পুরনো তথ্যই নতুন করে প্রমাণ করে যে, স্কটল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা তার স্কটিশ ভৃত্য জন ব্রাউনকে তিনি গোপনে বিয়ে করেন এবং জন ব্রাউনের ঔরসে তিনি এক থেকে (মতান্তরে) তিনটি সন্তানও জন্ম দেন। এই সন্তানদের গোপনে আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাদের অনেকেই পরবর্তীতে প্যারিসে স্থায়ী হয়েছিল।

দিনে দিনে ৭৮ বছর বয়সী রানী ভিক্টোরিয়া অশ্রান্তভাবে হীরকজয়ন্তীর বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রানী নিজেই ভাবছিলেন আর কোনো ব্রিটিশ রাজা বা রানীর সিংহাসনে আরোহণের ৬০ বছর পূর্তি উৎসব পালন করার সৌভাগ্য হবে কিনা?

১৮৯৭ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার হীরকজয়ন্তী ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের একটি জাজ্বল্যমান দেশাত্মবোধক মাইলফলক। উচ্চতায় পাঁচ ফুটেরও কম রানী ভিক্টোরিয়া বিশাল মূর্তির আকার ধারণ করে রাজ্যকে বিস্তৃত করেছেন ৪০০ বর্গকিলোমিটার আর তার প্রজার সংখ্যা ছিল ৩৮৭ মিলিয়ন।

এই বয়সে তো অবশ্যই, বরং রানী যখন হীরকজয়ন্তী উদযাপন করছিলেন, তারও আগে থেকে প্রাকৃতিকভাবেই নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষা কমতে থাকে কিন্তু রানী ভিক্টোরিয়ার ছিল উল্টোটি। অবশ্য মেডিকেল সায়েন্সের মতেও রজনিঃসরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কালে কারো কারো তীব্র যৌনাকাঙ্ক্ষা হতে পারে। বোধহয় রানী ভিক্টোরিয়ার ক্ষেত্রে তা-ই হয়েছিল। রানী ভিক্টোরিয়া তার শাসনামলে লেসবিয়ানিজমকে কখনো অনুমতি দেননি বরং তিনি বলেন, ‘আমি অপছন্দ করার পাশাপাশি এটিও মনে করি যে, শারীরিকভাবে এটি একটি অসম্ভব বিষয়।’

রানীর লেসবিয়ানিজমে আপত্তি থাকলেও তার স্বামী অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর তিনি বেশ কয়েকটি পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন বলে ইংল্যান্ডের অনেক পুরনো ও বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় পত্রিকা ডেইলি মেইল ইউকে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারির এক সংখ্যায় প্রকাশ করে।

পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয় যে, ‘অসময়ে স্বামী অ্যালবার্টের মৃত্যুর পর রানী যৌনতাড়নার সঙ্গী হিসেবে পান স্কটল্যান্ডের পার্বত্য অঞ্চলের বন্য, উত্তেজিত ও প্রচুর পরিমাণে পান করতে অভ্যস্ত, সুঠাম দেহের অধিকারী জন ব্রাউনকে। রিপোর্টে আরো বলা হয় যে, রানী গোপনে তাকে বিয়েও করেন এবং তার ঔরসে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন, যাকে পরবর্তীতে গোপনে আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়া হয়।

পত্রিকায় ৮২ বছর বয়সী ঐতিহাসিক লর্ড জন জুলিয়াস নরউইচের (দ্বিতীয় ভিসকাউন্ট) একটি বক্তব্যকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লর্ড নরউইচ তার বক্তব্যে বলেছিলেন: ‘ঐতিহাসিক ও গবেষক ও স্যার স্টিভেন রুন্সিম্যানের সঙ্গে একদিন আলোচনায় তিনি তার গবেষণার কাজে উইন্ডসর প্রাসাদে রাজকীয় আর্কাইভ ঘাঁটাঘাঁটি করার সময় হঠাৎ করেই পেয়ে যান রানী ভিক্টোরিয়া ও জন ব্রাউনের বিয়ের সার্টিফিকেট।’ রুন্সিম্যান ছিলেন একজন ক্রুসেডার্স ও বাইজেন্টিয়ান ঐতিহাসিক ও বিশেষজ্ঞ। রুন্সিম্যানের ভাষ্যমতে, তিনি সার্টিফিকেটটি রানীমাতা প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া অব স্যাক্স-কোবার্গ-সালফিল্ডকে দেখিয়েছিলেন।

