পৃথিবীতে নানা সময় ক্ষমতাসীন কিংবা বিজেতা দলের আক্রোশের শিকার হয়েছে গ্রন্থাগার। কোনো জনপদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ থামাতে গ্রন্থাগার ধ্বংস করার মতো কার্যকর পন্থা আর হয় না। এছাড়া নির্দিষ্ট কোনো বইয়ের প্রতি বিদ্বেষ থেকে সেই বই ধ্বংস করা হতো। এখনো যে হয় না তাও জোর দিয়ে বলার অবসর কোথায়? আর লাইব্রেরি ধ্বংস করার সহজ ও বহুল ব্যবহূত পদ্ধতি হল পুড়িয়ে দেয়া। নািস বাহিনীর বই পোড়ানো কিংবা আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরি ধ্বংস করার কথা আমরা জানি, কিন্তু কখনো কখনো না চাইতেও একটি লাইব্রেরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে দৈবক্রমে লাগা আগুনে এবং তা হতে পারে হার্ভার্ডের মতো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কখনো রাজরোষে পড়েনি, কিন্তু প্রায় ৪০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন গঠন নানা কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ১৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের একটি নিজস্ব গ্রন্থাগার গড়ে ওঠে, যেখানে নানা রকম বইপুস্তক ছিল। প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ লাইব্রেরি পুরনো কলেজ বিল্ডিংয়ে ছিল এবং এরপর প্রথম হার্ভার্ড হলে স্থানান্তরিত হয়। ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের এক শীতের রাতে এখানেই একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং লাইব্রেরির প্রায় সব বই পুড়ে যায়। যদিও হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্তা নেয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।
উল্লিখিত অগ্নিকাণ্ডের ২৬ বছর আগেই লাইব্রেরিকে আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়। ১৭৩১ খ্রিস্টাব্দে লাইব্রেরির তত্কালীন লাইব্রেরিয়ান থমাস মার্চ একটি ভোটের আয়োজন করেন, যেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে লাইব্রেরির জন্য হাতলযুক্ত অনেকগুলো কাঠের বাক্স তৈরি করা হবে, যেন প্রয়োজনে খুব দ্রুত সেই বাক্সে করে বইগুলো সরিয়ে নেয়া যায়। কালের হিসাবে পদ্ধতিটি বেশ কার্যকর ছিল এবং বুদ্ধির পরিচয় দেয়। কেননা আগুনের ক্ষেত্রে খুব দ্রুত বই সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব কমানো সম্ভব। মূলত এর কিছুকাল আগে ঘটে যাওয়া একটি অগ্নিকাণ্ড থেকে থমাস মার্চ বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়েছিলেন। ১৭৩১ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের অ্যাশবার্নহ্যামে একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। চিমনি থেকে এ আগুনের সূত্রপাত এবং এ আগুনে রবার্ট কটনের পাণ্ডুলিপির এক-চতুর্থাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
হার্ভার্ড লাইব্রেরিতে আগুন লেগেছিল ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি। এ সময় শীতকালীন ছুটি চলছিল এবং
বোস্টনে হওয়া স্মলপক্সের প্রাদুর্ভাব এড়াতে ম্যাসাচুসেটসের সাধারণ সভা হার্ভার্ড হলে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফায়ারপ্লেসের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। লাইব্রেরি থেকে শুরু হয়ে প্রায় পুরো দালানই পুড়ে যায় এবং কাছাকাছি থাকা কিছু ডরমিটরিও এ আগুন থেকে রক্ষা পায়নি। আগুন নেভানোর কাজও সহজ ছিল না। কেননা সে রাতে শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে তুষারপাত হয়েছিল। পরদিন হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড হোলিয়োক