শাসক হওয়ার দায় ঢের। হামেশাই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব হাজির করতে হয়। কখনো নতুন ভূখণ্ড জয়ের মাধ্যমে, কখনোবা ভেতরের শত্রু দমন করে। ৯১২ সালে মসনদে বসার সময়েই তৃতীয় আবদুর রহমান বিষয়টি বুঝেছিলেন। তাই প্রমাণও দিয়েছেন দফায় দফায়। কিন্তু খলিফা হওয়া তো আর কেবল শাসক হয়ে থাকা না। দুনিয়ায় নিজেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ঘোষণা করার শামিল। দামেশকে তার পূর্বপুরুষ খলিফা ছিল। বাগদাদে চলছে আব্বাসীয় ও কায়রোতে ফাতেমীয় খলিফাদের দাপট। এমন অবস্থায় ৯২৯ সালে তৃতীয় আবদুর রহমান যখন নিজেকে খলিফা ঘোষণা করলেন, তখনই উদ্যোগ নেন নতুন নগরী নির্মাণের। বাগদাদ কিংবা কায়রোর সমান্তরালে কোনো নগরী প্রতিষ্ঠার। ব্যর্থ হননি তিনি। ৩০ বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠিত বিস্ময়কর সে নগরী ইতিহাসে পরিচিত মদিনা-তুজ-জাহরা বা জাহরা নগরী নামে।
দশম শতাব্দীতে জাহরা নগরীর লোকসংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। তৃতীয় আবদুর রহমান মদিনা-তুজ-জাহরার কাজ শুরু করার জন্য কর্ডোবার পশ্চিমে নদীর তীরবর্তী উপত্যকা অঞ্চলকেই বেছে নেন। দুটি নগরীই ছিল রাজধানীর মতো। কর্ডোবা অনেকটা বাণিজ্যিক কিন্তু জাহরা যেন অনেক বেশি প্রশাসনিক ও আন্তর্জাতিক রূপ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উমাইয়া শাসনে ফিতনা শুরু হলে নগরীটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ অল্প সময়েই সেখানকার স্থাপনা দেখে আন্দাজ করা যায় বসতি ও জীবন। জাহরা ছিল দুর্গনগরী। ভেতরে ছিল খলিফা, তার বংশধর, স্ত্রী, দাসী, প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের আবাসভূমি। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আয়োজনের কেন্দ্রও। ফলে জাহরার জীবন ছিল খেলাফতের অভিজাত শ্রেণীর জীবন।
জাহরা নগরীর প্রধান স্থাপনাগুলো দশম শতাব্দীর চল্লিশের দশকে নির্মিত, বাকিগুলো পঞ্চাশের দশকে। বড় ভবনগুলোয় প্রবেশাধিকার ছিল সংরক্ষিত। এর বাইরে কতেকটা বসবাসের জন্য, কিছু কর্মক্ষেত্র হিসেবে আর বাকিগুলোর ব্যবহার ছিল নানাবিধ। খলিফা, তার বংশধর ও হাজিব জাফর ইবনে আবদুর রহমানের বসবাসের জায়গা চিহ্নিত করতে পেরেছেন ঐতিহাসিকরা। খলিফার ব্যক্তিগত কাজে কতজন লোককে নিয়োগ দেয়া হতো, সেটা বের করা মুশকিল। বিভিন্ন পদে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ কাজ করত। ছিল আবিদ, ফিতয়ান, গিলমান ও হুদ্দামের মতো পদ; অধিকাংশই মূলত দাসদাসী। তারা প্রশাসনিক ও গৃহস্থালি কাজ করত। তবে সবার জন্য খলিফা পর্যন্ত যাওয়া অনুমোদিত ছিল না। কে যেতে পারবে আর কে পারবে না, সেটা নিয়েও আবার পার্থক্য ছিল দাসদাসীদের মধ্যে। হারেম নারীদের অবাধ চলার জায়গা, তৎকালীন মুসলিম দুনিয়ার অন্যান্য প্রাসাদের চেয়ে জাহরার প্রাসাদ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল না।
খলিফা সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে উঁচু পদ। তারা চাইলে নানা উপাধি নিতেন। আন্দালুসের শাসক যে ইমাম উপাধি নিতেন, সেটাও বুঝা যায। শাসকের জন্য ছিল কয়েকজন সেবক। তারাও কাছাকাছি বসবাস করত। জাহরা দুর্গনগরী নির্মাণের সময়ই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক তদারকির জন্য লোকদের আলাদা জায়গা রাখা হয়। রাজকীয় বংশধরদের পড়াশোনার জন্য নিয়োগ দেয়া হতো শিক্ষক; তাদের বসবাসও ছিল কাছেই।
