এক সময় কথা হতো, ক্লাব ফুটবলের উজ্জ্বল লিওনেল মেসিকে জাতীয় দলে
দেখা যায় না। সম্প্রতি সেই বোল পাল্টে দিচ্ছেন ফুটবলের ক্ষুদে জাদুকর। জাতীয় দলের
মেসিকে এখন ক্লাব ফুটবলে দেখা যায় না। ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে সদ্য শেষ হওয়া
২০২১-২২ মৌসুমটা বেশ ভালো কাটেনি আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে তিনি
জিতেছেন কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার শিরোপা। কোনো শঙ্কা ছাড়াই দলকে নিয়ে গেছেন
বিশ্বকাপের মূল পর্বে। সেখানে মেসির অবদান অনবদ্য। গতকাল রোববার দিবাগত রাতে আবারো
জাতীয় দলের হয়ে জ্বলে উঠেলেন মেসি। ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়ার জালে একাই পাঁচবার বল
জড়িয়েছেন লিওনেল মেসি।
এল সাদার স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের
জার্সিতে মেসি শুধু গোল উৎসবে মাতেন। তার পাঁচ গোলে এস্তোনিয়াকে ৫-০ তে হারায়
আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাসকে পেছনে ফেলে
সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় চারে উঠে এসেছেন এলএম টেন।
১৬২ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মেসির গোলসংখ্যা এখন
৮৬। সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকার পাঁচে থাকা পুসকাস ৮৫ ম্যাচে করেছেন ৮৪ গোল। সবার
উপরে অবস্থান করছেন সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ১৮৮ ম্যাচ খেলে
তিনি করেছেন ১১৭ গোল। গতকাল সুইজারল্যান্ডকে ৪-০ তে পরাজিত করার ম্যাচে সিআরসেভেন
করেন জোড়া গোল। ১০৯ গোল করে ইরানের আলী দাইয়ি দ্বিতীয় এবং মালয়েশিয়ার মোখতার
দাহারি (৮৯) তৃতীয় স্থানে আছেন।
১৯৪১ সালে হুয়ান মারভেজ্জি আকাশি-নীল জার্সিতে করেছিলেন ৫ গোল। তার আগে ১৯২৫ সালে
ম্যানুয়েল সিওনে আর্জেন্টিনার হয়ে ৫ গোল করেছিলেন। মেসি এবার সেই কীর্তি গড়লেন।
জাতীয় দলের হয়ে প্রথমবার হলেও মেসি এর আগে ক্লাব
ফুটবলে ৫ গোল করেছিলেন। ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জার্মান ক্লাব বায়ের
লেভারকুসেন বিপক্ষে পাঁচ গোল করেন। ম্যাচটি বার্সেলোনা ৭-১ গোলে জিতেছিল।
এস্তোনিয়ার বিপক্ষে জিতে টানা ৩৩ আন্তর্জাতিক
ম্যাচ অপরাজিত থাকল আর্জেন্টিনা। সর্বোচ্চ টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডধারী ইতালি। ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড আছে ব্রাজিল ও স্পেনের। এবার সেই
রেকর্ডগুলো ভাঙার হাতছানি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের সামনে।