রানীমাতাকে দেখানোর আগে বিয়ের সার্টিফিকেটের একটি নকল কেন তিনি রাখেননি, এটা ভেবে খুব আফসোস করেন রুন্সিম্যান। কারণ রানীমাতাকে দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে তার সামনেই সার্টিফিকেটটি পুড়িয়ে ফেলেন তিনি। রানীমাতা ওই বিষয় নিয়ে কোনো কথা হোক কিংবা রাজকীয় পরিবারের ওপর কোনো কলঙ্ক পড়ুক, তা চাননি।

জন ব্রাউন আদর্শ স্বামীর মতোই রানীকে ঘোড়ায় চড়তে সহায়তা করতেন। সাম্প্রতিককালে বিবিসি প্রোগ্রামের এ এন উইলসন তার প্রোগ্রামে বলেন, তারা বিবাহিত ছিলেন কিন্তু তারা তাদের সম্পর্কের কথা কোনো দিনই প্রকাশ করেননি।

রুন্সিম্যান আরো বলেন, রানীমাতা জন ব্রাউনের সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার বিয়ে ও তার নাতনির বিষয়টি অবগত ছিলেন। রুন্সিম্যান আরো উল্লেখ করেন যে, ইতালির বিশিষ্ট চিত্রকর ও ডিজাইনার প্রিন্স হেনরি অব হেসের সঙ্গে নিউইয়র্কে যুদ্ধ-পরবর্তী তার এক চিত্রপ্রদর্শনীতে আসা এক বৃদ্ধার সঙ্গে কথা হয়, বৃদ্ধা এক নারীর চিত্র দেখে বলেন, ‘আমার মনে হয় চিত্রের মেয়েটি ও আমি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আমার নাম জেন ব্রাউন, মাতা ভিক্টোরিয়া।’

বৃদ্ধা আরো বলেন যে, সম্ভবত তাকে খুব অল্প বয়সে জাহাজে করে আমেরিকায় আনা হয়েছে এবং এখানে ৮০ বছরেরও বেশি সময় তাকে এই সত্য আড়াল করে থাকতে হয়েছে।

লর্ড নরউইচ জানান যে, ‘এ সত্যটি জানার জন্য তিনি অনেক গবেষণা করেছেন কিন্তু দ্বিতীয় কেউ এ বিষয়ে আর কিছু বলেনি, জানাতে পারেনি। আর ওই বৃদ্ধার গল্প অনেক পুরনো। সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।’

রানীর বিয়ে ও সন্তান জন্মদানের এই কল্পকাহিনী প্রায় প্রাগৈতিহাসিক। আমেরিকার রিপাবলিকান ও রাজতন্ত্রবিরোধীরা বলেন, অ্যালবার্ট মারা যাওয়ার পর রানী ভিক্টোরিয়া একটি নয়, তিন-তিনটি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।

রানীর এক কথিত পুত্র ব্রাউন ৯০ বছর বয়সে প্যারিসে মারা যান। যাকে রুন্সিম্যান অপদার্থ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আর আরেক কন্যা, যার নাম ছিল লুইসি ব্রাউন, তিনিও প্যারিসে বসবাস করতেন। জন স্টুয়ার্ট নামে কাটস অ্যান্ড কোং (পৃথিবীর ৭ম পুরনো ব্যাংক) কোম্পানিতে কর্মরত এক ব্যাংকার জানান: লুইসির হিসাবে রাজকোষ থেকে তিন মাস পর পর ২৫০ পাউন্ড করে পাঠানো হতো।

স্টুয়ার্ট আরো উল্লেখ করেন, যে অ্যাকাউন্ট থেকে এ টাকা প্যারিসের ব্যাংকে জমা হতো, তার নাম ছিল ‘His Royal Highness Prince Albert Edward, Prince of Wales.’ উল্লেখ্য, এডওয়ার্ড রানী ভিক্টোরিয়ার বড় পুত্র। জন স্টুয়ার্ট আরো যোগ করেন, ‘আমি মনে করেছিলাম যে টাকার প্রাপক সম্ভবত এডওয়ার্ডের বিবাহপূর্ব কোনো কন্যা।’

কিন্তু মূল বিষয় যা-ই হোক না কেন, ১৯১০ সালে এডওয়ার্ড মারা যাওয়ার সময়ও এই টাকা আজীবন সেই মেয়ের নামে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে যান, যাতে করে রাজপরিবার তথা তার মায়ের স্ক্যান্ডাল আর বেশিদূর না গড়ায়

ওদিকে এডওয়ার্ড নিজেও মদ ও নারী নিয়ে বেশি মত্ত থাকতেন। তিনি মৃত্যুর আগে তার ও তার স্ত্রী আলেকজেন্দ্রার সব কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে যান এবং সে নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নও করা হয়। কিন্তু তিনি অন্তত একটি নথি রাজকীয় আর্কাইভে রেখে গেলে তার মায়ের আসল চরিত্র বেরিয়ে আসত যে, তিনি একজন মদ্যপ ছিলেন এবং তার মা একজন ভৃত্যকে বিয়ে করেছিলেন এবং তার ঔরসজাত সন্তানও ছিল।

খুব সম্ভবত শরীরে হরমোনাল অসামঞ্জস্যের কারণে ভিক্টোরিয়ার শারীরিক মিলনের চাহিদা ছিল অত্যধিক ও ভিন্ন ভিন্ন পুরুষের বিভিন্ন স্বাদ নেয়ার ম্যানিয়াও ছিল। ১৮ বছর বয়সেই তিনি প্রিন্স অ্যালবার্ট অব সাক্সি-কোবার্গকে বিয়ে করেন।

ভিক্টোরিয়ার যৌনজীবনটা তার চাহিদামাফিক হয়নি বলা যায়। কারণ গুঞ্জন ছিল রানী ভিক্টোরিয়ার স্বামী অ্যালবার্টের মধ্যেও সমকামিতার প্রবণতা ছিল। তাই নারীর প্রতি তার প্রবল আগ্রহ কখনই তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়নি। নারীদের সঙ্গে যৌনমিলন সম্পর্কে অ্যালবার্টের মন্তব্য ছিল, ‘এই প্রজাতিকে আমার কাছে জঘন্য মনে হয়।’

গোড়ায় মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়েই ভিক্টোরিয়া তাকে বিয়ের জন্য পাগল হয়ে উঠেছিলেন। কথিত আছে, বিয়ের রাতে অ্যালবার্ট রানীর সঙ্গে শারীরিক মিলনে তেমন আগ্রহ দেখাননি।

১৮৫৭ সালে অ্যালবার্ট ও রানী ভিক্টোরিয়ার সর্বশেষ কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিসের জন্মের পর রানীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক স্যার জেমস রিড রানীকে সাবধান করে দেন যে, তিনি যদি আরেকবার গর্ভধারণ করেন, তবে তার জন্য তাকে কঠিন মাশুল দিতে হতে পারে। রিডের এ কথা শুনে ৩৮ বছর বয়সী রানী হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি অ্যালবার্টের সঙ্গে যৌনজীবন স্বর্গীয় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি রিডের এই সতর্কতা বার্তার জবাবে হতাশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন: ‘কী বলছেন! তাহলে আমার যৌনজীবন শেষ হয়ে গেল?’

এর মাত্র চার বছর পরেই ভিক্টোরিয়ার স্বামী অ্যালবার্ট টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রানীর বয়স তখন ৪২ বছর। মধ্যবয়স্ক রানী তখন একটু মুটিয়ে গেলেও তার শারীরিক চাহিদা বেড়ে গেছে অনেক গুণে। রানী যখন স্বামীর শোকে কাতর ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত, তখন তিনি দৈনন্দিন বাইরের কার্যক্রম যেমন— ঘোড়ায় চড়া, শিকারে যাওয়া ইত্যাদি বলতে গেলে প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় স্কটল্যান্ড থেকে তার জন্য একজন গিল্লি বা ভৃত্য আনা হয়, যার কাজ ছিল— তাকে ঘোড়ায় চড়ানো, শিকার ও মাছ ধরার মতো কাজে সহায়তা করা।

ভৃত্য ব্রাউনকে যে কারণেই হোক, রানী ভিক্টোরিয়ার অপছন্দ হয়নি। ব্রাউনকে বালমোরাল প্রাসাদে থাকার জায়গা দেয়া হয় এবং রানীর প্রাত্যহিক বাহ্যিক কাজকর্ম সম্পাদন করার জন্য প্রতিদিনই ব্রাউনকে রানীর কাছে হাজির হতে হতো। ব্রাউন রানীকে ঘোড়ায় চড়তে কিংবা মাছ ধরতে সহায়তা শুরু করলে রানী দ্রুতই উত্সাহের সঙ্গে সাড়া দিতে শুরু করেন। জন ব্রাউন কাজের অছিলায় রানীর সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরায় লিপ্ত হতেন, যা দেখে তার কোর্টইয়ারগনও অনেক সময় অবাক হয়ে যেত। কারণ তারা রানীর সঙ্গে এ ধরনের রসিকতা করার কথা চিন্তাও করতে পারত না। ফলে রানীর মেয়েরা অল্প সময়ের মধ্যেই জন ব্রাউনকে মায়ের প্রেমিক হিসেবে মেনে নেয়।

সন্ধ্যা হলেই জন ব্রাউন রানীকে বিয়ার পান করতে প্ররোচিত করতেন। রানী কখনো স্বেচ্ছায়, কখনোবা অনুরোধের ঢেঁকি গিলে বিয়ার পানের অনুষ্ঠানে যোগ দিতেন। এর পর রানী নিজেই জন ব্রাউনকে তার প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেন। এতে মানসিকভাবে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান রানীর বিদেশ সচিব আর্ল অব ডার্বি, তিনি বর্ণনা করেন যে, ‘তারা প্রায়ই পাশাপাশি কামরায় ঘুমাতেন, যেটা প্রাসাদের ভদ্রতা-বিবর্জিত ছিল।’

স্কটিশ স্যোসালিস্ট রিপাবলিকান পার্টির আলেকজেন্ডার রবার্টসন সর্বপ্রথম রানীর প্রেমিক জন ব্রাউন সম্পর্কে প্রকাশ্যে কথা বলেন। রানীর সঙ্গে জন ব্রাউনের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে আরো মুখ খুলেন লিবারেল দলের রাজনীতিবিদ লুইস হারকোর্ট, তিনিই ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে জন ব্রাউনের বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘মৃত্যুশয্যায় রেভারেন্ড নরম্যান ম্যাকলিউড স্বীকার করেন যে, ভিক্টোরিয়া ও ব্রাউনের বিয়ে পড়ানোর জন্য তিনি অনুতপ্ত।’

আলেকজেন্ডার রবার্টসনের আরেক বিবৃতি থেকে জানা যায় যে, রানী জন ব্রাউনকে চিঠিতে ডার্লিং বলে অভিহিত করতেন এবং আরেকবার এক চিঠিতে তিনি পর্বতারোহণের জন্য জন ব্রাউনকে চিঠি লেখেন, এ চিঠিতে রানী ব্রাউনকে হোকমাগান্ডি বলে সম্বোধন করেন, ‘Hochmagandy’ একটি পুরনো স্কটিশ শব্দ, যার অর্থ যৌন মিলন। জন ব্রাউনকে প্রলুব্ধ করার জন্যই তিনি ওই শব্দটি ব্যবহার করেন— রবার্টসনের দাবি। তবে ঐতিহাসিকরা রবার্টসনের এ দাবিকে খুব বেশি আমলে নিতে রাজি নন, কারণ যে সময়ের ঘটনা তিনি উল্লেখ করেছেন, তখন ব্রাউন একজন কিশোর মাত্র।

জন ব্রাউন যখন ভিক্টোরিয়ার জীবনে আসে তখন রানীর বয়স ৪৬ বছর। সে আমলে এ বয়সে গর্ভধারণ করা অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিল এবং এ বয়সে গর্ভধারণ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে— তা ইংল্যান্ডের রাজপরিবার তো বটেই, সাধারণ শিক্ষিত নারীরাও জানতেন।

রানীর মৃত্যুর পর তার দেহের পোস্টমর্টেম করা হয় এবং সেখানে দেখা যায়, তার হার্নিয়া ছিল, পেটের চামড়া কুঁচকে গিয়েছিল এবং একই সঙ্গে জরায়ুর প্রলাপস বা জরায়ু বের হয়ে যাওয়ার মতো অসুখ ছিল। অস্বাভাবিক আসনে অতিরিক্ত যৌন মিলনই জরায়ু রোগের প্রধান কারণ নয়, অনেক সময় অধিক সন্তান জন্ম দেয়ার কারণেও জরায়ুর প্রলাপস হতে পারে।

রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য রিপাবলিকানরা রানী ভিক্টোরিয়াকে একসময় মিসেস ব্রাউন বলেও অভিহিত করেছেন, আর তিনি ভারতবর্ষসহ পুরো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানী হলে তাকে সম্রাজ্ঞী ব্রাউন বলা শুরু করেন।

১৮৫৩ সালে জন ব্রাউনের মৃত্যুর পর পর ৫৬ বছর বয়সী রানী ইরাইসিপালিশ নামে এক ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হন এবং তখনো যৌন মিলনের তাড়না তার তীব্রতরই ছিল। এর পরই জন ব্রাউনের জায়গায় ১৮৮৭ সালে, ভারত থেকে ২৪ বছর বয়সী সুদর্শন, সুপুরুষ আবদুল করিমকে তার একান্ত ভৃত্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। 

আবদুল করিমকে তিনি অর্থ, জায়গা ও ক্ষমতা সবই দিয়েছিলেন। সামান্য চাকর থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি রানীর হিন্দুস্তানি শিক্ষক এবং পরবর্তীতে রানীর ভারত-বিষয়ক সচিব পদে উন্নীত হয়েছিলেন। আবদুল করিমের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রানীর প্রাসাদেই অসন্তোষ ছিল। ফলে তার মৃত্যুর পর পরই পুত্র এডওয়ার্ড করিমকে দ্রুত ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেন।  

৮১ বছর বয়সে ১৯০১ সালে রানীর মৃত্যু হলে তাকে তার মৃত স্বামী অ্যালবার্টের গাউন পরিয়ে কবর দেয়া হয়। রানীর ইচ্ছাতেই তার কবরে আরো দেয়া হয় জন ব্রাউনের একগুচ্ছ চুল আর বেশকিছু চিঠিপত্র, যা অ্যালবার্ট ও ব্রাউনকে বিভিন্ন সময় লিখেছিলেন তিনি এবং তার মায়ের দেয়া একটি আংটি।