সদ্যই অ্যাশেজের ওভাল টেস্ট শেষে অবসর নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পেস বোলার স্টুয়ার্ট ব্রড। ৩৭ বছর বয়সী এ পেস বোলিং অলরাউন্ডার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৬৭ টেস্ট খেলে ৬০৪ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ১২১ ওয়ানডেতে ১৭৮ উইকেট ও ৫৬ টি২০ ম্যাচে ৬৫টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ব্যাট হাতে রান করেছেন যথাক্রমে ৩৬৬২, ৫২৯ ও ১১৮। তিনি টি২০ ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় ছক্কা যেমন হজম করেছেন, তেমনি নিজেও বল হাতে গড়েছেন অবিশ্বাস্য সব কীর্তি। সংখ্যায় দেখে নেয়া যাক ব্রডের যত কীর্তি।
৬০৪ > টেস্ট ক্রিকেটে স্টুয়ার্ট ব্রডের উইকেট সংখ্যা। তিনি ইতিহাসের পঞ্চম ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে ৬০০ প্লাস উইকেট পেয়েছেন। জেমস অ্যান্ডারসন ৬৯০ উইকেট নিয়ে রয়েছেন শীর্ষে। পেস বোলারদের মধ্যে উইকেট শিকারে অ্যান্ডারসন ও ব্রড যথাক্রমে এক ও দুই নম্বরে। পেস বোলারদের মধ্যে এ দুজনই শুধু ছয়শর বেশি উইকেট শিকার করেছেন।
১৫৩ > অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৩ উইকেট শিকার করেছেন ব্রড, যা কোনো ইংলিশ বোলারের সর্বোচ্চ। টেস্টে কোনো দলের বিপক্ষে ১৫০-এর বেশি উইকেট পেয়েছেন মোট পাঁচজন বোলার, ব্রড তাদের একজন। আবার অ্যাশেজের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ব্রড। অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন (১৯৫) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা যথাক্রমে এক ও দুই নম্বরে অবস্থান করছেন।
৩৯৮ > ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩৯৮ উইকেট শিকার করেছেন ব্রড। এ ফরম্যাটে নিজেদের মাঠে উইকেট শিকারে তিনি রয়েছেন তিন নম্বরে। মুত্তিয়া মুরালিধরন শ্রীলংকায় ৪৯৩ উইকেট ও অ্যান্ডারসন ইংল্যান্ডে ৪৩৪ উইকেট শিকার করেছেন।
১০৩৯ > একত্রে ১৩৮ টেস্ট খেলে ১ হাজার ৩৯ উইকেট পেয়েছেন ব্রড ও অ্যান্ডারসন। টেস্ট ক্রিকেটে একত্রে খেলে এত বেশি উইকেট আর কোনো জুটির নেই। আর একমাত্র জুটি হিসেবে টেস্টে হাজারের বেশি উইকেট আছে অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন ও ম্যাকগ্রার। এ দুজন ১০৪ টেস্টে শিকার করেন ১ হাজার ১ উইকেট।
১০৬ > ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রডের উইকেট। একটি নির্দিষ্ট দেশে কোনো নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে একশর বেশি উইকেট আছে আর মাত্র দুজনের—অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন ইংল্যান্ডের মাঠে ১২৯ উইকেট শিকার করেন, ইংল্যান্ডের অ্যান্ডারসন ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১০৫ উইকেট শিকার করেন।
১৭ > অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড ওয়ার্নারকে টেস্টে ১৭ বার আউট করেছেন, যা এ ফরম্যাটে একজন বোলারের বিপক্ষে কোনো ব্যাটারের যুগ্মভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা ইংল্যান্ডের মাইক আথারটনকে আউট করেন ১৯ বার ও ইংল্যান্ডের অ্যালেক বেডসার ১৮ বার আউট করেন অস্ট্রেলিয়ার আর্থার মরিসকে। এর পরই ব্রড। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্টলি অ্যামব্রোস ইংল্যান্ডের আথারটনকে ১৭ বার ও একই দলের কোর্টনি ওয়ালশ সেই আথারটনকে ১৭ বার আউট করেন। উভয় ইনিংসেই ওয়ার্নারকে চারবার আউট করেন ব্রড, যা যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ।
৬ > টেস্ট ক্রিকেটে ছয়জন ব্যাটারকে ১০ কিংবা ততোধিকবার আউট করেছেন ব্রড। আর কোনো বোলারই ছয়জন ভিন্ন ব্যাটারকে ১০ বারের বেশিবার আউট করেননি। ম্যাকগ্রা, অ্যামব্রোস, কপিল দেব, ম্যালকম মার্শাল ও ওয়ালশ পাঁচজন খেলোয়াড়কে ১০ বারের বেশিবার আউট করেছেন।
১৯.৯ > পাঁচ উইকেট শিকারের সময় ব্রডের স্ট্রাইক রেট। পাঁচ উইকেট শিকারের সময় তার চেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেট আছে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার ভারনন ফিল্যান্ডারের।
৩৬৬২ > ৫০০ উইকেট শিকার করা সাত বোলারের মধ্যে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৬২ রান করেছেন ব্রড। তিন হাজারের বেশি রান ও পাঁচশর বেশি উইকেট আছে শুধু একজনের—শেন ওয়ার্ন।
৩৫৮২ > টেস্টে ৮ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রডের রান। ৮ থেকে ১১ নম্বরে যারা ব্যাটিং করেছেন তাদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০২ রান কিউই কিংবদন্তি ড্যানিয়েল ভেট্টোরির।
৬ > টেস্টে একটি দলের বিপক্ষে ১০০ উইকেট ও এক হাজার রান করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় ব্রড। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৩ উইকেট নিয়েছেন, রান করেছেন ১ হাজার ১৯।
২ > মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে নিজের খেলা শেষ বলে ছক্কা মেরেছেন ব্রড। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ককে ছক্কা মারেন। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়েন ড্যানিয়েল ১৯৮৪ সালে পোর্ট অব স্পেন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার টম হোগানকে ছক্কা মারেন শেষ বলে।










