বিশ্বায়নের পালে হাওয়া লাগার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাচ্যের দেশগুলোয় একে একে অভিযাত্রী হয়ে আসে ইউরোপীয় বণিকেরা। উদ্দেশ্য বাণিজ্য। তাদের অন্যতম গন্তব্য ভারতবর্ষ। প্রথমে আসে পর্তুগিজরা। তারপর ফরাসিরা আসে, আসে ওলন্দাজরা। সবশেষে আসে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তাদের বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপ ও পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রীয় রঙ্গমঞ্চ ভারতভূমি। সে প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে ইংরেজরা। বাকিরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ভারত ছাড়তে বাধ্য হয়। ইংরেজদের অব্যাহত বাণিজ্যিক অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় ব্রিটেন ও ভারতের মধ্যে শুরু হয় জাহাজ চলাচল। এসব ব্রিটিশ জাহাজে চড়ে ভারতের সম্পদ পাচার হয়ে যেত ব্রিটেনে। ব্রিটিশদের নিবন্ধিত এ জাহাজ পরিচালনায় নেতৃস্থানে থাকতেন ইংরেজরা। আর তাদের অধস্তন হিসেবে যাবতীয় শ্রমসাপেক্ষ, ক্লান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো চাপানো হতো ‘কালা আদমি’-দের কাঁধে। এশিয়ার অশ্বেতাঙ্গ জনগণদের ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গরা এ নামেই ডাকত। তবে জাহাজে কর্মরত এসব কর্মচারীর একটি আনুষ্ঠানিক নাম ছিল। তাদের বলা হতো ‘লস্কর’। নাকউঁচু শ্বেতাঙ্গরা তাদের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করত। সাধারণত ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যারা জাহাজে কাজ করত, তাদের ক্ষেত্রে লস্কর অভিধাটি ব্যবহূত হতো। চীন বা অন্য দেশের যেসব লোক ব্রিটিশ জাহাজে অধস্তন হিসেবে কাজ করত, তাদের ক্ষেত্রে এ বিশেষণ ব্যবহার করা হতো না। তবে তারাও ব্রিটিশ জাহাজ মালিক কর্তৃক লস্করদের মতো একই মনোভাব ও আচরণের শিকার হতো।
ফার্সি ও উর্দুর সংমিশ্রণে একটি শব্দ লস্কর। আভিধানিক অর্থ সৈনিক। তবে প্রায়োগিক অর্থে লস্কর বলতে বোঝায়, জাহাজে কর্মরত নিম্নস্তরের ভারতীয় শ্রমিক। মূলত ব্রিটিশ নাবিকদের সঙ্গে তাদের তফাত স্পষ্ট করার জন্য এ শব্দের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। হবসন-জবসন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান অভিধানমতে, লস্কর বলতে গোলন্দাজ বাহিনীর নিম্নস্তরের সদস্য বা নাবিকদের বোঝায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতীয় নাবিকদের স্রেফ কুলি হিসেবে দেখানোর জন্যই লস্কর শব্দটি বেছে নেয়া হয়েছিল কারণ, ফার্সিতে লস্কর বলতে বোঝাত সেনাদল বা ক্যাম্পের জন্য রসদ গাড়িতে তোলার শ্রমিক। এটি হয়ে ওঠে একটি ঘৃণাবাচক শব্দ। মালিকদের কাছে তারা ছিল অলস, নোংরা ও গরিব। এক কথায় ব্রিটিশ অভিজাত নাবিকদের ঠিক বিপরীত প্রাণীর নামই হলো লস্কর। তাদের ওপর চলত চরম স্বেচ্ছাচার।
১৬৬০ সালের ব্রিটিশ নেভিগেশন আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুসারে এশিয়া থেকে পণ্য আমদানিতে নিয়োজিত প্রতিটি ব্রিটিশ জাহাজের মাস্টার এবং অন্তত ৭৫ শতাংশ নাবিক ব্রিটিশ হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে কারণে ১৮০০ সালের আগ পর্যন্ত লস্করদের সংখ্যা ছিল নগণ্য। তারপর প্রয়োজনের খাতিরে এসব নিয়ম শিথিল হয়ে যায়। যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংকটকালে জাহাজের নাবিকদের রাজকীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। অনেক সময় ব্রিটিশ নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে চলে যেত। ফলে ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্ন থেকে লস্করদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল সহজলভ্যতা। লস্করদের খুব সস্তায় পাওয়া যেত। একজন ব্রিটিশ নাবিককে যে বেতন দিতে হতো, তার ছয় কিংবা সাত ভাগের এক ভাগ মাত্র একজন লস্করের জন্য ব্যয়িত হতো। এর পেছনে জাহাজ মালিকরা একটি যুক্তিও দাঁড় করিয়েছিল। তাদের মতে, একজন ব্রিটিশ নাবিকের সমপরিমাণ কাজ করতে তিনজন লস্করের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল তার ঠিক উল্টো। জাহাজে তাদের দাসের মতো খাটানো হতো।
পূর্ববঙ্গের চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের অনেক মানুষ লস্কর হিসেবে জাহাজে যোগ দিয়েছিল। জাহাজে লস্কর নিয়োগের সুনির্দিষ্ট একটি বিধি ছিল। প্রথমত, সমুদ্রপথে ভারত থেকে লন্ডনে যেতে যে সময় লাগত, তার জন্য মাসভিত্তিক নির্দিষ্ট একটি বেতন তাদের দেয়া হবে। দ্বিতীয়ত, ফিরতি যাত্রার আগ পর্যন্ত লন্ডনে থাকা-খাওয়ার জন্য তাদের কিছু টাকা দেয়া হবে। তৃতীয়ত, তাদের পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে। এসব শর্ত মেনে নিয়ে একজন লস্করকে প্রতিজ্ঞা করতে হতো যে সে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে থেকে যাবে না। ফিরতি যাত্রা চূড়ান্ত হওয়া মাত্র দেশে ফিরে যাবে। তবে এসব বিধি ছিল কেতাবের গরুর মতো, গোয়ালে যার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। জাহাজ মালিকরা এসবের থোড়াই পরোয়া করত।
ভারত থেকে লস্করদের সংগ্রহ করার দায়িত্ব যিনি পালন করতেন, তাকে বলা হতো সারেং। সারেংরাও ছিল ভারতীয়। জাহাজে এবং উপকূলে লস্করদের নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল সারেংদের ঘাড়ে। সারেং ও লস্করদের মাঝে ভারতীয় কর্মীদের আরেকটি পদবির নাম জানা যায়। মধ্যবর্তী এ শ্রেণীর পরিচয় ছিল ‘টেন্ডল’। লস্কর নিয়োগের ক্ষেত্রে সারেংরা ব্যাপক স্বজনপ্রীতির পরিচয় দেয়। আরো একটি দুর্নাম শোনা যায় তাদের নামে। চাকরি দেয়ার বিনিময়ে লস্করদের কাছ থেকে তারা ঘুস নিত। লস্করদের বেতন নিয়েও তারা কারসাজি করত। বিভিন্ন বাহানায় তারা লস্করদের প্রাপ্য বেতন থেকে বঞ্চিত করত। এ কারণে লস্করদের সঙ্গে সারেংদের সম্পর্ক কখনো মধুর ছিল না। তাদের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকত। জাহাজের চাকরিতে কষ্ট ছিল। তবে বৈচিত্র্যও ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল অ্যাডভেঞ্চারের নেশা। জাহাজফেরত লস্করদের নানা অভিজ্ঞতার গল্প রক্তে নাচন তুলত তরুণ তুর্কিদের। অনেকের মনে অন্য রকম অভিসন্ধিও ছিল। একবার যদি ইংল্যান্ডে যাওয়া যায়, তাহলে যেভাবেই হোক, সেখানেই থিতু হয়ে যাবে। অনেক লস্কর তাই লন্ডনে তাদের জন্য নির্ধারিত ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যেত। এটা সত্যি যে এসব ক্যাম্পে মানবিক কোনো পরিবেশ ছিল না। অনেকটা গবাদিপশুর মতো করে তাদের সেখানে রাখা হতো। খাওয়া-দাওয়ার অবস্থাও তথৈবচ। আগেই বলেছি, চুক্তিতে তাদের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার কথা যেটাই বলা হোক না কেন, ব্রিটিশ মালিকরা সেসবকে পাত্তা দিত না। ফলে শারীরিক ও মানসিক উত্পীড়নের শিকার হয়ে অনেক লস্কর ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যেত। তবে