আগামী জুন-জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসবে ছেলেদের টি-২০ বিশ্বকাপ আসর। ওই আসর শেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। সেই সিরিজে তিনটি ওয়ানডে, তিনটি টি-২০’র সঙ্গে ছিল দুটি টেস্ট ম্যাচও। তবে দুই বোর্ডের সম্মতিতে সিরিজটি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। সিরিজটি পরে কোনো এক সময় আয়োজন করবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন, ‘দুই বোর্ড অন্য কোনো সময়ে সিরিজটি খেলার বিষয়ে সম্মত হওয়ায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজটির তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।’ তবে সিরিজটি পরে কবে হবে, তা এখনই জানাতে পারছে না বিসিবি কিংবা এসিবি। যদিও গতকাল সন্ধ্যায় বণিক বার্তাকে জালাল ইউনুস বলেন, অফিসিয়াল কোনো বিবৃতি নেই।

এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যস্ত সময় কাটানোর কথা ছিল। সূচিতে টেস্ট ছিল ১২টি। কিন্তু এরই মধ্যে চারটি টেস্ট কমে গেছে। এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও দুটি টেস্ট স্থগিত হলো। ফলে চলতি বছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলবে মাত্র আটটি। আগামী মে মাসে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আর টেস্ট দুটি ২০২৫ সালের কোনো একটি সময় খেলবে বলে দুই বোর্ড সম্মত হয়েছে।

২০২৪ সালটাই ভীষণ ব্যস্ত কাটবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। জুনে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে পাকিস্তান সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পাকিস্তানে রয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর ভারত সফরে গিয়ে দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে টাইগারদের। অক্টোবরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, সেখানে দুই টেস্টের সঙ্গে আছে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি।

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে উভয় দল একটি করে ম্যাচ জিতেছে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারিয়ে চমক দেখায় আফগানরা। ওই ম্যাচে রশিদ খান ১১ উইকেট শিকার করেন। গত বছর জুনে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আফগানদের ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চট্টগ্রামের প্রতিশোধ নেয় বাংলাদেশ। ওই টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন বর্তমান দলনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। 

আফগানদের সঙ্গে টাইগারদের দ্বৈরথটা এখন জমে ওঠে বেশ। আফগানরা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দারুণ উন্নতি করায় এখন দুই দলের শক্তির খুব একটা তফাৎ নেই। যদিও এশিয়ার এ দুই ক্রিকেট জাতির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্য অপেক্ষা বাড়ছে।

দুই দল ওয়ানডে খেলেছে মোট ১৬টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ১০টি ও আফগানিস্তান ছয়টি জিতেছে। টি২০ ফরম্যাটে অবশ্য এগিয়ে আফগানরা। ১১ ম্যাচে তাদের ছয় জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় পাঁচটি। 

গত বছর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ খেলেছে আফগানিস্তান। সিলেটে টি২০ সিরিজের দুটি ম্যাচই জিতে নেয় বাংলাদেশ। যদিও চট্টগ্রামে ওয়ানডে সিরিজটা জিতে নেয় আফগানরা। বাংলাদেশ শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সমর্থ হয়। ওই জয়ের পর আরো দুটি ওয়ানডেতে আফগানিস্তানকে হারায় টাইগাররা। প্রথমবার লাহোরে এশিয়া কাপে ও পরেরটি ভারতের ধর্মশালায় বিশ্বকাপ ম্যাচে। 

এ বছর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলো সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের জন্য সুখবরও রয়েছে। এসব ম্যাচে সাকিব আল হাসানকে চায় বাংলাদেশ। সাকিবও বোর্ডকে নিশ্চিত করেছেন, এখন থেকে বাংলাদেশের হয়ে তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই নিয়মিত খেলতে চান তিনি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে মে মাসের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও এরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-পরবর্তী বাংলাদেশ দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতেও কৃতী এ অলরাউন্ডারকে পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত হয়েছে বিসিবি। 

জালাল ইউনুস সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সাকিবের সঙ্গে বোর্ডের যে কথা হয়েছে, সে অনুযায়ী বলতে পারি, ও আমাদের আসন্ন সিরিজগুলোয় তিন সংস্করণেই খেলার জন্য অ্যাভেইলেবল আছে বলে জানিয়েছে। সে সবই খেলতে চায়।’

শ্রীলংকার সঙ্গে চলতি তিন ফরম্যাটের সিরিজের স্কোয়াডে ছিলেন না সাকিব। তার অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি হারলেও ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। পরে সিলেটে প্রথম টেস্ট টাইগাররা হেরেছে শোচনীয়ভাবে। ওই সময় সাকিব ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলছিলেন। দলের প্রয়োজনে তিনি দ্বিতীয় টেস্ট খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আগ্রহ দেখানোয় দলও সাগ্রহে তাকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এখন চট্টগ্রামে খেলছেন।