নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের আনন্দে বিভোর ভারতীয় ক্রিকেট দল। খেলোয়াড়, কর্মকর্তারা থেকে শুরু করে সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কারও রোহিত শর্মাদের জয় উদযাপন করেন নেচে গেয়ে। ভারতীয়দের উৎসবের রাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করেছে। পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, যে দায়িত্বটা মূলত আইসিসির।

অথচ এই আসরের আয়োজক পাকিস্তান। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানে খেলতে যেতে চায়নি বলেই আসরটি ‘হাইব্রিড’ মডেলে করা হয়। ভারত তাদের সব ম্যাচ খেলেছে দুবাইয়ে। এমনকি ভারত ছিল বলেই ফাইনালও লাহোর থেকে সরিয়ে দুবাইয়ে করতে বাধ্য হয় আইসিসি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের আসরে পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধিকে ফাইনাল শেষের পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে ডাকা হলো না।

ভারতের পিটিআইয়ের এক খবরে বলা হয়েছে, দুবাই ভেন্যুতে উপস্থিত ছিলেন পিসিবির সিইও এবং টুর্নামেন্টের পরিচালক সুমায়ের আহমেদ। যদিও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে উপস্থিত থাকতে পারেননি পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকার কারণে। তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।

আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র), ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট রজার বিনি ও সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভারত ও নিউজিল্যান্ড দলকে পদক ও ট্রফি এবং চ্যাম্পিয়নদের জ্যাকেট তুলে দেন। বলাবাহুল্য, এরা সবাই ভারতীয়।

AP25068615496466

পিসিবির প্রতিনিধিকে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে না ডাকায় বিষয়টি আইসিসিতে তুলবে পিসিবি। এদিকে, পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার এ ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে ‘এক্স’ পোস্টে বলেছেন, ‘ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছে, কিন্তু ফাইনাল শেষে পিসিবির কোনো প্রতিনিধিকে দেখলাম না। পাকিস্তান এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে পিসিবির কোনো প্রতিনিধি কেন থাকবে না? এটা আমার ধারণার বাইরে। এটা নিয়ে ভাবতে হবে। এটা কিন্তু বিশ্ব মঞ্চ, সেখানে থাকা উচিত ছিল। এটা দেখে খুবই খারাপ লাগছে।’

রজার বিনি ভারতীয় ক্রিকেটারদের সাদা জ্যাকেট তুলে দেন, আর জয় শাহ চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি ও পদক তুলে দেন।

এর আগে লাহোরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচ শুরুর আগে হঠাৎই ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠা কিংবা দুবাইয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচের দিন টিভি স্ক্রিণে আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানের নাম না থাকার মতো বিতর্ক তৈরি। শেষটাও হলো বিতর্ক নিয়ে।