সবাই যে এ কারণেই ক্যাম্প ছাড়ত তা নয়। পালিয়ে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলে বসতি স্থাপন করা ছিল অনেকের উদ্দেশ্য। সারেং এবং জাহাজ মালিকদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে কিছু লস্কর লন্ডন, ভ্যাঙ্কুভার কিংবা নিউইয়র্কের কাছাকাছি এসে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দিত। সাধারণত শক্তিধর যুবকরাই এমন দুঃসাহসী কাজ করত। তাদের মধ্যে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে কিছুকাল অজ্ঞাতবাসে থেকে অর্থকড়ি জমিয়ে দেশে ফিরে আসত। হাতে গোনা কয়েকজন সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যেত। ১৮৯৭ থেকে ১৯০২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আইন কঠোর করা হয়। তখন লস্কররা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ হারায়। বিকল্প হিসেবে তারা কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করত। এ সময় কিছু লস্কর কানাডায় বসতি স্থাপন করে। কানাডায় বাঙালি সম্প্রদায়ের তারাই পথিকৃৎ। এসব আকর্ষণের কাছে নস্যি হয়ে যেত শারীরিক কষ্ট। এ রকম নানা কারণে ঔপনিবেশিক আমলে জাহাজের চাকরি বেশ লোভনীয় হয়ে ওঠে। সে সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে সারেংরা লস্করদের কাছ থেকে নগদ কিছু অর্থ হাতিয়ে নিত।
জাহাজে লস্কররা বিভিন্ন ধরনের কাজ করত। ডেক, ইঞ্জিন রুম, খাবার কক্ষ, কেবিন ইত্যাদি পরিচর্যার দায়িত্ব ছিল তাদের। রং করা, ঘষামাজা, ধৌত করা, নোঙর ফেলা ও টেনে তোলা ইত্যাদি কাজে তারা নিয়োজিত ছিল। ইঞ্জিন রুমে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রায় তাদের কাজ করতে হতো। গনগনে ফার্নেসে নিত্য কয়লার জোগান দিতে হতো তাদের। এটি ছিল জাহাজের মূল চালিকাশক্তি। এর পাশাপাশি তারা দৈনন্দিন রান্নাবান্না, ব্রিটিশ অফিসারদের ফুট ফরমায়েশের আঞ্জামও দিত। তারা কুলির কাজও করত। এ কারণে অনেক ঐতিহাসিক লস্কর শব্দটিকে কুলির একটি প্রতিশব্দ হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন।
ব্রিটিশ জাহাজে লস্করের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা, হল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে ইত্যাদি বিভিন্ন দেশের জাহাজেও কিছুসংখ্যক লস্কর কাজ করত। ব্রিটিশ জাহাজে লস্করদের অব্যাহত সরবরাহের কারণেই তারা প্রতিযোগিতায় অন্যদের থেকে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ ছিল না।
দ্য পেনিনসুলা অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি (পি অ্যান্ড ও) ছিল বৃহত্তম লস্কর নিয়োগকারী সংস্থা। ব্রিটিশ বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ছিল এ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে। এলডার ডেম্পস্টার ও ক্ল্যান লাইনের মতো বিভিন্ন কোম্পানির জাহাজেও তারা কাজ করত। এসব শিপিং কোম্পানি নিয়মিতভাবে লস্করদের নিয়োগ দিত। তাদের সস্তায় পাওয়া যেত এটিই একমাত্র কারণ নয়। তারা আবিষ্কার করেছিল, লস্কররা ব্রিটিশ নাবিকদের তুলনায় অধিকতর দক্ষ ও ভালো। যদিও অর্থনৈতিক কারণে তারা তা কখনো স্বীকার করত না।
