প্রকৃত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পড়াশোনা ও শিক্ষকতার সূত্রে জড়িত, এমন নোবেল বিজয়ীর সংখ্যা ৭২। কিন্তু প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক এক্সিলেন্স, গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা, গ্লোবাল র্যাংকিং, নোবেল পুরস্কার—এ ধরনের তুলনামূলক আলোচনায় আগ্রহী হবে না।

পাশ্চাত্যের যে অক্সফোর্ড আটলান্টিকের ওপারে দৃষ্টি মেলে আঁতকে ওঠে—অক্সফোর্ডের চেয়ে ৩৪০ বছর পরে স্থাপিত হওয়া হার্ভার্ড নামের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নোবেল পুরস্কারের হিসাব দিয়ে তাদের অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। হার্ভার্ডের আছে নোবেল বিজয়ী ১৬১ জন, অক্সফোর্ডের দ্বিগুণেও বেশি।

হার্ভার্ড মাথা বেশি উঁচিয়ে রাখে তাদের লাইব্রেরি দেখিয়ে। হার্ভার্ডের লাইব্রেরিগুলোর মোট বইয়ের সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। আধুনিক প্রযুক্তি হার্ভার্ডের কার্ডধারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে দিয়েছে ভার্চুয়াল প্রবেশাধিকার। হার্ভার্ড ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ায় ডিপ-ফ্রায়েড সিঙাড়া-সমুচা-আলুর চপ পাওয়া যায় না। সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বিক্রি হয়। বিভিন্ন ধরনের এবং মৌসুমি ফল বছর ধরেই থাকে। চলতি সপ্তাহে (এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ) হার্ভার্ডের একটি প্রধান ক্যাফেটেরিয়ার মেনু থেকে উল্লেখ করছি—ব্ল্যাক বিন স্যুপ, সেদ্ধ সবুজ মটর, সেদ্ধ আলু, সবজি, মেক্সিকান ভাত, বিন-চিলি এবং বিফ চিলি, সালাদ, ফল ইত্যাদি। অক্সফোর্ড কিংবা হার্ভার্ডের ভাইস চ্যান্সেলর কিংবা প্রেসিডেন্টরা কোনো দলের অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বকে তার নিজ পদের চেয়ে বড় করে দেখেন না।

হার্ভার্ড আইভি লিগের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়। আইভি লিগ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের আটটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন। মূলত আটটি প্রতিষ্ঠানের স্পোর্টস ফেডারেশন হিসেবে সৃষ্টি হলেও এখন এর মানে মূলত শ্রেষ্ঠ আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলনেই ধরা হয়। এরা শিক্ষার্থী ভর্তিতে অত্যন্ত কঠোর নিয়মকানুন অনুসরণ করে। সামাজিকভাবে তাদের এলিট মর্যাদা নিশ্চিত এবং একাডেমিক এক্সিলেন্স সবকিছুকে ছাপিয়ে। আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটিতে ভর্তি হয়ে স্নাতক করে বেরোতে পারলে বছরে ৬০ হাজার ডলারের একটি চাকরি নিশ্চিত—এটা মুখে মুখে রটে আছে। এটাও সত্য আইভি লিগ স্কুলগুলো এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বানিয়েছে। আইভি লিগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে:

১. রোডস আইল্যান্ডের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি

২. নিউইয়র্ক সিটির কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি

৩. নিউইয়র্ক ইথাকায় কর্নেল ইউনিভার্সিটি

৪. নিউ হ্যাম্পশায়ারের হ্যানোভারে ডার্ট মাউথ কলেজ

৫. পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়াতে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া

৬. নিউ জার্সির প্রিন্সটনে ইউনিভার্সিটি অব প্রিন্সটন

৭. কানেক্টিকাটের নিউ হ্যাভেনে ইয়েল ইউনিভার্সিটি

৮. ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

আইভি লিগের শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে প্রশংসা বাক্য শোনা গেলেও এটাও শুনতে হয় খানদানি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তারা ‘স্নব’ ও ‘গণবিছিন্ন’।

হার্ভার্ডের সাহিত্যিকরা

হার্ভার্ডের ১৬১ নোবেল পুরস্কার জয়ীর কথা বলেই রচনাটির শুরু। ১৬১ জনের বিভাগটি দেয়া যেতে পারে—পদার্থবিজ্ঞানে ৩২ জন, রসায়নে ৩৮, চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৪৩, অর্থনীতিতে ৩৩, শান্তিতে আট ও সাহিত্যে আটজন।

সবচেয়ে কম সাহিত্যেই: রুডলফ ইউকেন (১০৯৮), টিএস এলিয়ট (১৯৪৮), বার্ট্রান্ড রাসেল (১৯৫০), ডেরেক ওয়ালকট (১৯৯২), সিমাস হিনি (১৯৯৫), জেএম কোয়েটজি (২০০৩), মারিও বার্গাস ইয়োসা (২০১০)।

কেবল সাহিত্যেরই আরো কজনের নাম উল্লেখ করছি, যারা পুলিত্জার পুরস্কার পেয়েছেন কিংবা পুলিত্জার যুগের আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা পুরস্কার না পেয়েও নাম প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন : হেনরি অ্যাডামস, হেনরি ডেভিড থরো, মার্গারেট অ্যাটউড, ররার্ট ব্লাই, ই ই কামিংস, গাই ডেভেনপোর্ট, রালফ ওয়াল্ডো এমারসন, অলিভার ওয়েন্ডেল হোমস, হেলেন কেলার, জেমস রাসেল, লাওয়েল, নরমান মেইলার, হাওয়ার্ড নেমেরভ, আদ্রিয়ান রিচ, জর্জ সান্তায়না, এরিখ সেগাল, সুজান সনটাগ, জন অ্যাপডাইক, রিচার্ড উইলবার, জন অ্যাশবেরি, সিদ্ধার্থ মুখার্জি প্রমুখ।

হার্ভার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি জোটেনি এমন তালিকায় কবি সাহিত্যিকদের মধ্যে রয়েছেন রবার্ট ফ্রস্ট, রবার্ট লাওয়েল, অডেন ন্যাশ, ইউজিন ও’নিল, ওয়ালেস স্টিভেন্স প্রমুখ। এদের মধ্যে রবার্ট ফ্রস্ট পেয়েছেন সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পুলিত্জার পুরস্কার (চারবার), ইউজিন ও’নিল পেয়েছেন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার।

নোবেল জয়ী ইউলিয়াম ফকনারের দুটি উপন্যাস ‘দ্য সাউন্স অ্যান্ড দ্য ফিউরি’ এবং ‘অ্যাবসালম অ্যাবসালম’ হার্ভার্ডের জীবনভিত্তিক উপন্যাস।


শুরুর ইতিহাস

১৬৩৬ সালে ঈশ্বরভক্ত বিদ্যোৎসাহী জন হার্ভার্ড তার সম্পত্তির অর্ধেক (৭৭৯ পাউন্ড মূল্যমান) একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেন। তার অর্থ এবং দান করা ৩০০ পাউন্ড দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কেমব্রিজের নিউ কলেজ। সে সময় একটি ধর্মীয় লক্ষ্যও ছিল; এখানে প্রশিক্ষিত হবে নব্য কমনওয়েলথের ধর্মযাজকরা। ১৬৬৮ সালে এ বিদ্যাপীঠে একটি ছাপাখানা স্থাপন করা হয় আর এটিই ছিল উত্তর আমেরিকার প্রথম ছাপাখানা। ১৬৩৯ সালে কলেজের নাম বদলে রাখা হলো হার্ভার্ড কলেজ। জন হার্ভার্ড কলেজকে তার সংগ্রহের ৪০০ বইও দান করেন।

হার্ভার্ডের দখলাধীন জমির পরিমাণ ৫০০০ একর। ১৮৩৬ এরপর বিষয়ভিত্তিক ভবন তৈরি হতে থাকে। ১৭৮২ চিকিৎসাবিজ্ঞান পাঠ শুরু হয়। ১৮১৬ ধর্ম-ডিভাইনিটি, ১৯১৭ আইন, ১৮৬৭ ডেন্টাল মেডিসিন, ১৮৭২ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স, ১৯০৮ বিজনেস স্কুল চালু হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে আরো বিভাগ খোলা হতে থাকে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে খোলা হয় প্রকৌশল ও ফলিতবিজ্ঞান স্কুল। হার্ভার্ডের সুনামই বিশ্ববিদ্যালটিকে এনে দিয়েছে যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাপনের জন্য পৃথিবীতে সর্বাধিক এনডাউমেন্ট ফান্ড, এখন তা ৪১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থের আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা হিসেবে।

বস্টনের লংউড মেডিকেল এরিয়াতে হার্ভার্ড প্রতিষ্ঠা করেছে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেডিকেল কলেজ এবং চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রাপ্ত ৪২টি নোবেল পুরস্কারই এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার সাক্ষ্য দেয়।

শুরুতে হার্ভার্ডের যাজকরা কোনো বিশেষ খ্রিস্টধর্মীয় গোত্রের সঙ্গে সম্মলিতভাবে সংযুক্ত হলেও ইউনিটারিয়ান চার্চই তাদের অধিকতর পছন্দের গন্তব্য হয়ে ওঠে। সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পিউরিটানিজমের শাসনই ছিল হার্ভার্ডে। ১৭০৮ সালে উদারপন্থী, জন লেভারেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হলেন, তিনিই প্রথম অযাজক প্রেসিডেন্ট। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদর্শন পাল্টে দিলেন। পিউরিটানিজম থেকে মুক্তজ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার ধারণায় সামনে আনলেন। ১৯ শতকে ধর্মীয় গোঁড়ামি অপসৃত হলো। যুক্তির ও স্বাধীন ইচ্ছের নতুন যুগ শুরু হলো হার্ভার্ডে এবং তার প্রভাব পড়তে শুরু করল আমেরিকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