যে প্রাসাদগুলোয় খলিফার পরিবারের সদস্যদের বসবাস ছিল, সেগুলোয় বসবাস করত দাসী। সেবা করার জন্য ছিল দাসদল। দাসদের বড় একটা অংশ ছিল ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। শহরটিতে সিংহাসন কক্ষ, সরকারি অফিস, বিলাসী সামগ্রী উৎপাদনকারী কর্মশালা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাসভবন এবং নিচের দিকে সাধারণ শ্রমিকদের জন্য বাজার ও আবাসিক অঞ্চল ছিল। শহরের জন্য বরাদ্দ ছিল ব্যবস্থাপক, বিচারক ও পুলিশপ্রধান। বিশেষ করে সংস্কৃতিমনা খলিফা দ্বিতীয় হাকিমের অধীনে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়। লাইব্রেরিতে আরবি, গ্রিক ও লাতিনে শত শত বই রাখ থাকত। ধর্মীয় আচারের জন্য ছিল একটা অতিকায় মসজিদ ও নিকটবর্তী এক বা একাধিক ছোট মসজিদ। সরকারি কর্মশালায় উৎপাদিত বস্তু উপহার হিসেবে দেয়া হতো। সেগুলোর বড় একটা অংশ বর্তমানে শোভাবর্ধন করে রেখেছে স্পেনের মিউজিয়াম ও খ্রিস্টান ক্যাথেড্রালে।
আন্দালুসের খলিফার চারপাশে বিশেষ রক্ষী থাকত। জাহরা নগরীতেই তাদের বড় অংশ বসবাস করত। যেহেতু উৎসব ও অভ্যর্থনাগুলো বিদেশী দূতদের প্রভাবিত করার জন্য আয়োজন করা হতো এখানেই, ফলে তাকে সাজানোর ওপরও নির্ভর করত শাসকের সক্ষমতা ও রুচিবোধ। খলিফা নিজে তার দর্শনকক্ষে পেছনে ও কেন্দ্রে বসে থাকতেন। সামনে ঘিরে থাকতেন দরবারের উপস্থিত কর্মকর্তারা। এ সময়ে খলিফা ক্রমে আলাদা অবস্থান নিতে থাকেন নিরাপত্তার প্রশ্নে। ফাতেমীয় খলিফারা একটি পর্দার আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে রাখতেন। আন্দালুসের খলিফারা নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে দূরে নিলেও পর্দার ব্যবহার করেননি।
খলিফার পরিবারের বিভিন্ন সদস্য বা অন্যান্য ধনী অভিজাতরা নিজস্ব ভিলা ও প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন। এটাই ছিল তখনকার ঐতিহ্য। সম্ভবত রোমান প্রাসাদ নির্মাণের ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত। পরিবারের সদস্যদের খলিফা এমন ধরনের প্রাসাদে রেখেছিলেন, যাতে তারা জাহরা নগরীর কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে দূরে থাকেন। তার বদলে তাদের জন্য মোটা অংকের ভাতা প্রদান করতেন। এতে তারা কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতেন না রাজকার্যে। খলিফার বাসভবনের পাশেই ছিল পৃথক জায়গা। সেখানে বসবাস করতেন দরবারের নানা পেশাজীবী। তার পাশেই আস্তাবল। স্বাভাবিকভাবেই অশ্বারোহী বাহিনীর উপস্থিতি ও সামরিক শক্তিমত্তার ইঙ্গিত দেয়। জাহরা নগরীকে ঘিরেই ছিল তাদের বসবাস।
তৎকালীন মুসলিম সমাজ ব্যবস্থায় স্তরায়ন ঘটেছিল। দাস ছিল সেখানে একটা ব্যাপক অভিধা। দার্শনিক আল ফারাবির গ্রন্থ থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় দাসদের মধ্যে বিভিন্নজন বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। সেটা গৃহস্থালি থেকে শুরু করে প্রশাসনিকও হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে মালিকের সম্পত্তির মালিকানা পেতেন দাস; এমনকি শাসকের উত্তরাধিকার হিসেবে তার দাসের মসনদে বসার উদাহরণও রয়েছে প্রচুর। খলিফা নিজেই নিজের পরিচয় দিতেন খোদার দাস। আর খলিফার সেবক হিসেবে অগ্রগণ্য পদ ছিল হাজিব। আন্দালুসের প্রাসাদ রাজনীতিতে হাজিবদের ভূমিকা ছিল ব্যাপক। খলিফার সেবায় ফাতা ও মাওলা পদও তৈরি হয়েছিল। তারাও বসবাস করতেন আশপাশেই। খলিফা যখন কর্ডোবা থেকে নতুন নগরীতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি একা যাননি। সঙ্গে যায় তার দেহরক্ষী, কোষাগার, বয়ন কারখানা ও তাদের কর্মীরা। সবাই মিলেই তৈরি হয়েছিল জাহরা নগরীর জনজীবন।
জাহরা নগরীর চেহারা ছিল মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো। খলিফা পাশাপাশি তিনটা প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন গুয়াদাল কুইভারের উপত্যকায়। প্রতিটির সঙ্গেই রয়েছে বাগান। একটা খলিফার ব্যক্তিগত বাসস্থান। সেখানে ছিল স্ত্রী, দাসী ও গৃহস্থালি দাসদের বসবাস। ৯৬১ সালে যখন আবদুর রহমান মারা যান, বলা হয় তখন তার প্রাসাদে ৩ হাজার ৭৫০ দাস ও ৬ হাজার ৭৫০ দাসী ছিল। ব্যক্তিগত প্রাসাদের পরেই আছে প্রশাসনিক ভবন। সেখানে নানা ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পালিত হতো। এখানেই বরণ করা হতো বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রাজকীয় দূত। শাসকের নীতিও এখান থেকেই বের হতো। বসবাস করত উচ্চ কর্মকর্তা ও দরবারের সদস্যরা। বসবাস করত মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদির পাশাপাশি তাদের পরিজন। এখান থেকেই দূত প্রেরণ করা হতো ভূমধ্যসাগরের চারপাশে। সবার নিচের দিকের অংশটা মূলত ছিল জনগণের জন্য। সেখানে বসবাস করত হাজারো শ্রমিক, শিল্পী ও নির্মাতারা। জাহরা দুর্গনগরীকে ঘিরে ছিল দীর্ঘ প্রতিরক্ষা প্রাচীর।
উপত্যকায় ওপরের দিকের দুইটা ভবনই সিল্কের পর্দা দিয়ে ঘেরা ছিল। মাঝে অবস্থিত মজলিস ছিল আভিজাত্যপূর্ণ। যেহেতু এখানে বিদেশী দূত আসত; তারা যেন বিস্মিত হয় খলিফার আভিজাত্য দেখে, তার কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখা হয়নি। সামরিক অভিযানে পাওয়া মূল্যবান প্রাপ্তি, বিস্ময়কর সংগ্রহ ও উপহার সাজানো থাকত থরে থরে। অনেকটা কুরআনে বর্ণিত শাসক সুলাইমানের প্রাসাদ যেন। এছাড়া সেখানে বিরল গাছের কাঠ, পৌরাণিক প্রাণীর চিত্রকর্ম ও আফ্রিকান হাতির দাতের বাক্স থাকত। আর থাকত আরবি, গ্রিক ও লাতিন ভাষায় লিখিত হাজার হাজার বইয়ে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।
খলিফা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকত খোজা সম্প্রদায়। হেরেমের নারীদের নিরাপত্তার জন্যই তাদের খোজা করা হতো। তাদের বড় অংশ ছিল উত্তর ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত। নৃতাত্ত্বিক সহাবস্থান ছিল জাহরা নগরীতে। মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা বসবাস করত পাশাপাশি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিকারও আদায় করে নিত। এমনই একটা গল্প প্রচলিত আছে। এক নারী রাজপরিবারের কাপড় পরিষ্কার করতেন। একবার তার সঙ্গে একবার খলিফার দেখা হয়। সেটা তার পরিবারের জন্যই মঙ্গলজনক হয়। আবদুর রহমান তার ভাইকে সামরিক উচ্চপদে আসীন করেন। বৈবাহিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সহাবস্থানের নজির দেখা যায়। যদিও তৃতীয় আবদুর রহমান বিয়ে করেছিলেন ফাতিমা নামে নিজের দুঃসম্পর্কের এক আত্মীয়কেই। কিন্তু সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত খ্রিস্টান রমণী মারজানের সঙ্গেও তার সম্পর্ক গভীর হয়। তার সন্তান ও মসনদের ওয়ারিশ আল হাকাম জন্মগ্রহণ করেছেন এ মারজানের গর্ভেই।