জানান, ‘গত রাতে হার্ভার্ড কলেজ স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রচণ্ড ঝড় ও তুষারপাতের রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা ঘুম থেকে জাগি এবং দেখি সবচেয়ে পুরনো হার্ভার্ড হল অগ্নিকাণ্ডের শিকার। সেখানে থাকা নানা বইসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ছুটি থাকার কারণে বেশির ভাগ ছাত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল না। কেবল ম্যাসাচুসেটস হলে কিছু ছাত্র ছিল, যা আবার হার্ভার্ড হল থেকে অনেক দূরে অবিস্থত।’
অবস্থা এমন হয়েছিল যে সে রাতে কোথাও থেকে কোনো সাহায্য আসার উপায় ছিল না। এর মধ্যেই এডওয়ার্ড হোলিয়োক সাহায্যের জন্য ছুটেছেন। তার কন্যা স্বামীকে এক চিঠিতে লেখেন, ‘তিনি (এডওয়ার্ড হোলিয়োক) কেবল ঘরে পরার পোশাকেই ছুটে বাইরে বেরিয়েছিলেন।’ চারদিক থেকে তখন তীব্র শীতল হাওয়া বইছিল এবং সঙ্গে তুষারপাতের কারণে বেশি দূরে যাওয়া সম্ভব ছিল না। এখানে মনে রাখতে হবে, শীতের শুষ্ক হাওয়া আগুন জ্বলার জন্য উপযোগী এবং আশপাশে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
মূলত আজকের হার্ভার্ডের সঙ্গে সেদিনের হার্ভার্ডকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। সে সময়ের ক্যাম্পাস কিংবা লাইব্রেরি কোনোটিই আজকের মতো আধুনিক ছিল না। সপ্তদশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বাড়িই কাঠের তৈরি হতো। সে সময় কেমব্রিজে কিছু নিয়মকানুন তৈরি হয়েছিল। কোনো বাড়ির চিমনি কাঠের তৈরি হতে পারবে না, বাড়ির ছাদ শ্লেট কিংবা বোর্ডের হবে, কখনই খড়ের নয়। পাশাপাশি শিশুরা যেন মশাল বা অন্য কোনো মাধ্যমে আগুন নিয়ে না ঘোরে, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়। ঘনবসতি এলাকায় এভাবেই আগুনসংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রতিরোধের চিন্তা করা হয়েছিল। অন্যদিকে আমরা যদি খেয়াল করি, যেকোনো লাইব্রেরিতেই প্রচুর পরিমাণে দাহ্য বস্তু থাকে। বই, নানা ধরনের পাণ্ডুলিপি যা কাগজের তৈরি, চেয়ার-টেবিল ইত্যাদি সবই দাহ্য। আর শীতের দেশের লাইব্রেরিতে ফায়ারপ্লেস থাকত। এছাড়া বিদ্যুৎ আবিষ্কার হওয়ার আগে আলোর উৎস হিসেবে ব্যবহূত মোমবাতি অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর সহায়ক। তার ওপর সে সময়ের হার্ভার্ডের ছাদ ছিল ভঙ্গুর, দেয়ালে ফুটো।
পুড়ে যাওয়া লাইব্রেরির অনেক বইই নষ্ট হয়েছিল। বেঁচে গিয়েছিল কেবল সেসব বই, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইস্যু করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষতি কী করে পোষানো হবে, এ নিয়ে সবাই চিন্তিত ছিলেন। লাইব্রেরি মূলত তৈরি হয়েছিল দানের মাধ্যমে এবং এর পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও ফের অনুদান সংগ্রহের পথেই যেতে হয়। অ্যালামনাই ও শুভাকাঙ্ক্ষী মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন লাইব্রেরি পুনর্গঠনে সাহায্য করেছিলেন। এদের মধ্যে জন হ্যানকক, বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ও লিঙ্কন্স ইনের থমাস হ্যালিসের নাম উল্লেখ্য। লাইব্রেরি পুড়ে যাওয়া নিয়ে ‘দ্য ম্যাসাচুসেটস গেজেট’-এ দুটি কবিতাও প্রকাশিত হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে সরকারি সহায়তায় নতুন করে হার্ভার্ড হল তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে হার্ভার্ডকে ‘ওয়াটার ইঞ্জিন’ দেয়া হয়েছিল। স্যামুয়েল এলিয়ট মরিসন বলেছেন, হার্ভার্ডের ছাত্ররা যন্ত্রটি ব্যবহার করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে কেমব্রিজের দমকল কর্মীদেরও এখানে আনা হয়েছিল। এরই সঙ্গে লাইব্রেরি সম্পর্কিত নিয়মকানুন পরিবর্তিত হয়। এ দ্বিতীয় হার্ভার্ড হলে ছাত্রাবাস রাখা হয়নি। কেননা সেখানে অবশ্যই ফায়ারপ্লেস প্রয়োজন হবে এবং মোমবাতি বা অন্য কোনো উপায়ে আগুন জ্বালিয়ে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। এবার স্থাপনাটির দেয়াল তৈরিতে ইট, পাথর ও শ্লেট ব্যবহার করা হয়। কোনো রকম দাহ্য বস্তু, মোমবাতি নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও সেখানে একটি ফায়ারপ্লেস ছিল, কিন্তু একজন কর্মী সর্বদা এর তদারকে নিয়োজিত হন।
পরবর্তী সময়ে শহর ও এর রক্ষণাবেক্ষণে নানা রকম পরিবর্তন আসে। যেমন জোশুয়া কুয়েন্সি (১৭৭২-১৮৬৪) বোস্টনের মেয়র হলে তিনি বোস্টনের নগর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনেন। সেখানে দমকল কর্মীদেরও নতুন করে সাজানো হয়। বলা যায়, এই প্রথম তাদের হোসপাইপের সাহায্যে আগুনে পানি নিক্ষেপের সুবিধা করে দেয়া হয়েছিল। তিনি যখন হার্ভার্ডের দায়িত্বে আসেন, সেখানেও এ রকম নানা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিতীয় হার্ভার্ড হল থেকে লাইব্রেরি সরিয়ে নেয়া। এ সময় তিনি হার্ভার্ড হলের দুর্বল অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে হার্ভার্ভ হল থেকে এ লাইব্রেরি গোর হলে স্থানান্তরিত হয়।
এখানেই যে শেষ হয়েছিল এমন নয়। এর পরও নানা সময়ে ছোটবড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের মতো অবস্থা আর কখনো হয়নি। মূলত এখান থেকে হার্ভার্ডের পাশাপাশি আশপাশের সব অঞ্চলের জন্যই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যদিও এ সময় অনেক ক্ষতি হয়, কিন্তু বলা যায়, এর ফলেই সে সময়ের কলেজের লাইব্রেরির অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। সেদিনের পুরনো হার্ভার্ড লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গোর হলে তৈরি হওয়া লাইব্রেরির কিছু অংশ এখনো আছে, কিন্তু আজকের হার্ভার্ডে একটি নয়, অনেক লাইব্রেরি। নতুন নতুন অনুষদ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব গ্রন্থাগারের প্রয়োজন দেখা দেয় এবং বর্তমানে এখানে ৭৩টি গ্রন্থাগার রয়েছে।
কিন্তু ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের সেই অগ্নিকাণ্ড থেকে যে বইগুলো বেঁচে গিয়েছিল সেগুলোর কী হলো?
অনেক বইই ছাত্র ও শিক্ষকদের কাছে জমা ছিল এবং সেগুলো তারা ফিরিয়ে দিয়েছেন। পরে আরো কিছু বই এসেছে, যদিও সেসব পুরনো লাইব্রেরির বই কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে একটি বই ছিল যা সরাসরি জন হার্ভার্ডের সংগ্রহের অংশ বলে জানা যায়।
জন হার্ভার্ডকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হলেও মূলত তিনি ছিলেন এর প্রথম প্রধান সাহায্যকারী। ক্যাথরিন রজার্স ও রবার্ট হার্ভার্ডের পুত্র জন হার্ভার্ডের জন্ম ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে। ১৬২৫ খ্রিস্টাব্দের প্লেগে জনের বাবা ও কয়েকজন ভাইবোন মারা যান। পরে তিনি কেমব্রিজের ইমানুয়েল কলেজ থেকে ১৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে স্নাতকোত্তর হন। ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিয়ে করেন এবং একই বছর তার মা ও ভাইয়ের মৃত্যু হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। নতুন আবাসের সন্ধানে চার্লসটাউনে পৌঁছলে তিনি শহরমন্ত্রী হন এবং কিছুদিনের মধ্যেই যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন।
সে সময় একটি নতুন কলেজের কাজ চলছিল। মৃত্যু-পরবর্তী সময়ে তার ইচ্ছা অনুসারে তার সম্পদের অর্ধেক সম্পদ নতুন এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অর্ধেক সম্পদের সঙ্গে তিনি আরো যা দান করেছিলেন তা ছিল তার সংগ্রহের প্রায় ৪০০ বই, যা বেশির ভাগ ইংল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা। এর মধ্যে বেশির ভাগই ধর্মতত্ত্ববিষয়ক। এছাড়া ব্যাকরণ, অভিধান ও কিছু ক্ল্যাসিক ছিল। যদিও ১৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু এর নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে এবং নির্মাণ শেষে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে জন হার্ভার্ডের নামে একে ‘হার্ভার্ড কলেজ’ নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের আগুনে অন্যান্য অনেক বইয়ের সঙ্গে জন হার্ভার্ডের নিজের সংগ্রহের এ বইগুলোও পুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে সেখান থেকে একটি বই উদ্ধার হয়েছিল।
ঐতিহাসিক কারণেই জন হার্ভার্ডের দান করা এ বই সম্পর্কে নানা সময়ে গবেষকদের আগ্রহ হয়েছে। তারা দেয়া ৪০০ কপি বইয়ের কী হলো না হলো তা জানার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল ১৭৬৪-এর সেই অগ্নিকাণ্ড। কেননা সেখানেই বেশির ভাগ বই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রচলিত ধারণা অনুসারে বলা হয়, জন হার্ভার্ডের সংগ্রহের একটি বই পরবর্তী সময়ে পাওয়া গিয়েছিল এবং সেটি জন ডোনেমের লেখা ঞযব ঈযত্রংঃরধহ ডধত্ভধত্ব অমধরহংঃ ঃযব উবারষ ডড়ত্ষফ ধহফ ঋষবংয, বইটি ১৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।
বইটিতে পরবর্তী সময়ের একজন লাইব্রেরিয়ান মূল মলাটের পর শুরুর কাগজে লিখেছিলেন, ‘লাইব্রেরির এ বইটি নিঃসন্দেহে জন হার্ভার্ডের দেয়া।’ ইতিহাস এখানে কিছুটা ঝাপসা, তবে ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দে তৈরি করা একটি তালিকা অনুসারে জন হার্ভার্ডের দেয়া ৩২৯টি আলাদা বইয়ের মোট ৪০০ কপির মধ্যে ডোনেমের এ বইটির উল্লেখ দেখা যায়। সেখান থেকে মেনে নেয়া যায় যে ওই নামের বইটি জনের সংগ্রহে ছিল, কিন্তু এ কপিটিই যে সেই কপি তার প্রমাণ কী?
জন হার্ভার্ড তার বইয়ে কখনো নিজের নাম লেখেননি। হিউটন লাইব্রেরির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পিটার আকার্ডো বলেন, ‘এ নাম না লেখার বিষয়টিই মানুষকে সবসময় সন্দেহে ফেলেছে।’ এ কথা বলে তিনি আরো যোগ করেন, ‘বইটির ভেতরে বেশকিছু প্রমাণ রয়েছে। মলাটের নিচে ছোট করে ৩.২.৮ লেখাটিই একটি বড় প্রমাণ।’ আকার্ডোর মতে, এটি ক্যাটলগ করার পুরনো রীতি, যেখানে বোঝানো হয়েছে এটি ৩ নম্বর বুককেস, ২ নং তাক এবং এটি ৮ নম্বর কপি। ক্যাটালগ করার এ রীতিই প্রমাণ করে বইটি কলেজের লাইব্রেরিতে একদম শুরুর দিক থেকেই ছিল।
প্রথম প্রথম জন হার্ভার্ডের সংগ্রহের বেঁচে যাওয়া এ বইটি ছিল কৌতূহলের বস্তু, কিন্তু পরে আর ততটা ছিল না। কেননা পিটার বলেন, ‘এখন সবাইই কমবেশি জানেন যে জন হার্ভার্ডের লাইব্রেরি থেকে বেঁচে যাওয়া এটিই একমাত্র বই নয়।’
তা না হলেও বইটি এখনো কৌতূহলোদ্দীপক। যদিও ঈযত্রংঃরধহ ডধত্ভধত্ব বইটি এখন আর কোনো গবেষক ব্যবহার করেন না বা কোনো বাস্তব উপযোগিতা নেই, কিন্তু এখনো বইটি জন হার্ভার্ডের স্মৃতি বহন করে। ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে বিদায় নেয়া ব্যক্তির দেয়া আরো বেশকিছু বইয়ের সঙ্গে এ বইটিও সংরক্ষিত হয়েছে এবং একসঙ্গে বইগুলো জন হার্ভার্ডের পাশাপাশি একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
মাহমুদুর রহমান: লেখক