বিংশ শতকে আমেরিকা এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করে হার্ভার্ড। ফলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অন্যতম একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মিলনমেলায় পরিণত হয় হার্ভার্ড।

প্রথম মহাযুদ্ধ, ফ্যাসিবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে বর্ণবাদও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ইহুদি ছাত্র ভর্তি সীমিতকরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও নবাগত কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য ফ্রেশম্যান ডরমিটরিতে আবাসন নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে বর্ণবাদী প্রথাগুলো অপসৃত হতে শুরু করে।

১৮৭৯ সলে প্রতিষ্ঠিত হার্ভার্ড কলেজের সমতুল্য কেবল নারীদের জন্য র্যাডক্লিফ কলেজ আমেরিকার শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় নারীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। ২০০৭ সালে হার্ভাডের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হলেন হার্ভাডের র্যাডক্লিফ ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের ডিন ড্র গিলপিন ফাউস্ট। ২০১৮ সালে তার কাছ থেকে দায়িত্ব নেন লরেন্স ব্যাকাউ।

অলস্টন ক্যাম্পাসে চার্লস নদীর এক পাশে অবস্থিত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর কালে এতটাই প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছিল যে সেখানকার অধ্যাপকদের বিভিন্ন মন্তব্যেই শেযারবাজার ওঠানামা করত। হার্ভার্ড ল স্কুল, স্কুল অব পাবলিক হেলথ, জন পলসন স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্স পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।

বিভিন্ন সূচকের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিং করা হয়। কিছু ভ্যারিয়েবল থাকে বলে র্যাংকিংয়ের ওঠানামা হয়। আমেরিকান এবং বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ২০২০ সালে হার্ভার্ডের অবস্থান দেখানো হলো—

জাতীয় র্যাংকিং:

একাডেমিক র্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি-প্রথম

ফোর্বস-প্রথম

টাইমস হায়ার এডুকেশন/ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-প্রথম

ওয়াশিংটন মান্থলি-দ্বিতীয়

ইউএসনিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট-দ্বিতীয়

আন্তর্জাতিক:

একাডেমিক র্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিস- প্রথম

ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট-প্রথম

কিউএস-তৃতীয়

টাইমস হায়ার এডুকেশন-তৃতীয়

১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা দলিলে স্বাক্ষরকারীদের আটজন ছিলেন হার্ভার্ডের সাবেক ছাত্র। তারা হচ্ছেন জন হ্যানকক, রবার্ট ট্রি পেইন, এলব্রিজ জেরি, উইলিয়াম হুপার, উইলিয়াম উইলিয়ামস, জন অ্যাডামস, স্যামুয়েল অ্যাডমস ও উইলিয়াম এলেরি।

এটা জানাও প্রাসঙ্গিক যে হার্ভার্ড এ পর্যন্ত আটজনকে হোয়াইট হাউজে পাঠিয়েছে: জন অ্যাডামস, জন কুইন্স অ্যাডামস, থিওডোর রুজভেল্ট, ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট, জন এফ কেনেডি, জর্জ ডব্লিউ বুশ, রাদার ফোর্ড হায়েস ও বারাক ওবামা।

‘অল হোয়াইট’ এবং ‘হোয়াইট সুপ্রিম্যাসিস্ট’ মনোভাব আমেরিকার সিভিল ওয়ারের সময়ই ভাঙতে শুরু করে, হার্ভার্ডের অনেক শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইয়ের ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ আন্দোলনে সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ছিল।

২০১৯-এর শুরুতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের জাতিগত পরিচয় এর সাক্ষ্য দেবে: মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ক্লাসের এবং ৩৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট ও পেশাগত কোর্সের; এশিয়ানদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা যথাক্রমে ২১ ও ১৩ ভাগ। কৃষ্ণাঙ্গদের বেলায় ৯ ও ৫ ভাগ; স্প্যানিশ ও লাতিন ১১ ও ৭ ভাগ। দুই বা ততোধিত মিশ্রজাতির যথাক্রমে ৮ ও ৩ ভাগ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যথাক্রমে ১২ ও ৩২ ভাগ।

উচ্চশিক্ষায় ব্রাহ্মণ্যবাদ বা এলিটিজম সৃষ্টির অভিযোগ হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে রয়েছে। হার্ভার্ডের পরীক্ষা সফল শিক্ষার্থীরা যেমন সুপ্রতিষ্ঠিত, ফেল করা কিংবা ড্রপড আউট হওয়া শিক্ষার্থীরাও তাদের চেয়ে কম যান না। সে প্রমাণ তো বিল গেটস আর মার্ক জাকারবার্গই দেবেন। দুজনই হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করে ছেড়ে দিয়েছেন।

ওয়ারেন বাফেটের কথাটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়—যদি ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হয় ইউনিভার্সিটির চার-পাঁচ বছর অপচয় না করে এখনই শুরু করে দিন। আমেরিকার সামনে এখন সবচেয়ে বড় হুমকি চীন আর হার্ভার্ডকে বলা হচ্ছে চীনের ‘ডি-ফ্র্যাক্টো আউটপোস্ট’।

 

এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা