না। ফলে শমসেরকে কৌশল অবলম্বন করতে হয়। তিনি নিজে আড়ালে থেকে ধর্মমানিক্যের পুত্র বনমালী ঠাকুরকে লক্ষ্মণমানিক্য উপাধিতে ভূষিত করে সিংহাসনে বসান। এতে কিছু পাহাড়ি প্রজার নিকট থেকে কর আদায় করতে সক্ষম হলেও ত্রিপুরা, রিয়াং, কুকিসহ অধিকাংশ পার্বত্য প্রজাই ছিল যুবরাজ কৃষ্ণমানিক্যের পক্ষে। হাতি কর বন্ধ হলে বাংলা সরকার থেকে চাপ আসবে বুঝতে পেরে তিনি লক্ষ্মণমানিক্যের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদে নবাবের কাছে জানিয়ে দেন যে হাতির খেদা প্রস্তুত হচ্ছে শিগগিরই কর পাঠানো হবে। এভাবে লক্ষ্মণমানিক্য দ্বারা তিনি দুদিকে সামাল দিলেন। গদা ফকিরের ভবিষ্যৎ বার্তা সত্য বলে প্রমাণিত হলো। শমসের গাজী ত্রিপুরার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেন। ত্রিপুরার বাইরে নোয়াখালী, চট্টগ্রামে কিল্লা স্থাপন করে শমসের নিজের অধিকার সুদৃঢ় করেন।
কৈলাসচন্দ্রের রাজমালায় শমসের গাজীর প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। শমসের প্রশাসনিক কাজের জন্য সমতলের প্রতিটি পরগনায় একজন করে শাসনকর্তা নিয়োগ দেন। মুসলমানদের পাশাপাশি তিনি হিন্দুদেরও তার প্রশাসনে নিয়োগ দেন। আবদুল রাজ্জাক তার সেনাবাহিনীর দিওয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশালঘর অষ্টজঙ্গল পরগনার শাসনভার ন্যস্ত ছিল ছানাউল্লার হাতে। নুরনগর ও গঙ্গা মণ্ডলে আবদুল, জগত্পুরে গঙ্গাগোবিন্দ ও চৌদ্দগ্রামে হরিশ্চন্দ্রের ওপর শাসনভার অর্পণ করেন। রাজস্ব বিভাগের প্রধান দেওয়ান ছিলেন ধর্মপুরের গঙ্গাগোবিন্দ ও নায়েব দেওয়ান ছিলেন খণ্ডলের হরিহর। শমসের গাজী প্রজাদের জন্য বাজারদর নির্ধারণ করে দেন। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কেউ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারত না।
রাজমালা যেহেতু ত্রিপুরার রাজকবিদের দ্বারা লিখিত ত্রিপুরা রাজ্য ও রাজবংশের ইতিহাস, তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজমালাগুলোয় শমসের গাজীকে দস্যু হিসেবে চিত্রায়িত করে কঠোর সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। কৈলাসচন্দ্রের রাজমালায় দেখা যায় ‘শমসের যে কেবল চাকলা রোশনাবাদ অধিকার করিয়া নিরস্ত্র হইয়াছিলেন এমত নহে, তাহার অর্থের অভাব উপস্থিত হইলেই ত্রিপুরা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের অন্তর্গত পরগনাসমূহের দুর্ব্বল জমিদারদিগের গৃহে দস্যুবেশে প্রবেশ পূর্ব্বক অর্থ সংগ্রহ করিতেন। শমসের গাজীর প্রিয় ভক্ত সেখ মনোহরও ইহা অস্বীকার করিতে পারেননি।’ ঘটনার বর্ণনায় ভূপেন্দ্র চন্দ্র লিখেছেন, ‘সেখ মনোহর বলেন যে একজন কৃপণ জমিদারের গৃহ হইতে এক লক্ষ টাকা ডাকাতি করিয়া আনিয়াছিলেন।’ এছাড়া তিনি সীতাকুণ্ডের জ্বালামুখী কালীবাড়ীর সিন্দুক ডাকাতির জন্য শমসের গাজীর ব্যর্থ প্রচেষ্টার গল্প উল্লেখ করেছেন। এসব গল্পে অতিরঞ্জন থাকলেও এটি ধরে নেয়া যায় যে শমসের গাজীর দস্যুপনার দুর্নাম রটে যায়। ফলাফল তার জন্য সুখকর হয়নি।
বিরোধী পক্ষের বিবরণ হওয়া সত্ত্বেও রাজমালার লেখকরা শমসের গাজীর প্রশংসা করেছেন। সমালোচনার পাশাপাশি অতি প্রশংসার বাক্যগুলোও লক্ষণীয়। কৈলাসচন্দ্রের ভাষায় ‘শমসের গাজী প্রকৃতপক্ষে দাতা ছিলেন। তিনি অনেক হিন্দু মুসলমানকে চাকলা রোশনাবাদের মধ্যে অনেক নিষ্কর ভূমি দান করিয়া গিয়াছেন।’
শমসের গাজীর দস্যুবৃত্তির কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে তার পতন ত্বরান্বিত হয়। ভূপেন্দ্র চক্রবর্তী মনে করেন বাহুবলে অজেয় থাকলেও প্রজাসাধারণের মনে তিনি স্থান করে নিতে পারেননি। হাতি কর দিয়ে বাংলার নবাবকে সন্তুষ্ট রাখলেও তার অত্যাচার কাহিনী নবাবের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, যা যুবরাজ কৃষ্ণমানিক্যের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। যুবরাজ কৃষ্ণমানিক্য বাংলার নবাব মীর কাসিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিবেদন জানান। মীর কাসিম কৃষ্ণমানিক্যকে ‘ত্রিপুরাপতি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। নবাবের ফৌজ এসে অপ্রস্তুত শমসেরকে বন্দি করে নিয়ে যায়। নবাবের বিচারে শমসেরকে প্রাণদণ্ডাদেশ দেয়া হয় এবং তোপের মুখে বেঁধে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কাওছারা বেগম: গবেষক, ইতিহাস বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়






