২০০৯ সালের ১১
জুন সন্ধ্যায়
ইতালির একটি
স্যাটেলাইট টেলিভিশন
নেটওয়ার্ক একেবারেই
অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি
ঘটিয়েছিল। তারা
১৯৮১ সাল
থেকে ইতালিতে
নিষিদ্ধ একটি
চলচ্চিত্র প্রচার
করে। ছবিটি
লিবিয়ায় ইতালির
কয়েক দশকব্যাপী
ঔপনিবেশিক শাসন-নিপীড়নকে
উপজীব্য করে
নির্মিত হয়েছিল।
ছবিতে চিত্রিত
হয়েছে ঔপনিবেশিক
শাসনবিরোধী যোদ্ধা-নায়ক
‘ওমর আল
মুখতার’-এর
জীবন। সে
গ্রামবাসীর কাছে
‘মরুর সিংহ’
বলেই পরিচিত
ছিল। এ
নায়কের পুত্রের
ইতালি সফরের
মাধ্যমে ছবিটি
ইতালির কয়েক
প্রজন্মের মানুষের
দৃষ্টি আকর্ষণ
করে। এসব
ঘটনাক্রমে একই
সপ্তাহে যুক্ত
হয় লিবিয়ার
রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার
গাদ্দাফির ইতালি
সফর।
ভূমধ্যসাগরীয়
অঞ্চলে অটোমান
সাম্রাজ্যে ইউরোপীয়দের
বিজয় অভিযানের
অংশ হিসেবে
লিবিয়ায় ইতালির
আগ্রাসন শুরু
হয়েছিল ১৯১১
সালে। ১৮৯৬
সালে ইথিওপিয়ায়
অপমানজনক সামরিক
পরাজয়ের মতো
লিবিয়ায়ও ইতালির
ঔপনিবেশিক শাসন
প্রচেষ্টা ও
মাঝারি ধরনের
সামরিক অভিযানের
ফলাফল সর্বনাশা
হয়েছিল।
দক্ষিণ
ইতালির বিশেষত
সিসিলির হাজার
হাজার সেনা
লিবিয়ার মরুভূমিতে
২০ বছরেরও
বেশি সময়
ধরে চলা
যুদ্ধে অংশ
নিয়েছে এবং
তারা মরুভূমিতে
মৃত্যুর মুখে
ছিল। এভাবে
লিবিয়ার স্থানীয়
জনসংখ্যা কমে
গিয়েছিল। ১৯৪৩
সালে মিত্র
শক্তিগুলো ইতালির
সৈন্যবাহিনীকে লাথি
মেরে লিবিয়া
থেকে চিরতরে
বিদায় করে
দেয়ার সময়
লিবিয়ার জনসংখ্যা
১৯১২ সালের
তুলনায় কম
ছিল। কারণ
ইতালীয় সেনাবাহিনী
লিবিয়ার জনগণের
ওপর গণহত্যা
চালিয়েছিল।
এমন অমানবিক
আচরণের জন্য
ইতালীয়রা এতটাই
লজ্জিত ছিল
যে লায়ন অব
দ্য ডেজার্ট ছবিটি
দেশটিতে নিষিদ্ধ
ছিল। সিনেমার
অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে
ছিলেন অ্যান্টনি
কুইন, অলিভার
রিড, রড
স্টেইজার, জন
গিলগাড ও
আইরিন প্যাপাস।
ইতালির পর
১৯৮১ সালে
আন্তর্জাতিক পরিসরে
মুক্তি পায়
এবং এরপর
২০ বছর
ছবিটি ইতালিতে
নিষিদ্ধ করে
রাখা হয়েছিল।
সিনেমাটি নিষিদ্ধ
করার পেছনে
দাপ্তরিক কারণ
হিসেবে বলা
হয়েছিল যে
এ ছবিতে
ইতালির সেনাবাহিনীকে
আফ্রিকা, রাশিয়া,
আমেরিকা কিংবা
ব্রিটিশদের চেয়ে
আলাদা করে
নেতিবাচক হিসেবে
উপস্থাপন করা
হয়েছে।
এসব কোনো
কিছুই অবশ্য
ইতালির প্রধানমন্ত্রী
সিলভিও বারলুসকোনিকে
বিব্রত করতে
পারেনি। ইতালি
জাতিসংঘের নিরাপত্তা
পরিষদের স্থায়ী
আসন পাওয়ার
জন্য বহুদিন
ধরেই ঈপ্সিত,
কিন্তু তার
ইচ্ছায় গুড়েবালি
হয়ে যেতে
পারে নিপীড়িত
দেশ লিবিয়া
আপত্তি জানালে
এবং এমনকি
ইতালির পক্ষে
রাশিয়া, চীন
ও ফ্রান্সের
সমর্থন থাকলেও।
ইতালির নাগরিকরা
হতাশ ছিল।
কারণ তারা
মনে করে,
পূর্ববর্তী ঘটনার
জের ধরে
ইতালিকে দ্বিতীয়
শ্রেণীর মর্যাদা
দেয়া হচ্ছে
(অক্ষশক্তি হিসেবে)।
কিন্তু তাদের
অধিকাংশই জানে
না যে
ইতালিকে জাতিসংঘের
পূর্ণ সদস্যপদ
দেয়া হয়েছে
এই সেদিন—১৯৫৫
সালে। ইতালির
পৃথিবীর প্রভাবশালী
শক্তি হিসেবে
আবির্ভূত হওয়ার
ইচ্ছার প্রতিফলন
শুরু হয়েছিল
ত্রিপোলিতে।
১৯১১
থেকে ১৯১২
সালে আসলে
কী ঘটেছিল?
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ১৯১১ সালের সেপ্টেম্বরে তুরস্ক ও লিবীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ইতালির সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল। ইতালি এটাও জানত যে ইস্তাম্বুল থেকে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করা তুরস্কের পক্ষে অসম্ভব ছিল। অটোমান সাম্রাজ্য তখন অন্তিম দশায়। তুর্কি, আরব ও যাযাবরদের পাল্টা প্রতিরোধ যুদ্ধ ইতালীয়দের বিস্মিত করেছিল। এদের মধ্যে একজন ছিলেন কামাল আতাতুর্ক। নভেম্বরে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে ইতালি যুদ্ধকৌশল হিসেবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আকাশ থেকে গোলাবর্ষণ করে। যদিও এতে সীমিতসংখ্যক সৈন্য মারা যায়, উল্টো বেসামরিক মানুষ বেশি মারা গিয়েছিল।
জলপথে
প্রতিবন্ধকতার কারণে
স্থলপথে লিবিয়াকে
সহায়তা করার
জন্য তিউনিশিয়া
ও মিসর
থেকে সামরিক
যুদ্ধাস্ত্র পৌঁছাতে
থাকে। কিছু
উচ্চপদস্থ খ্রিস্টান
ক্যাথলিক যাজক
একে ইসলামের
বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ
বলে ঘোষণা
করেন। লিবিয়ার
জনগণ ইতালির
আধিপত্যের প্রতি
বিন্দুমাত্র নতি
স্বীকার করেনি।
১৯১২ সালের
অক্টোবরে তুরস্ক
শান্তি প্রতিষ্ঠায়
চুক্তিতে আগ্রহী
হয় পশ্চিম
বলকান অঞ্চল
থেকে আক্রমণের
ভয়ে এবং
এর ফলে
লিবিয়া ইতালির
সঙ্গে সংযুক্ত
হয়। ইতালি
রোডস আইল্যান্ডসকেও
দখল করেছিল।
ইতিহাসবিদরা মনে
করেন, লিবিয়া
যুদ্ধ ও
বলকান রাষ্ট্রগুলোয়
এর প্রভাব
ছিল প্রথম
বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম
প্রভাবক।
ইতালির
জন্য দুর্ভাগ্য
যে লিবিয়ায়
সংঘাত ১৯১২
সালে শেষ
হয়নি। একজন
শিক্ষক ও
পরবর্তীকালে যোদ্ধা
ওমর আল
মুখতারের নেতৃত্বে
গেরিলা যুদ্ধ
১৯৩০ সাল
নাগাদ চলছিল।
ইতালি তখন
লিবিয়ায় নিয়মিতভাবে
বেসামরিক লোকদের
হত্যাকাণ্ড ও
নিপীড়নে জড়িত
ছিল। যখন
একজন আরব
যোদ্ধা ওমর
মুখতারকে বলেছিল
যে ইতালীয়দের
মতো তিনিও
যেন লিবিয়ায়
কারাবন্দি একজন
ইতালির নাগরিককে
হত্যার অনুমতি
প্রদান করেন।
কিন্তু ওমর
সঙ্গে সঙ্গে
তা প্রত্যাখ্যান
করে বলেছিলেন,
‘তারা আমাদের
শিক্ষক নয়,
বরং আমরা
তাদের শিক্ষক।’
সেনুসি
আমিরকে কিছুদিনের
জন্য মরুভূমির
কুফরার একটি
ছিটমহল শাসন
করার অনুমতি
দেয়া হয়েছিল।
গ্রজিয়ানির বাহিনী
কুফরা ছাড়া
অন্য সব
স্থানীয় শাসনকে
ধ্বংস করে
দেয় ১৯৩১
সালে। কিন্তু
মুসলীম ধর্মীয়
এবং সমাজ
সংস্কারক দল
হিসেবে সেনুসির
ভ্রাতৃগোষ্ঠী যে
কোনো চেহারায়
ইতালিয় শাসনের
তীব্র বিরোধিতা
করেছিল। এমনকি
মিসরে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
সেনুসি সম্প্রদায়ের
অনেক যোদ্ধা
ব্রিটিশদের সঙ্গে
মিলে ইতালির
বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করেছিল।
কয়েক হাজারেরও বেশি সিসিলীয় সৈন্য ও ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় সৈন্য ত্রিপোলি ও এর আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তুলনামূলকভাবে খুব কমই তারা সফল হয়েছে যেমনটি সৈন্যদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। স্যাভয়ের দুর্গ পতনের সময় রবার্ট কাত্জ দেখলেন, সাম্রাজ্যবাদী সরকার যে রাস্তা তৈরি করেছিল, সেগুলো দিয়েই ইতালীয়রা পলায়ন করেছিল যখন ব্রিটিশরা তাদের ধাওয়া করেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
ত্রিপোলিতে বেশ কয়েক হাজার সিসিলীয় এবং ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বসবাস শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে ইতালি ওমর মুখতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে চেয়েছিল, তবে ভেতরের উদ্দেশ্য সৎ ছিল না, কারণ বিদ্রোহ দমন করতে আরো অনেক সৈন্য পাঠানো হয়েছিল। ফ্যাসিবাদ উত্থানের (১৯২২ সালে) আগেই স্থানীয়দের ফাঁসিতে ঝোলানো হতো কোনো বিচার ছাড়াই এবং গ্রাজিয়ানির আমলে (১৯২৯ থেকে) প্রশাসন বেসামরিক জনগণের জন্য কনসেনট্রেশন ক্যাম্প নির্মাণ করে। অন্যদিকে ওমর মুখতারের বিচার কোনো গ্রহণযোগ্য বিচারিক মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়নি। ইতালীয়রা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের দমন করেছিল লিবিয়ার মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ মানুষকে হত্যা করে, সংখ্যায় এ নিহত মানুষদের সংখ্যা দেড় লাখের মতো হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই খাবারের অভাবে ও রোগশোকে মারা যায় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পেই। ইতিহাসে মরুভূমিতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো ট্যাংক ব্যবহার করেন ইতালির সমর নেতা গ্রাজিয়ানি।
ভস্ম
হওয়া গ্রামের
বাড়িঘর ও
কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের
তথ্যচিত্র ও
ফুটেজ রয়েছে
যা দেখলে
বিস্মিত হতে
হয়। ইথিওপিয়ার
দ্বিতীয় মেনেলিকের
কাছে কয়েক
দশক আগে
শোচনীয় পরাজয়ের
গ্লানি ঘোচাতে
ও ইউরোপীয়
সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর
কাছে নিজেকে
শক্তিশালী হিসেবে
প্রমাণ করতে
ইতালি বেশ
তত্পর ছিল।
ফ্যাসিবাদী ইতালীয়
সরকারের দূরদৃষ্টি
না থাকায়
তারা বুঝতে
পারেনি যে
লিবিয়ার বিদ্রোহীদের
ফাঁসি দেয়ার
জন্য বোনা
রশিতে একদিন
তাদেরকেই ঝুলতে
হবে।
‘মরুভূমির
সিংহ’ ওমর
আল মুখতার
অবশেষে বন্দি
ও নিহত
হন। তাকে
লিবিয়ার জাতীয়
বীর হিসেবে
আখ্যায়িত করা
হয়। লিবিয়ার
সঙ্গে করা
ইতালির নয়া
চুক্তির তারিখটাকে
ইতালির পলায়ন
দিবস বলা
যায়। দিনটি
লিবিয়ার জাতীয়
দিবস হিসেবে
পালিত হয়।
সিসিলিয়ানদের জন্য
এ পরাজয়
ব্যাপক বেকারত্ব
বয়ে আনে।
ইতালীয়রা নিজেদের
কোনো জাতীয়
দিবসের তাত্পর্য
খুব কমই
বুঝতে পারে।
নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী
তত্পরতা এবং
তার ফলাফল
সম্পর্কে ইতালির
স্কুলগুলোয় তেমন
কিছু শিক্ষা
দেয়া হয়
না। ফলে
ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
থেকে পাস
করা গ্র্যাজুয়েটরা
এ ইতিহাস
সম্পর্কে খুব
কমই জ্ঞান
রাখেন।
১৯৮১
সালে মুস্তফা
আক্কাদের পরিচালনায়
লিবিয়া ও
ইতালির যৌথ
প্রযোজনায় মুক্তি
পাওয়া ওমর মুখতার,
লায়ন অব
দ্য ডেজার্ট ছিল
সেকালের অন্যতম
ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র।
এ ছবি
নির্মাণের খরচকে
বর্তমানের স্টার ওয়ারস ও
সুপারম্যানের সঙ্গে
তুলনা করা
চলে। লায়ন অব
দ্য ডেজার্ট ছবির
মোট বাজেট
ছিল ৩৫
মিলিয়ন ডলারের
মতো। লিবিয়ার
সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র
ও অন্যান্য
জাতির সঙ্গে
ভাল কূটনৈতিক
সম্পর্ক না
থাকায় ছবিটি
কখনো অ্যাকাডেমি
অ্যাওয়ার্ডের জন্য
বিবেচনা করা
হয়নি। ইউরোপ
ও মধ্যপ্রাচ্যে
সাময়িকভাবে এটা
প্রচারিত হয়েছিল।
বাণিজ্যিক মুনাফার
উদ্দেশ্যে সিনেমাটি
তৈরি করা
হয়নি। ছবিটি
বেশ আকর্ষণীয়
ছিল। ইতালির
নিরাপত্তা ব্যবস্থা,
সামরিক সাজসজ্জা,
সমরাস্ত্র ইত্যাদি
খুব সুন্দরভাবে
ফুটিয়ে তোলা
হয়েছে। অভিনেতারাও
নিখুঁতভাবে অভিনয়
করেছেন।
১৯৮২
সালে ইতালির
খ্রিস্টান ডেমোক্র্যাট
রাজনীতিবিদদের অনুরোধে
ছবির ইতালিয়
ভাষায় ডাবিং
বাতিল করা
হয়, যার
কারণে এর
রেটিং কমে
যায়। ইতালিয়
ভাষায় ডাবিং
হলে দেশটিতে
সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে
দেখানোর সুযোগ
ছিল। (কেন
কিরবিরের নির্দেশনায়
ও মাইকেল
পালোম্বোর গবেষণার
ওপর ভিত্তি
করে বিবিসির
প্রামাণ্যচিত্র ‘ফ্যাসিস্ট
লিগ্যাসি’রও
একই পরিণতি
হয়েছিল। অবশেষে
কয়েক বছর
আগে ইতালির
স্যাটেলাইট টেলিভিশন
প্রামাণ্যচিত্রটি প্রচারিত
হয়)
শুনতে
কৌতুকের মতো
মনে হলেও
এটা বাস্তব
যে ট্রেন্টে
ছবিটির প্রদর্শন
শুরু হলে
এক পর্যায়ে
গিউলিও এন্ড্রেয়োট্টি
সিনেমাটির কপি
লোকচক্ষুর অন্তরালে
সরিয়ে ফেলার
জন্য পুলিশকে
নির্দেশ দেন।
যা-ই
হোক, অবশেষে
২০০৯ সালে
লাভ-লোকসানের
চিন্তা ছাড়াই
ছবিটি দর্শকদের
জন্য প্রদর্শিত
হয়।
হ্যাঁ,
এটি স্বীকার
করতেই হয়
যে ইতালির
রাজনীতিবিদগণ কর্তৃক
ছবিটির প্রদর্শন
বন্ধ রাখার
চেষ্টা এক
প্রকার উদ্ভট
কৌতুকের মতোই
ছিল। আসলে
তারা কিসের
ভয় করেছিল?
এটা পরিষ্কার
যে লিবিয়ার
যুদ্ধ ও
এর ফলাফল
সম্পর্কে ইতালীয়রা
কম জানলেও
আরব বিশ্ব
এ যুদ্ধের
বিভীষিকা কখনই
ভুলবে না।
একটা দেশের
মোট জনসংখ্যার
২০ ভাগ
লোককে হত্যা
করার স্মৃতি
সহজেই ভুলে
যাওয়া যায়
না।
পরাজয়ের
পরও আরবদের
শান্ত ও
আত্মমর্যাদাশীল মনোভাবের
দিকে দৃষ্টিপাত
করলে যে
কেউ স্তম্ভিত
হয়ে যাবে।
২০০৮ সালের
৩০ আগস্ট
ইতালির তত্কালীন
প্রধানমন্ত্রী সিলভিও
বারলুসকোনি বেনগাজিতে
লিবিয়া ও
ওমর মুখতারের
উত্তরসূরিদের কাছে
ক্ষমা প্রার্থনা
করেন। তিনি
বলেন, ‘ইতালির
জনগণের পক্ষে
আপনাদের কাছে
এটা প্রকাশ
করা আমার
দায়িত্ব যে
আমাদের কারণে
আপনাদের মনে
যে গভীর
ক্ষতের সৃষ্টি
হয়েছে, তার
জন্য আমরা
আফসোস ও
দুঃখ প্রকাশ
করছি।’ তিনি
আরো বললে,
‘যদিও ২০০
মিলিয়ন ইউরোর
এ নতুন
চুক্তি ক্ষতিপূরণের
কিছুই না।
তবুও আশা
করব যা
গত গেছে
তা এ
চুক্তির মাধ্যমে
পেছনে ফেলে
আমরা এগিয়ে
যাব এবং
আমরা আপনাদের
অপরাধের জন্য
আপনাদের ক্ষমা
প্রার্থনা করছি।’
১৯১১-৪৩
সালের মধ্যে
লিবিয়ায় অনেক
সিসিলীয় যুবকের
জীবনাবসান হয়।
এ ইতিহাস
সম্পর্কে আজকের
সিসিলীয়রা বেশ
উদাসীন ও
অজ্ঞ। কিন্তু
নতুন এ
চুক্তি অতীতের
আঁধারে ঢেকে
যাওয়া ইতিহাসকে
জানার এবং
তা থেকে
শিক্ষা নেয়ার
সুযোগ করে
দিয়েছে।