মদিনা-তুজ-জাহরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও কর্ডোবা বাণিজ্যিক রাজধানী ছিল। কিন্তু জাহরার প্রতিষ্ঠা ছিল অন্য মাত্রার। আরবরা আন্দালুসের সমাজে কতটা গভীরভাবে মিশে গিয়েছিল তার নজির জাহরা। ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন রাজ্যের যুবরাজরা এখানে আসতেন। খলিফা থাকতেন তাদের সামনে পৃষ্ঠপোষকের মতো। খরার সময় সামগ্রিকভাবে তৎপরতা চলত। সামরিক প্যারেড হতো। যুদ্ধ শেষে বীরেরা ফিরতেন অর্জিত সম্পদ ও বন্দি নিয়ে। যখন খলিফা ও পরিবারের সদস্যরা জাহরা থেকে কর্ডোভার দিকে যাত্রা করতেন; কিংবা কর্ডোবা থেকে জাহরায় ফিরতেন; তখন দেখা যেত অদ্ভুত দৃশ্য। মাত্র কয়েক মাইলের পথ যেতে লেগে যেতে কয়েক দিন। লাগবে না-ই বা কেন? সঙ্গে থাকত শত শত দেহরক্ষী ও অনুসারী। পাশাপাশি ব্যানার, বিশ্রাম নেয়ার জায়গা, খাবার ও ঘুমানোর জন্য জায়গা থাকত পথে। সে এক ধুন্ধুমার কাণ্ড।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মসজিদ বাড়ানোর দরকার হলে খলিফা হাকিম বাইজেন্টাইন থেকে দক্ষ কারিগর আনেন। আফ্রিকা ও ভারত থেকে নেয়া হয় কাঠ। শহরের পানি সরবরাহের জন্যও নেয়া হয় ব্যবস্থা। স্থাপন করা হয় হাম্মামখানা, হাসপাতাল, মসজিদ। কেবল সরকারি নিয়ন্ত্রণে না; পেছনে কাজ করেছেন অভিজাত ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানও। খলিফা ও অভিজাতদের নিজস্ব স্যালুন, গ্রন্থাগার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। শহরের ইহুদি ও খ্রিস্টান নাগরিকরা সিনাগগ ও চার্চ তৈরি করেছে নিজেদের মতো করে। জাহরার বাজারে ছিল অজস্র বিলাসপণ্যে ভরা। উৎপাদিত ও বিলাসপণ্যের দিক থেকে আন্দালুসের ভর কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
খিলাফতের জন্য বরাদ্দ অর্থের এক-তৃতীয়াংশই গেছে জাহরা নগরীর পেছনে। ভবন তৈরি ও সংস্কারের পেছনে লেগেছে হাজারো শ্রমিক। সব ধরনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করতে হতো জাহরা নগরীতেই। সাধারণ জনতা ও অভিজাতদের পরিধেয়, জুতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাব তৈরি করা হতো নগরীর ভেতরেই। ফলে সেখানে বসবাস করত চামড়া, তাঁত, কাঁচ ও কাষ্ঠশিল্পের সঙ্গে জড়িতারা। উৎপাদিত পণ্য আন্দালুসের অভ্যন্তরে যেমন সরবরাহ করা হতো, একইভাবে রফতানি হতো বাইরে। এমনকি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে উৎপাদিত বর্জ্যও সংগ্রহ করে সেগুলো সার হিসেবে প্রয়োগ করা হতো।
জাহরা নগরীর শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য ছিলেন সাহিব আল মদিনা বা নগররক্ষক। তার দায়িত্বে থাকত একটা পুলিশের দল। তারা কেবল ফৌজদারি অপরাধের বিষয় তদারকি করতেন, এমন না। বাজারের দাম পর্যবেক্ষণ ও মানুষের নৈতিক বিষয়ও দেখাশোনা করত। ভিক্ষুক, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হতো। কোনো জায়গা নোংরা করা ছিল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কর্মস্থলে ময়লা ফেলা ও দূষিত করাও নিষেধ। ধোঁয়া থেকে সুরক্ষার জন্য চিমনির ব্যবহার শুরু করা হয়েছিল। এজন্যই জাহরা নগরীকে সমকালীন ঐতিহাসিকরা ভাগ্যান্বেষীর জন্য শ্রেষ্ঠ গন্তব্য বলে মনে করতেন। ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম তীরে জাহরা ছিল মানুষের কল্পনায় নির্মিত স্বর্গ।
আহমেদ দীন রুমি: সহসম্পাদক, বণিক বার্তা








