বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে
পরাজিত করার পর শুধু সৌদি আরব নয়, আরবের সবগুলো দেশের জন্যই উদযাপনের বিষয় হয়ে ওঠে।
প্রথম দিনে কাতারের পরাজয়ের কারণে দিনটি বিশেষই ছিল।
অবশ্য সেটা অল্প সময়ের জন্য। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠের
ভাষা ও ধর্মে আরবি ও ইসলামের একক আধিপত্য দেখা গেলেও ধর্মীয় ভেদাভেদ প্রশ্নহীন নয়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, রাজনৈতিক কারণে বিভক্ত আরবভূমির দেশগুলোর জন্য দীর্ঘক্ষণ ঐক্যবদ্ধ
থাকা কঠিন।
মোটাদাগে এ বিভক্তির বড় দিক সাংস্কৃতিক। আর
আরবের কোনো বিভাজনই বৈচিত্র্যের পর্যায়ে থাকে না। আজকাল অবশ্য আরব বলতে বিশ্বরাজনীতির
একটি রঙ্গমঞ্চও মনে হতে পারে। একদিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, আবার অন্যদিকে ভোগ-বিলাস ও চাকচিক্যের
রমরমা আয়োজন। তা সত্ত্বেও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে যখন সারা বিশ্বকে এক করছে, সেখানে
আরব অঞ্চল বাদ পড়বে কেন!
সৌদি এক তরুণ বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন,
সৌদির বিজয়ে সবগুলো আরব দেশই আনন্দিত। কেননা শেষপর্যন্ত এটি আরব ভূখণ্ডের বিজয়।
তবে সাধারণ মানুষের ঐক্য দেশগুলোর রাজনৈতিক
ঐক্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। মাত্র দুই বছর আগেই কাতারের ওপর মিসর ও সৌদি আরব নিষেধাজ্ঞা
আরোপ করে। তবে এবার রাজনৈতিক ঐক্যেরও হাতছানি দেখা যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দুই
আরব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই কাতারে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নিয়েছেন।
এত বিভাজন ও বিদ্বেষ সত্ত্বেও কাতার বিশ্বকাপ
আরব দেশগুলোকে এক শামিয়ানার নিচে আনতে সক্ষম হয়েছে। দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন
রশিদ আল মাকতুম কাতারের এ আয়োজনকে সব আরব দেশের জন্য একটি মাইলফলক বলে ঘোষণা করেছেন।
বিশ্বকাপ আয়োজনে কাতারের সমালোচনা করেন এক
সাংবাদিক। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি ওই সাংবাদিকের কথার প্রতিবাদ করে
ওঠেন। তিনি বলেন, আমাদের মতামতের পার্থক্য রয়েছে। তবে কাতার যে সত্যিই একটি চমৎকার
আয়োজন করেছে তা স্বীকার না করে উপায় নেই।
শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনার সঙ্গে সৌদির ম্যাচের
দিন স্বয়ং কাতারের শাসক আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি গ্যালারিতে উপস্থিত হয়েছিলেন।
গায়ে জড়িয়েছিলেন সৌদির পতাকা। এ ঘটনা দেখে প্রবীণ সৌদি ক্রীড়া সাংবাদিক মাজেদ আল-তুওয়াইজরি
চোখের পানি আটকাতে পারেননি। তিনি বলেছেন, আমার ত্রিশ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে এটা সবচেয়ে
সুন্দর মুহূর্ত।
তবে আঞ্চলিক রাজনীতির বিভেদ ঘোচাতে চাইলে
আরো বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে একমত হতে হবে দেশগুলোকে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে
সৌদির অবস্থান নিয়ে এক মুহূর্তেই ঐক্য ভুলে যেতে পারে কিছু কিছু দেশ।










