ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র ১৩ জন ফুটবলার গোলসংখ্যায় ডাবল ফিগার ছুঁয়েছেন (১০ কিংবা তার বেশি গোল)। এর মধ্যে পাঁচজনই জার্মানির। দুজন ব্রাজিলের—রোনালদো (১৫) ও পেলে (১২)। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পেরু, হাঙ্গেরি, ইংল্যান্ড ও পোল্যান্ডের একজন করে ফুটবলার এ কীর্তি গড়েছেন। এ তালিকার গর্বিত টমাস মুলার এখনো খেলে যাচ্ছেন।
একঝাঁক তারকা ফুটবলার এবার কাতারে নিজেদের শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন। লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লুইস সুয়ারেজ, করিম বেনজেমা, টমাস মুলার ও রবার্ট লেভানডোভস্কির মতো অনেক তারকা আছেন এ তালিকায়। কিন্তু এ তারকাদের সামনে সুযোগ এসেছে নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়া এবং বিশ্বকাপে ডাবল ফিগার স্পর্শ করার।
২২তম ফুটবল বিশ্বকাপই হবে দুই কিংবদন্তি মেসি ও রোনালদোর বিদায়ের মঞ্চ। কিন্তু ৩৭ বছর বয়সী পর্তুগিজ সুপারস্টারের সামনে হাতছানি দিচ্ছে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় ডাবল ফিগার ছোঁয়ার। তিনি এর আগে চারটি বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে করেছেন ৭ গোল। কাতার বিশ্বকাপে তিন গোল পেলে পূর্ণ হবে ১০ গোল। এতে রোনালদো টপকে যাবেন স্বদেশী ইউসেবিওর ৯ গোল। সেটি হলে বিশ্বকাপে রোনালদো হবেন পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
৩৫ বছর বয়সী মেসিও চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১১ ম্যাচে পিএসজি তারকার গোলসংখ্যা ৬। গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার (১০ গোল) পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে ডাবল ফিগার ছোঁয়ার হাতছানি মেসির সামনে। সুযোগ রয়েছে বাতিস্তুতাকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার।
লুইস সুয়ারেজ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে ৭ গোল করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী এ তারকার সুযোগ আছে উরুগুয়ের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের সর্বোচ্চ গোলদাতা অস্কার মিগুয়েজকে (৮ গোল) ছুঁতে একটি গোল প্রয়োজন সুয়ারেজের।
হ্যারি কেন ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচ খেলে ৬টি গোল করেছেন। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপও দুর্দান্ত কাটিয়েছেন। ৩ গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। কাতার বিশ্বকাপে ৪ গোল করতে পারলে ইংলিশ কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারকে (১০ গোল) ছুঁতে পারবেন তিনি। তার চেয়ে বেশি করলে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন ২৮ বছর বয়সী হ্যারি কেন।
৩২ বছর বয়সী টমাস মুলারেরও হয়তো এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। বর্তমান যেসব খেলোয়াড় খেলছেন তাদের মধ্যে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৬টি ম্যাচ খেলেছেন জার্মান তারকা। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জিতেছেন বিশ্বকাপও। জার্মান ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যাও বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি। কাতার বিশ্বকাপে মুলারের একেকটি গোল হতে পারে নিজেকে আরো ছাড়িয়ে যাওয়ার। তার সামনে সুযোগ আছে স্বদেশী কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান (১১), জার্ড
মুলার (১৪) ও মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬) রেকর্ড ভাঙার। বিশ্বকাপে ক্লোসার বেশি আর কারো গোল নেই। এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে মুলারের প্রয়োজন ৭ গোল। যদিও বিশ্বকাপের মতো আসরে কাজটি সহজ হওয়ার নয়।
বর্তমানে যারা খেলছেন তাদের কারোরই মুলারের চেয়ে বেশি গোল নেই। ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডটনেট










