ভাষার রূপতত্ত্ব

ভাষার প্রধানত দুটি রূপ। একটি কথ্য বা মুখের ভাষা, অন্যটি লেখ্য বা লেখার ভাষা। শিশুরা মাতৃক্রোড়ে যে ভাষা শেখে সেটা অবশ্যই ভাষার চলতি বা কথ্য রূপ। অন্যদিকে শিশুরা পাঠ্যবই বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রমিত বা লেখ্য রূপের সঙ্গে পরিচিত হয়। কথ্য ভাষার স্থায়িত্ব কম, তা প্রতিনিয়ত খোলস বদলায়, নতুন শব্দ গ্রহণ, শব্দের অর্থ, উচ্চারণ ও অভিব্যক্তি পরিবর্তন এবং সংকোচন-প্রসারণ ঘটায়। তাই মুখের ভাষায় সহজেই পরিবর্তন ঘটে। এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই কালক্রমে বিভিন্ন ভাষার সৃষ্টি হয়। কথ্য ভাষার স্থায়িত্ব কম হলেও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এর প্রচার ও কার্যকারিতা অনেক বেশি। অন্যদিকে ভাষার লিখিত রূপের স্থায়িত্ব অধিক। ফলে সহজেই তার রূপ বদলায় না। যেমন কথ্য ভাষায় ‘হেনি’ লেখ্য ভাষায় ‘ফেনী’। কথা বলার ভাষাকে স্বজাতীয়, স্বদেশী যে নামেই ডাকা হোক না কেন, মানুষ মাতৃভাষায়ই কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

তুলনামূলক ধ্বনি

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার ভাষার মধ্যে উচ্চারণরীতির ভিন্নতার ফলে অনেক সময় আমরা তা সহজে বুঝে উঠতে পারি না। তথাপি  প্রত্যেক জেলার ভাষার মধ্যে স্থান বিশেষে নানাবিধ সামঞ্জস্য ও বৈচিত্র্যের সমাবেশ দৃষ্ট হয়। বর্তমান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, সেনবাগ, লক্ষ্মীপুরের কিছু অংশ, কুমিল্লার লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম অঞ্চলের লোকদের কথ্য ভাষার সঙ্গে ফেনীর মিল রয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালী উপভাষার ব্যাকরণসার প্রকাশ করেছিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘A Skeleton Grammar of Noakhali’ নামে। ভাষাবিদ ও গবেষক ড. দীনেশ চন্দ্র সিংহ রচিত ‘নোয়াখালীর মাটি ও মানুষ’ বইটিতে এককালের বৃহৎ নোয়াখালী অর্থাৎ ফেনীর পরশুরাম থেকে সন্দ্বীপের সুলতানপুর দ্বীপ এবং হাতিয়ার চর আমানুল্যাহ থেকে রামগঞ্জ ও সোনাইমুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের মানুষের কথা উঠেছে।

ভাষা বৈশিষ্ট্য

বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী এখনো স্থানীয় উপভাষায় কথা বলতে ভালোবাসে। এখানকার ভাষার বৈশিষ্ট্য একই রকম, একই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অবস্থিত বলে লোকসংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য, লোকক্রীড়া, আচার-রীতিনীতি প্রায় একই রকম। এখানকার মানুষ ‘প’ ও ‘ফ’-এর স্থলে ‘হ’ উচ্চারণ করে। যেমন পানি<হানি, ফুল<হুল, আমি<আঁই। ক্রিয়াপদে পুরুষভেদে ‘ছত্তি’ ও ছেন্নি’ উচ্চারিত হয়। ‘এ’-এর স্থলে অনেক ক্ষেত্রে ‘অ’ উচ্চারিত হয়। যেমন এখন<অন। মহাপ্রাণ ব্যবহার নেই বললেই চলে। যেমন গ চ ট ত প স ব্যবহার বেশি, অন্যদিকে ঘ ছ ঠ থ ভ শ-এর ব্যবহার খুবই সীমিত। কোনো ক্ষেত্রে ‘ঠ’-এর স্থানে ‘ড’ উচ্চারিত হয়। যেমন কাঁঠাল<কাঁডাল।

অঞ্চল ভেদে ভাষার ব্যবহার

অঞ্চল ভেদে লক্ষ্মীপুর এলাকার ভাষা ব্যবহারে কিছু ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে যারা শাহবাজপুর থেকে লক্ষ্মীপুরে বসতি গড়েছে তাদের ভাষাগত প্রভেদ সহজেই ধরা পড়ে। এছাড়া ফরিদপুর এলাকা থেকে আসা লোকের মুখের ভাষায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। যেমন দক্ষিণ রায়পুর এলাকায় ‘বলতে পারবো না’-কে  উচ্চারণ করে ‘কইতা হারতাম না’ বা ‘কইতাম হাইত্তাম ন’। ‘পড়তে বস’-কে দত্তপাড়ার পূর্ব দিকে বলে ‘হডিড় বয়’।  লক্ষ্মীপুরের অন্য এলাকায় বলে ‘ হড়তি বয়’। আবার নোয়াখালী-ফেনীর কোনো কোনো অঞ্চলে বলে ‘হইটতি বয়’।  আবার নোয়াখালীর সেনবাগ অঞ্চলের  উত্তর ও দক্ষিণ অংশে ধ্বনি প্রভেদ লক্ষণীয়। যেমন হাঁদিত্তে-দো আইনজা, ডগিমালা-টগবা, গঁইর লাড়ি-গঁই, নাইনজা-হিঁপা, হুইর-হইর, লাইল-আইল, টোঁড়া-লইগ্গা।

নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের উচ্চারণে শব্দের আদ্যক্ষর ‘প’ থাকলে তা সাধারণত আঞ্চলিক ভাষায় ‘হ’-এর মতো উচ্চারিত হয়। আবার ফেনী অঞ্চলের কথ্য ভাষায় স, শ, ষ বর্ণের উচ্চারণে তেমন পার্থক্য থাকে না। স্থানীয়ভাবে ‘চাটিগ্রামী’ বলে অভিবাসীদের উচ্চারণে ‘ড়’-এর উচ্চারণ ‘র’-এর মতো হয়। বস্তুত মধ্য যুগে মগ ও ফিরিঙ্গির অত্যাচারের ভয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে অনেক মুসলমান পরিবার ফেনীর দাদরা ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অভিযোজিত হয়ে বসতি স্থাপন করে। তারাই এতদঞ্চলে ‘চাটিগ্রামী’ নামে অভিসিক্ত। একই স্থানে বংশপরম্পরায় বসবাস করলেও তাদের উচ্চারণ স্থানীয়দের মতো নয়। ফেনী অঞ্চলে প্রচুর আরবি, ফার্সি, ও পশতু শব্দ প্রচলিত আছে। স্থানীয় কথ্য ভাষায় এমন অনেক শব্দ উচ্চারিত হয়, যা বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের মানুষ সহজে বুঝতে পারে না। যেমন হোলা>ছেলে, মাইয়্যা>মেয়ে, ছালন>তরকারি, সুরবা>তরকারির ঝোল, ঘরবা>মেহমান, হোঁয়া>শসা, হোর>শ্বশুর, হোরি>শাশুড়ি, আঁই>আমি, তুঁই>তুমি, হে/হেতে>> সে, হ্যাতেন>তিনি/উনি, হুব>পূর্ব, হইর>পুকুর/ফকির, হাঁক্কানে>সামনে, ওঁচে>ওপরে, এক্কেনা>একটু, কন্ডে>কোথায়, রাঁই>বিধবা, হেগুন>তারা, হেমুই>সেখানে, কিল্লাই/কিয়েল্লাই>কেন, বিছইন>হাতপাখা, বাইয়ুন>বেগুন, কলমতরাজ> ছোরা, মিন্নতি>কাজের লোক, ঢেঁই> ঢেঁকি।

কথ্য শব্দের আদিতে, মধ্যে, শেষে যুক্ত বর্ণে আবার কোথাও রয়েছে বর্ণ বৈচিত্র্য। যেমন তুই যদি আর হেইমুই যাচ হেইলে/ হেলে তোরে মুই দি হোতায়/ হোথায় থুই উম’ (অর্থাৎ তুমি যদি আর সেই দিকে যাও তবে তোমাকে ঘুসি দিয়ে শুইয়ে রাখব)। হেইতার লাই দুই আন লাই কিনি আনিস (অর্থাৎ তার জন্য দু’খানা ঝাঁকা কিনি আনিস)।

এ অঞ্চলের এমন কিছু শব্দ ও কথার প্রচলন আছে যা দেশের অন্য অঞ্চলে প্রচারিত নয়। যেমন  খোন্দতি (গর্ভবতী), খাইচ্চৎ (প্রকৃতি/ স্বভাব), হিনাইড্ডা/ হিন্নারিয়া (হিংসুক), ঘাউড্ঘা/ ঘাঁউয়া/ ঘাউরা (অবাধ্য), চেতাচেতি (রাগারাগি/ চটাচটি), রেনা/ রেনারেনি  (দেখা-তাকানো/  দেখাদেখি), কাইজ্জা/ কজ্জিয়া (কলহ-বিবাদ), হোরা-হাফটি (ময়লা-আবর্জনা/ জঞ্জাল), আউআ/ আউয়ানো (উচ্চস্বরে রোদন/ চিৎকার), ছেপরা-খাঅন (চেমরিয়ে ওঠা/ আঁতকে ওঠা), শলা/ হলা (পরামর্শ), মোচ (গোঁফ), মিডা (মিষ্টি)।

ভাষাবিজ্ঞানীরা ফেনী-নোয়াখালী অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের হিন্দি ও মারাঠি ভাষার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান বলে মনে করেন। তবে তা পুরোদস্তুর প্রভাব ফেলতে পারেনি। এখানকার ভাষার সৌকর্যই আলাদা। ভারতের অন্য অঞ্চলের ভাষার সঙ্গে আরো এক শ্রেণীর ‘পদ’ এ ভাষায় ব্যবহূত হয়ে আসছে। যেমন হাঁচা, গান-আনা, বৃষ্টি-বাদল, বইন প্রভৃতি পদের সঙ্গে যথাক্রমে হিন্দি ‘সচ’, ‘গানেওয়ালা’, ‘বল’, ‘বাহিন’-এর সাদৃশ্য রয়েছে। এ অঞ্চলে বলা হয় ‘রাম নাম হাঁচা’ অর্থাৎ রাম নাম সত্য। হিন্দিতে বলে ‘রাম নাম সচ হ্যায়’। ‘সচ’ পদের অপভ্রংশেই যে ‘হাঁচার’ উত্পত্তি হয়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

নিরক্ষর বা তৃণমূলের মানুষেরা যাকে ভৈঁস বলে, শিক্ষিত আর ভাষাসচেতনরা তাকে বলে ‘মহিষ’। এ দেশে বলে ‘এউগ্গা/এগ্গা জ্যাঁঅডা/ জ্যাঁতা ভৈঁস হানিত হড়ি গেছে। (অর্থাৎ হিন্দিতে কথাটা এ রকম: ‘একঠো জিন্দা ভৈসা পানিতে গির গয়া’) একইভাবে ‘তিনি আমাকে মেরেছেন’ এই বাক্যের হিন্দি রূপ ‘উনহোনে হামকো মারা’। ফেনী-নোয়াখালীর ভাষায় ‘হেইতেনে/ হ্যাঁতেনে আঁরে মাইচ্ছে’। এ স্থলে হিন্দি তৃতীয়া বিভক্তি জ্ঞাপক ‘নে’ প্রত্যয়ের সঙ্গে ‘হেইতনে’ পদের ‘নে’র যেন একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনুরূপভাবে  ‘কাউয়া’, ‘চীল্লনা’, ‘কুঁদনা’ প্রভৃতির সাথে বাংলায় ‘কাউয়া-চিল্লান-কুদন’-এর মিল রয়েছে। উল্লিখিত পদগুলোর বাংলা প্রতিশব্দ যথাক্রমে কাক-চিৎকার করা-লাফ দেয়া বা নাচ করা।

বিভক্তিযুক্ত ধ্বনিতত্ত্ব

মারাঠি পঞ্চমী ও সপ্তমী বিভক্তির সঙ্গে এতদঞ্চলের অনুরূপ বিভক্তির সামঞ্জস্য বিদ্যমান। যেমন হিয়ানতুন গবিন্দ বাড়িত আইল। অর্থাৎ সেখান থেকে গোবিন্দ বাড়িতে এল। বাক্যটি মারাঠিতে অনুবাদ করলে হয় ‘তেথুন গোবিন্দা ঘরি আলা’। এ স্থলেও সপ্তমী বিভক্তিযুক্ত ‘বাড়িত’ ও ‘ঘরিত’ পদদ্বয়ের শেষে ‘ত’ থাকায় মারাঠি ও নোয়াখালীর ভাষার সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা এ অঞ্চলের বাসিন্দারা কয়েকশ বছর ধরে একই ভাষায় কথা বলি, হূদয় নিঃশব্দে সংশয়হীন চিত্তে স্থানীয় ভাষা ব্যবহার করি। আমাদের বৃহত্তর নোয়াখালীর ভাষায় ‘পানিকে ‘হানি’, তেমনি ‘হ’-কেন্দ্রিক হেগুন - তারা, হগুন/ হক্কুন - শকুন, হাগুন - ফাগুন, হিম্বা - পিঁপড়া, হিছে - পিছনে, হোলা-পোলা/ ছেলে, হোর - শ্বশুর, হোড়ি/ হোরি/ হয় - শাশুড়ি, হইক - পাখি, হুয়র - শুকুন, হাঁ - পা, হাছা - সত্যি, হাংগাইয়া/ হাইগুটি - দ্বিতীয় স্বামী, হইর-ফকির, হিয়াল - শিয়াল, হিত - শীত, হোনা - সোনা/ স্বর্ণ।

কেবল ‘হ’-তে নয়, অন্যান্য বর্ণেও কিছু বৈচিত্র্য রয়েছে। যেমন কতা - কথা, কন্ডে/ কোনায়/ কোনহানে- কোথায়/ কোনখানে, কুত্তা-কুকুর, খোবিশ - অপরিষ্কার, খোন্দতি - গর্ভবতী, গৈয়ম - পেয়ারা, ঘরবা - মেহমান, ঘাঁড়ারআগ - বাড়ির দরজা, চুঙ্গা - নলবাক্স, ছ্যাপ - থুথু, জুদা - আলাদা, জ্যাঁআতা/ জিন্দা - জীবিত, টেঁয়া - টাকা, ট্যাকসি - ট্যাক্সি, ঠাইলে - ডালে, ঠাডা - বজ্রপাত, ডরে - ভয়ে, ঢেঁই - ঢেঁকি, ড্যাবডেইব্যা - নরম, ধুই হিডা - চাউলের গুঁড়ি পিঠা, তুঁই - তুমি, তরাই - অসংগতি, থোয় না - রাখে না, থাইকৎ - রাখলে, দুইন্নাই - দুনিয়া, দুগা - দুই, নাইচ্ছা - কচিপাট গাছ, নাইছত - নাচত, নেবু - লেবু, পোলা - পুত্র, হাডা- হুতা - পাটা-শিল, হাইল্যা/ ফাইল্যা- পাতিল, ফাদ - অধঃবায়ু, ফানুপ/ ফানকশাপ - গোখরো সাপ, ফিরা/ হিড়ি-পিঁড়ি, বেআইয়ান - বেয়ান, বিয়া-বিয়ে, বাপ - বাবা, ভালা - ভালো, ভৈঁস-মহিষ, ভেড়ি-বাঁধ/ জমির আইল, বিছুইন - হাতপাখা, মাইয়া-মেয়ে, মুত-প্রস্রাব, মাডি-মাটি, মছঈদ-মসজিদ, মাইনশের-মানুষের, যিজিন/ যিগাইন- যেটুকু, যাইউস/ যাইস/ যামু-যাব, রাঁই-বিধবা, রইদ-রৌদ, রাইচ্ছা/ রাইতকা - রাতে, রেনি-দেখি, ল্যাহাহড়া লেখাপড়া, লটকন - নাকের অলংকার/ নাকফুল বিশেষ, লড়রবড়র - চঞ্চলতা/ অস্থিরতা/ বিশৃঙ্খল/ এলোমেলো ভাব, লাই- প্রশ্রয়, শরমিন্দা - লজ্জাবতী/ লাজুক, শাঅন-শাওন/ শ্রাবণ, শাইকানি - বড়কানি (জমির মাপ বিশেষ), শুঅর - শূকর, সুড়গায় - ছোটটায়, সুরবা - তরকারির ঝোল, সোন্দর - সুন্দর।

ভাষা গবেষক মতামত

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সমালোচক বুদ্ধদেব বসু বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে কৈশোর-যৌবন কেটেছে কুমিল্লায়, নোয়াখালীতে, শেষ জীবন কলকাতায়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভাষা বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘পূর্ব বাংলার দক্ষিণপূর্ব সীমান্তের ভাষা বৈশিষ্ট্য বিস্ময়কর। চাটগাঁর যেটা খাঁটি ভাষা তাকে তো বাংলায়ই বলা যায় না, আর নোয়াখালীর ভাষা আমার মতো জাত বাঙালকেও কথায় কথায় চমকে দিত। শুধু যে ক্রিয়াপদের প্রত্যয় অন্য রকম তা নয়,  শুধু যে উচ্চারণে অর্ধস্ফুট “হ”-এর ছড়াছড়ি তাও নয়, নানা জিনিসের নামই শুনতুম আলাদা। সে সমস্ত কথা মুসলমানি বলে মনে করতে পারি না। অনেক তার মগ, কিছু হতো তার বর্মি আর পর্তুগিজের কোনো না কোনো ছিটেফোঁটা। একে তো সমস্ত বাংলায় পাণ্ডব বর্জিত, তার ওপর বাংলার মধ্যেও অনার্যতর হলো বাংলাদেশ, আর সেই বাংলাদেশেও সবচেয়ে দূর বিছিন্ন, মিশ্রিত, অশ্রুত এই নোয়াখালী।’

শেষ কথা

বৃহত্তর নোয়াখালীতে (ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ) আদি ‘প’ কি ‘ফ’ না ‘হ’, ‘পান’ কি ‘ফান’ না ‘হান’? সেই ‘ফ’-এর কি রূপ ‘হ’ প্রকৃত তফাৎ কী তা আরো গবেষণার বিষয়। তবে এ কথা সত্য যে মহামহিম মানুষেরা  জন্ম নিয়েছিলেন নোয়াখালীর মাটিতেই। যেমন ভাষাতত্ত্ববিদ শহীদ মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে জেল খেটেছেন দৈনিক বাংলার প্রখ্যাত সাংবাদিক কামাল উদ্দীন আহমদ। পুরো বাংলা ভাষা আন্দোলনে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ছিলেন ফেনীর ভাষাসৈনিক গাজিউল হক। প্রাণ দিয়েছিলেন ভাষাসৈনিক আবদুস সালাম এবং জেল খেটেছেন মরহুম কবি বেলাল চীেধুরী, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার ও অনেক কৃতী সন্তান।

 

ম পানা উল্যাহ্: শিক্ষক ও লেখক