লন্ডনে জাহাজ থেকে নামার পর থেকে পুনরায় ভারতে ফিরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লস্কররা চরম দুরবস্থার মধ্যে দিনাতিপাত করত। লস্কররা সাধারণত লন্ডনের ইস্ট এন্ড এলাকার ওয়েপিং ও শেডওয়েলের বস্তিগুলোয় থাকত। তারা ছিল অশিক্ষিত। ইংরেজদের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিতি নেই। স্থানীয় ইংরেজদের দ্বারা তারা সহজেই প্রতারিত হতো। তারা লস্করদের টাকাপয়সা এবং জামাকাপড় ছিনিয়ে নিত। তাদের জাল মুদ্রা দেয়ার মাধ্যমে ঠকানো হতো। পতিতা ও খল চরিত্রের কিছু নারী তাদের লুট করার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। এসব কারণে অনেক লস্কর সর্বস্ব হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে অবস্থিত সেন্ট গাইলসের সরাইখানাগুলোয় ভিক্ষুক হিসেবে উপস্থিত হতো। এশীয় লস্করদের এ দুর্দশা দূর করার জন্য ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিছু উদ্যোগ নেয়। লন্ডনে থাকাবস্থায় লস্করদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তারা জাহাজ মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। লস্করদের অধিকার আদায় ও তা সংরক্ষণের জন্য ব্রিটেনে বেশকিছু সংগঠনও তৈরি হয়। তারা দুস্থ ও অসহায় এশীয় নাবিকদের জন্য তহবিল সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে এসব তহবিলের অর্থ ব্যয়িত হতো। লস্করদের সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করার জন্য ব্রিটেনে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা লস্করদের ব্যারাকগুলো পরিদর্শন করে মানবেতর চিত্র দেখতে পান। ছোট একটি চত্বরে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ জন লস্কর গাদাগাদি করে আছে। রুমগুলো অপরিষ্কার। সেখানে বিছানাও নেই, আসবাব তো দূরের কথা। কোনো ফায়ারপ্লেস নেই। লস্করদের প্রত্যেককে কেবল একটি কম্বল দেয়া হতো। অসুস্থদের জন্য পৃথক কোনো কক্ষ কিংবা হাসপাতালের ব্যবস্থা ছিল না। পরিদর্শকরা কয়েকজন অসুস্থ লস্করকে খোলা জায়গায় কেবল একটি কম্বল গায়ে দিয়ে মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখেন। তাদের খাবারের ক্ষেত্রেও চরম অনিয়মের চিত্র উঠে আসে পরিদর্শক কমিটির প্রতিবেদনে। তারা লস্করদের জন্য আবাসনের যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুসারে ব্রিটেনের ভারতবিষয়ক কমিশনার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডিরেক্টরকে লস্করদের থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এসব পদক্ষেপের কারণে লস্করদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো হতে থাকে। সে সময় থেকেই ইংল্যান্ডের নাগরিক ও সংস্কৃতির সঙ্গে ভারতীয় লস্করদের কিছু কিছু যোগাযোগ ঘটতে থাকে, যা পরবর্তী সময়ে সেখানে বসতি গড়তে তাদের সাহায্য করে। কালক্রমে লিভারপুল, সাউদাম্পটন, গ্লাসগোসহ ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরীগুলোয় গড়ে ওঠে লস্কর সম্প্রদায়। তাদের মধ্যে অনেকেই ইউরোপীয় নারীদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।
ব্রিটিশ জাহাজে কাজ করার মাধ্যমে ভারতীয় লস্কররা পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সংস্পর্শে তারা আসে। অন্যান্য লস্কর, অশ্বেতাঙ্গ নাবিক, নিয়োগকারী, মিশনারি, ট্রেড ইউনিয়ন, নারীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ইউরোপে দক্ষিণ এশীয় খাবার ও সংস্কৃতি লস্করদের মাধ্যমেই প্রবেশ করে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অধীনে অনেক লস্কর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করে।
নিজাম আশ শামস: লেখক ও অনুবাদক





