একটা গুঞ্জন বেশ প্রচলিত। পলাশীর প্রান্তরে ঘুমিয়ে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ। অন্তত দুই ব্যক্তি এ বিষয়ে অভিযোগ করে। জবাবে ১৭৫৭ সালের জুনে সংঘটিত পলাশীর ঘটনাকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ ঐতিহাসিক রবার্ট ওর্মে একটি চিঠি লেখেন। তিনি দাবি করেন, ‘পলাশীর ময়দানে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গেই হাজির ছিলাম। তার প্রতিটি নির্দেশনা এবং তা কীভাবে পালিত হয়, তা সামনে থেকে দেখেছি। সে সূত্র ধরেই বলতে চাই, ওই যুদ্ধ সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে, তা মিথ্যা। সে ঘটনার বিবরণ শুনে যে কেউ বিচার বিশ্লেষণ করতে পারবে। ২৩ জুন ভোর ৩টার দিকেই এক হাজার ইউরোপীয় এবং দুই হাজার সিপাহি পলাশীর ময়দানে এসে হাজির হয়। ভোরে দেখা যায় সিরাজউদ্দৌলার সেনাবাহিনী তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ইংরেজ সেনাপ্রধান নিজেই বাহিনীর দায়িত্ব নেন এবং পুরোটা সময় তিনি সামনের দিকে ছিলেন, যতক্ষণ না শত্রুপক্ষ পিছু হটে। ময়দান পরিষ্কার হলে তিনি পাশের স্থাপনায় দাঁড়ালেন। কারণ তখন কোনো তাঁবু ছিল না। তার কাপড় বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল। কিন্তু কাপড় বদলানোর আগেই তার কাছে খবর পৌঁছল, তার বাহিনীর একটা অংশ ময়দানের বাইরে নবাব ও ফরাসি বাহিনীর অবস্থানরত অংশের দিকে চলে গেছে। তার নির্দেশনা ছাড়াই এমন ঘটনা ঘটে গেছে দেখে তিনি বিস্মিত হন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি সে দলের নিকটবর্তী হন, যার সামনে ছিলেন মেজর কিলপ্যাট্রিক। তার অসৈন্যসুলভ আচরণের জন্য তিনি ভর্ৎসনা করেন এবং নিজে দায়িত্ব নিয়ে সৈন্যদলকে ময়দানে ফিরিয়ে আনেন। দ্বিতীয়বারের মতো শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হয়ে তাদের বিপর্যস্ত করা পর্যন্ত তিনি সামনেই ছিলেন।’
লেখক একই সঙ্গে ক্লাইভ ও সিরাজের বাহিনীর বর্ণনা তুলে ধরেছেন তার লেখায়। পাশাপাশি তিনি যুদ্ধে ক্লাইভের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধবিষয়ক সভার মতামতের জন্য না, সেনাপতি নিজ দায়িত্বে নদী পার হয়েছেন, শত্রুদের মোকাবেলা করেছেন পলাশীর প্রান্তরে। আমি আমার বক্তব্যের পক্ষে সব ধরনের প্রমাণ দিতে সম্মত আছি। ফলে আমি প্রিন্টারকে এ নির্দেশনা দিয়ে দিচ্ছি যে যদি কেউ সত্যটা জানতে চায়, তাকে যেন আমার নামটা বলে দেয়া হয়।’
রবার্ট ওর্মে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন ঐতিহাসিক। তার ইচ্ছা ছিল পূর্ব ভারতের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করা, যাতে ব্রিটিশ জনসাধারণ অঞ্চলটির বিষয়াবলি সম্পর্কে অবগত হতে পারে। এ উদ্দেশ্য নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লেখক হিসেবে ১৭৪২ সালে কলকাতায় আসেন। তার শিক্ষা ও পাণ্ডিত্য বিবেচনা করে কোর্ট অব ডাইরেক্টরস ওর্মেকে মাদ্রাজ কাউন্সিলের একজন সদস্য নিয়োগ করে। রবার্ট ক্লাইভের অন্তরঙ্গ বন্ধু ওর্মেই মাদ্রাজ কাউন্সিলকে বাংলায় সামরিক অভিযানে ক্লাইভকে সেনাপতি করতে প্রভাবিত করেন। ক্লাইভও ক্ষমতায় থাকাকালে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সংঘটিত রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোর আলোকে অঞ্চলটির একটি ইতিহাস রচনার জন্য মূলত তার বন্ধুকে কলকাতায় নিয়ে আসেন।









