ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন রস টেলর। শেষ উইকেট এবাদত হোসেনকে স্পিন ঘূর্ণিতে লাথামের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান বোলার রস টেলর। এর পরই বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। কোনো রান না দিয়ে ইনিংসে নিজের তৃতীয় বলেই উইকেটের দেখা পান টেলর। বিদায়ী টেস্টের এ মুহূর্তটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে কিউই ব্যাটারের কাছে।

টেস্টে ক্যারিয়ারে নিজের ১৯৬ ইনিংসের মধ্যে সাত ইনিংসে টেলরকে বল হাতে তুলে নিতে দেখা যায়। এ সংস্করণে ক্যারিয়ারজুড়ে ১৬.৩ ওভার বোলিং করেছেন। নিয়েছেন তিনটি উইকেটও। আজ ক্রাইস্টচার্চে বল হাতে নেয়ার আগে, সর্বশেষ ২০১৩ সালের অক্টোবরে বল হাতে দেখা যায় তাকে। চট্টগ্রামে সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। এক ওভার বোলিং করে, ছিলেন উইকেটশূন্য।

ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টের এক ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে করেছেন ৩৯ বলে ২৮ রান। চারটি চারের বাউন্ডারি ছিল ইনিংসটিতে।

বিদায়ী টেস্টে সম্মান দেখিয়েছে বাংলাদেশও। গতকাল দ্বিতীয় দিন মাঠে প্রবেশের সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দুই পাশ থেকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে টেলরকে ‘গার্ড অব অনার’ দেন। যার ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন টেলর। সেখানেই লিখেছেন, ধন্যবাদ বাংলাদেশ। আজ ক্রিজে যাওয়ার সময় সত্যিকার অর্থে সম্মানজনক মুহূর্ত উপহার দেয়ার জন্য। এটা এমন কিছু, যা কখনোই ভুলবো না।

টেলর মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে হ্যাগলি ওভালে চারদিক থেকে শুরু হয় করতালি। একে একে সব দর্শক দাঁড়িয়েও যান তখন। মাঠে প্রবেশের সময় দুই সারিতে মুমিনুল-তাসকিনরা দাঁড়িয়ে পড়েন ক্রিজের পাশে এবং হাততালি দিয়ে টেলরকে স্বাগত জানান। ওই মুহূর্তে কিউই ব্যাটারের সঙ্গে হ্যান্ডশেকও করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আউট হয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময়ও একই চিত্র দেখা যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জনানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান টেলর। টেস্ট সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মোট ছয়টি ওয়ানডে খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই বিদায় জানাবেন পুরোপুরি।

ব্লাক ক্যাপসের হয়ে খেলেছেন ১১২টি টেস্ট। এই ম্যাচসহ নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট খেলার কীর্তি গড়েছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি ১১৩টি টেস্ট খেলেছেন ড্যানিয়েল ভেট্টরি। 

৩৭ বছর বয়সী টেলর ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে টেস্টে ৪৪.৬৬ গড়ে করেছেন ৭ হাজার ৬৮৩ রান। ১৯টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৩৫টি হাফসেঞ্চুরি। এখন পর্যন্ত টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই কিউইদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তার পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে খেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ ২৯০ রানের ইনিংস খেলেছেন।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথমটিতে জয় তুলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অতিথিদের ইনিংস ও ১১৭ রানে হারায় নিউজিল্যান্ড। ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো।