দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলো। ‘আফকন’ থেকে ১০টি দল অংশ নিয়ে ৯টিই পেয়েছে নকআউটের টিকিট। আফ্রিকার তুলনায় বেশ পিছিয়ে রয়েছে এশিয়ার দলগুলো। এএফসি থেকে ৯ দল অংশ নিলেও নকআউটে যেতে পেরেছে দুটি—জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া এএফসির অধীনে খেললেও তারা এশিয়ার দেশ নয়। কাজেই এশিয়ার প্রতিনিধি বলতে টিকে আছে শুধুই জাপান, যারা আজ রাত ১১টায় পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে। হিউস্টনে শেষ বত্রিশের ম্যাচে জাপান হারলে আজই ঐতিহাসিক এ বিশ্বকাপ আসরে এশিয়ার শেষ প্রতিনিধিরও বিদায় ঘটবে!

আফ্রিকা মহাদেশ থেকে এবার রেকর্ড ১০টি দেশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। গতকাল ভোরে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে ডিআর কঙ্গো ও সকালে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে আলজেরিয়া উঠে যায় নকআউট পর্বে। এর মধ্য দিয়ে আফ্রিকার ৯টি দেশকে দেখা যাবে নকআউট পর্বে। অথচ আগের রেকর্ড ছিল মাত্র দুটি!

গ্রুপ পর্বে ১৭ দিনের লড়াই শেষে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে নকআউটের টিকিট পেয়েছে মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, ঘানা, কেপ ভার্দে, মিসর, কঙ্গো ও আলজেরিয়া। অথচ এর আগে আফ্রিকার মাত্র ছয়টি দলের আছে বিশ্বকাপের নকআউটে খেলার গৌরব। এর মধ্যে কিছু দেশ একাধিকবার নকআউটে উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০২২ সালের আসরে আফ্রিকার দুটি করে দল নকআউটে নাম লেখায়।

২০২২ সালের কাতার আসরে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়ে মরক্কো। এবারো মরক্কো বড় আশা জাগিয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। মরক্কো ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক দেশ।

২৩তম বিশ্বকাপে শক্তি প্রদর্শন করতে সমর্থ হয়েছে আফ্রিকার দলগুলো। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো অংশ নেয়া দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে ও ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো চমক দেখিয়েছে শেষ বত্রিশে নাম লিখিয়ে। কঙ্গোর সামনে কঠিন পরীক্ষা। শেষ বত্রিশে তারা খেলবে পরাশক্তি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। যদিও সেই চিন্তা মাথায় না এনে আপাতত গৌরবের মুহূর্তটি উদযাপন করতে চায় দেশটি। দলটির ফরওয়ার্ড ফিস্টন মায়েলে ম্যাচ শেষে বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের জন্য, কঙ্গোর জন্য ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। এটা আমাদের প্রথম জয় ও প্রথম নকআউট পর্ব। আজ এখানে আমার গর্ব করা উচিত, সেই সঙ্গে আমরা যা করেছি তা নিয়ে দেশের প্রতিটি জায়গায় প্রতিটি মানুষ গর্ব করছে। আমাদের অর্জনে সবাই খুশি। কঙ্গোলিজ মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত। আশা করি, আমরা আরো দূরে যাব।’

এলদর আজামাতের গোলে ম্যাচের ১০ মিনিটেই লিড নিয়েছিল উজবেকিস্তান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে ম্যাচ জিতে নেয় কঙ্গো। ইওয়ানে উইসা ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম ও যোগ করা সময়ে দলের তৃতীয় গোল করেন। এর মাঝে ৭৮ মিনিটে কঙ্গোর হয়ে গোল করেন মায়েলে।

গ্রুপ পর্বের শেষ দিন কঙ্গো ছাড়াও নকআউটে উঠেছে আলজেরিয়া। কানসাস সিটিতে ছয় গোলের থ্রিলারটি ৩-৩ গোলে ড্র হলে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া উভয়ই উঠে যায় শেষ বত্রিশে।

কঙ্গোর জয়ের নায়ক ও ম্যাচসেরা খেলোয়াড় উইসা জানালেন, দীর্ঘ পরিশ্রম আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে তার দেশ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ও ৫২ বছর পর আমরা বিশ্বকাপে এসেছি। এ গ্রুপটি নিয়ে চার বছর আগে আমরা কোয়ালিফাই হওয়ার মিশন শুরু করি। পর্তুগালের সঙ্গে ড্র ম্যাচে আপনি ড্র করলেন। এরপর হারলেন কলম্বিয়ার সঙ্গে। শেষ ম্যাচে ১০ মিনিটের মধ্যে আপনি পিছিয়ে পড়লেন ১-০-তে। কাজেই ফুটবল সহজ নয়। আমরা কেবলই ধৈর্য ধারণ করেছি এবং যখন এমন মুহূর্ত এসেছে তখন কেবলই উদযাপনের, কেননা এটা সহজ ছিল না।’

উইসা মনে করেন, এ টুর্নামেন্টের সাফল্য বলে দিচ্ছে, আফ্রিকার দলগুলোর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, যেখানে পথ দেখাচ্ছেন তরুণ খেলোয়াড়রা। উইসা বলেন, ‘এখন তো প্রতিটি আফ্রিকান দলই বড় স্বপ্ন দেখছে। গত বিশ্বকাপে মরক্কো সেমিফাইনাল খেলেছে। এবার তো আটটি দল (হবে নয়টি)। সামনে আফ্রিকান দলগুলোর ভালো সময় আসছে। যেটা দেখছি, এখন তরুণ খেলোয়াড়রা এগিয়ে আসছে। আমাদের দলের নোয়াহ সাদিকি, এনগালায়েল মুকায়ুর মতো তরুণ জ্বলে উঠেছে। কাজেই আমাদের ফেডারেশন বড় স্বপ্ন দেখতেই পারে।’