সিলেট টেস্টে গতি বোলার হাসান মাহমুদের নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে অলআউট করে দিয়েছে বাংলাদেশ। এর পরও দ্বিতীয় দিনশেষে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। ৫১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলকে টানেন তাওহীদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দুজনের দৃঢ়তায় ৩ উইকেটে ৮৮ রান তুলে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। হৃদয় ২৯ ও মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থেকে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
গতকাল সকালে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। দ্বিতীয় দিন আরো ৩৬.৪ ওভার ব্যাট করে বোর্ডে ১২১ রান যোগ করতে সমর্থ হয় ক্যারিবীয়রা। ১১১ রান নিয়ে দিন শুরু করা আমির জাঙ্গু ১৩৩ রানে বোল্ড হয়ে যান হাসানের বলে। সকালে ১ ঘণ্টার মধ্যে তার বিদায়ে ব্রেক থ্রু পেয়ে যায় টাইগাররা। এরপর হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে ৯২ রানের মধ্যে অতিথি দলের বাকি ৫ উইকেট তুলে নেন।
হাসান মাহমুদ ৯০ রানে ৬ উইকেট নেন। সকালে পতন হওয়া ৬ উইকেটের ৪টিই নেন হাসান, বাকি দুটি শিকার করেন মিরাজ। এ নিয়ে টেস্টে পঞ্চমবারের মতো ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লায়নের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন মাঠে নিজের প্রথম ৫টি ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়লেন হাসান। এর আগে তিনি ৫ উইকেট নেন চেন্নাই, রাওয়ালপিন্ডি, ডারউইন ও আবুধাবিতে। গত আগস্টে ডারউইনে নেয়া ৫৫ রানে ৬ উইকেট তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার।
ঘরের মাঠে প্রথমবার টেস্টে ৫ উইকেট শিকার নিয়ে হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমি বিষয়গুলো খুব সহজভাবে দেখি। সামনে আরো বড় কিছু অর্জনের চেষ্টা করে যাব। যতদিন টেস্ট ক্রিকেট খেলব, ততদিনই চেষ্টা থাকবে আরো ভালো করার। ৫ উইকেট পাওয়া সবসময়ই বিশেষ কিছু। ভবিষ্যতেও এমন অর্জনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
হাসান ও মিরাজের নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ ওভারের মধ্যে নাঈম হাসান (৬) ও তানজিদ হাসান তামিমকে (১৬) হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৫১ রানে বিদায় নেন অধিনায়ক নাজুমল হোসেন শান্ত। এরপর ১৭.২ ওভার ব্যাট করে অবিচ্ছিন্ন থাকেন মুশফিক ও হৃদয়। ৩৭ রানের জুটিতে তারাই বড় ক্ষতি থেকে বাঁচিয়েছেন দলকে।
ওপেনার সাদমান ইসলাম ফিল্ডিং করার সময় গোঁড়ালিতে চোট পাওয়ায় তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচে তার খেলা এখন অনিশ্চিত। তিনি ব্যাটিংয়ে নামতে না পারলে তা স্বাগতিকদের আরো পিছিয়ে দেবে।
সাদমান না থাকায় ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো নাঈম হাসানকে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয়। যদিও ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মাত্র ৬ বল খেলে তিনি জেইডেন সিলসের বলে ক্যাচ দেন ব্র্যান্ডন কিংকে। নবম ওভারে গ্রিভসের বলে কভারে ক্যাচ দেন তানজিদ, ঝাঁপিয়ে পড়ে যে ক্যাচটা লুফে নেন কেভিন উইকহ্যাম। লাঞ্চের পর পরই শামার জোসেফের বলে স্ট্যাম্প উড়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর। বাংলাদেশ দলনায়ক ৬৫ বলে ১৮ রান করেন একটি চার ও ছক্কায়।
ঢাকায় প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ৩৫৬/১০ (জাঙ্গু ১৩৩, উইকহ্যাম ৬১, গ্রিভস ৫১; হাসান ৬/৯০, মিরাজ ২/৮২, তাসকিন ২/৯০)। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৮/৩ (হৃদয় ২৯*, মুশফিক ১৯*; গ্রিভস ১/১০)। —দ্বিতীয় দিন শেষে










